OrdinaryITPostAd

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কী? কীভাবে শুরু করে মাসে লাখ টাকা ইনকাম করবেন

 

ভুমিকা

মাসে লাখ টাকা ইনকামের স্বপ্ন তো অনেকেই দেখেন, কিন্তু সঠিক গাইডলাইনের অভাবে শুরুতেই হোঁচট খান! কেমন হতো যদি কোনো দামি পেইড কোর্স ছাড়াই, শুধুমাত্র নিজের চেষ্টা আর একটি পরিপূর্ণ গাইডলাইন অনুসরণ করে আজই আপনি অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সফল যাত্রা শুরু করতে পারতেন?

 আজকে আমি আপনাদের সামনে নিয়ে আসছি নতুন বিষয় আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব কিভাবে amazon এসোসিয়েট নিয়ে কাজ করে  মাসে সর্বনিম্ন লাখ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করা যায়,  কিভাবে শুরু করব? কি কি বিষয় মাথায় রাখতে হবে? এমাজন এসোসিয়েটের জন্য কিভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন? কোন কোন নিশ নিয়ে কাজ করলে সাকসেস হওয়া যাবে? কোন কোন নিশ  নিয়ে কাজ করা ঠিক হবে না ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে ইনকাম করা যায়


How to make money online for free,Earn money online $100 a day free,How to start amazon affiliate for free,Amazon affiliate commission,
এমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং গাইডলাইন


আপনি যেহেতু আমার এই আর্টিকেল পড়তে আসছেন তার মানে আপনিও অনলাইন থেকে ইনকাম করার কথা ভাবছেন। হ্যাঁ আপনি সঠিক পথেই আছেন।  আপনি যদি এই আর্টিকেল শেষ পর্যন্ত পড়েন তাহলে খুব সহজেই ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেন এবং মাসে লাখ টাকা বা তারও বেশি ইনকাম করতে পারবেন। অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আলাদা কোন পেইড কোর্সের দরকার হবে না যদি আপনি আজকের এই আর্টিকেল ভালোভাবে পড়েন। 

আমি কি আসলেই পারবো ?

 খুব ভালো ইংরেজি পারিনা তাহলে কি আমার দ্বারা সম্ভব?

 শুরু করতে কত টাকা খরচ হতে পারে ?

ইউটিউবে তো অনেক ভিডিও দেখলাম কিন্তু একটি করে শুরু করব কোথা থেকে? 

সত্যি করে বলুন তো? আপনার মনেও  কি এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক পাক খাচ্ছে? খুব স্বাভাবিক এই প্রশ্নগুলো আমার মাথায় ঘোরাঘুরি করতো যখন আমি আমাজন থেকে ইনকামের কথা ভাবতাম। প্রথমবারের চেষ্টায় আমি ব্যর্থ হয়েছিলাম সাকসেস হয়েছি দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় । আজ একজন অভিজ্ঞ ব্লগার হিসেবে আমার সেই বছরের পর বছর এবং সফল হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। একেবারে সহজ ভাষায় জেনে নেব এমাজন এফিলিয়েট  মার্কেটিং  শুরু করার আসল টেকনিক  গুলো। 


অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আসলে কি?

অ্যামাজন এফিলিয়েট হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ ডিজিটাল প্লাটফর্ম বা দোকান যেখানে হাজার হাজার প্রোডাক্ট স্টক  করা আছে এখান থেকে যেকোন প্রোডাক্টস এর এফিলিয়েট লিংকসহ প্রোডাক্ট আপনার ওয়েবসাইটে সাজাতে হবে কেউ যদি আপনার ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রোডাক্ট পছন্দ হয় আর আপনার দেয়া লিংকে ক্লিক করে সেই প্রোডাক্ট কিনে তাহলে প্রডাক্টের  মালিক আপনাকে  কিছু কমিশন দেবে এটাই এফিলিয়েট মার্কেটিং ।

শুধু তাই না আপনার সেই লিংকে ক্লিক করে যদি কোন ক্রেতা এমাজনে গিয়ে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে কিছু কেনেন তবে অ্যামাজন আপনাকে সেই বিক্রির একটা নির্দিষ্ট অংশ কমিশন হিসেবে দেবে। চমৎকার না ব্যাপারটা? আপনি যদি মাসে ১০০ টি প্রোডাক্ট সেল করতে পারেন আর প্রতিটি প্রোডাক্টসের জন্য ৪  ডলার করে কমিশন পান তাহলে ইনকাম হবে ৪০০ ডলার মানে 50000 টাকার কাছাকাছি । আপনি যদি ভালো মানের ডিজিটাল মার্কেটার হতে পারেন তাহলে মাসে শুধু একশোটা না আরো বেশি সেল করতে পারবেন।

 তো কিভাবে এই প্রসেসগুলো সম্পূর্ণ করবেন সেই বিষয় নিয়েই আজকের আলোচনা শেষপর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন । এই কাজটি করতে হলে আপনাকে কি কি করতে হবে সেটা জেনে নেব পুরো আর্টিকেলে। 


নিশ বাছাই করবেন কিভাবে?

অ্যামাজনে তো লাখ লাখ প্রোডাক্ট আছে আপনি কি সবগুলো নিয়ে কাজ করবেন? না।  কখনোই এই কাজ করা যাবে না ওয়েবসাইটে ঢুকলে সামনে যেই প্রোডাক্ট পাইলেন সেটা নিয়ে কাজ শুরু করে দিলেন তাহলে আপনার কোন সেল আসবে না । নির্দিষ্ট একটা বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে যেমন আপনি যদি ল্যাপটপ নিয়ে  কাজ করতে চান তাহলে শুধু ল্যাপটপ নিয়েই কাজ করতে হবে। আর যদি মোবাইল নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে শুধু মোবাইল নিয়েই কাজ করতে হবে। বিভিন্ন ব্র্যান্ড বিভিন্ন মডেলের ফোন নিয়ে কাজ করতে হবে এটাকে বলে নিস সিলেকশন।  অনেকে আছে নিশ  সিলেক্ট না করেই যেই সেই প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেটিং করে, যা এফিলিয়েট মার্কেটারের জন্য বড় ধাক্কা। কোন কোন নিশ  নিয়ে কাজ করলে সফল হবেন, কিভাবে নিশ  সিলেক্ট করতে হয় সিলেকশনের সময় কোন কোন বিষয়ে মাথায় রাখতে হবে এইসব বিষয় নিয়ে ডিটেলস আলোচনা করব। 

নিশ বাছাইয়ে কোন কোন বিষয় মাথায় রাখবেন?

প্রত্যেক মানুষের ভেতরে কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে ভালোলাগা কাজ করে আপনারও হয়তো এরকম আগ্রহের বিষয় আছে যেটা নিয়ে আপনার ভেতরে অনেক বেশি আগ্রহ এমন বিষয় বেছে নেবেন।  যেমন ধরুন আপনি বিড়াল পুষতে  ভালোবাসেন তাহলে cat food  নিয়ে কাজ করতে পারেন। আবার cat food নিশটাকে ছোট করে নিতে পারেন। আপনি এমাজন ওয়েবসাইটে গিয়ে সার্স বারে cat food লিখে সার্চ দিবেন তাহলে দেখবেন এখানে আরো অনেক গুলো micro nishe সাজেস্টে দেখাবে যেমন cat food wet, cat food dry, cat food bowl, cat food dispenser ইত্যাদি। আপনি যদি এই micro nishe  নিয়ে কাজ করতে পারেন তাহলে বেশি ভালো হবে।নিশ যত ক্ষুদ্র হবে র‍্যাংক করার সম্ভাবনা তত বেড়ে যায়। সুতরাং নিশ বাছাইয়ের জন্য আপনি লিখতে পারবেন এমন বিষয় বেছে নেবেন। যেই বিষয়ে আপনার জ্ঞান নেই আগ্রহ নেই সেই বিষয় নিয়ে আপনি বেশি দিন লিখতে পারবেন না, হাঁপিয়ে উঠবেন।

সার্চ ভলিউম ভালো, প্রতিযোগিতা কম 

 আপনার আগ্রহের বিষয় তো বাছাই হয়ে গেল এবার দেখতে হবে সেটার সার্চ ভলিউম কেমন? মানুষ এটা নিয়ে কি রকম সার্চ করে।  সার্চ র্ভলিউম বেশি কিন্তু প্রতিযোগিতা কম এরকম বিষয় বেছে নেওয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ কারণ যেটার প্রতিযোগিতা বেশি এমন বিষয় নিয়ে কাজ করে ফলাফল ভালো হবে না।  এমন বিষয়কে খুঁজুন যা নিয়ে মানুষগুলো সার্চ করে কিন্তু বড় বড় ওয়েবসাইট গুলো এখনো সেটা নিয়ে খুব বেশি লেখালেখি করেনি।

প্রোডাক্টসের দাম নির্ধারন

নিশ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দামটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনি যদি কম দামি প্রোডাক্ট বেছে  নেন যেমন পাঁচ থেকে দশ ডলারের তাহলে কমিশন কম পাবেন  এতে পোষাবে না।  আবার যদি অনেক বেশি দামি যেমন 20000 থেকে 30000 ডলারের প্রোডাক্ট বাছাই করেন তাহলে মানুষ সহজে কিনে না। এমন  প্রোডাক্ট   বেছে নেবেন যেগুলোর দাম 50 থেকে 200 ডলারের মধ্যে এর বেশি বা কম দামের প্রোডাক্ট বাছাই না করাই ভালো। 

কীওয়ার্ড রিসার্চ কিভাবে করবেন?

এতক্ষণ তো আলোচনা করলাম কিভাবে নিশ বাছাই  করতে হয় সেই বিষয় নিয়ে এখন বলবো কিওয়ার্ড রিসার্চ নিয়ে যেটা ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য মোস্ট ইম্পোর্টেন্ট। বিশেষ করে ওয়েবসাইট র‍্যাঙ্ক করানোর জন্য।  কিওয়ার্ড কি? এটা নিশ্চয়ই আপনারা জানেন মানুষ google এ যেটা লিখে সার্চ করে সেটাই এক একটা কিওয়ার্ড । যেমন কেউ বেস্ট মোবাইল ২০২৬ এটা লিখে সার্চ করল এটাই একটা কিওয়ার্ড। এখন প্রশ্ন হল কিওয়ার্ড রিসার্চ এটা কি? সেটা হলো আপনার নিশ রিলেটেড শত শত কিওয়ার্ড আছে কিন্তু আপনার জন্য কোনটি পারফেক্ট কিংবা কোন কিওয়ার্ডের উপরে আপনার আর্টিকেল পাবলিশ করতে চান সেটা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। এটা খুঁজতে হলে  ক্রেতার মন পরার ম্যাজিক জানতে হয় যেমন আপনি যদি শুধু "বেস্ট ল্যাপটপ" লিখে একটা আর্টিকেল লেখেন তবে গুগলের প্রথম পাতায় আসার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। কারণ ওখানে একই কিওয়ার্ড নিয়ে রাঘব বোয়ালরা বসে আছে কিন্তু আপনি যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে লেখেন "best laptop for college student under 500 dollar"  তবে আপনার লেখাটি গুগলের ওপরে আসার সুযোগ অনেক বেড়ে যাবে।

  কিওয়ার্ডের প্রকারভেদঃ

ইনফরমেশনাল কিওয়ার্ড  যেমন how to clean a coffee maker এই কীওয়ার্ড দ্বারা মানুষ তথ্য জানতে চাচ্ছে এই ধরনের কিওয়ার্ড ইউটিউবারদের জন্য বেশ কাজে দেয়.।

কমার্শিয়াল কিওয়ার্ডঃ  যেমন best coffee maker for home এখানে মানুষ কেনার উদ্দেশ্যে রিভিউ খুঁজছে আপনার আসল ইনকাম হবে এই দ্বিতীয় ধরনের কিওয়ার্ড থেকে কারণ মানুষ যখন কোন কিছু রিভিউ খোঁজে তার মানে সে কিনতে আগ্রহী।

শুরুর দিকে কিওয়ার্ড রিসার্চ এর জন্য ahrefs, semrush, বা ubersuggest এর মতো টুলস গুলোর ফ্রী ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন এছাড়াও google planner কে কাজে লাগাতে পারেন.।

ওয়েবসাইট তৈরি করবেন কিভাবে?

অ্যামাজন এফিলিয়েট এর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ এবার প্রয়োজন একটা ডিজিটাল দোকান বা ওয়েবসাইট। যেখানে প্রোডাক্টসের যাবতীয় ইনফরমেশন থাকবে, ওয়েবসাইট ছাড়া amazon এ সফল হতে পারবেন না। ওয়েবসাইট ছাড়াও ভিডিও এডিট মার্কেটিং করেও আমাজনে অ্যাফিলিয়েট থেকে আয়করা যায়। যেমন ভিডিও এডিট করে facebook বা youtube এ প্রোডাক্টসের রিভিউ ভিডিও তৈরি করে প্রচার করা এটা হচ্ছে দ্বিতীয় অপশন। তবে এমাজনের দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ওয়েবসাইট থাকা বাধ্যতামূলক। 
কি ওয়েবসাইটের কথা শুনে ভয় পাচ্ছেন? তাহলে তো অনেক টাকার মামলা আবার কোডিং শিখতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি নানান ঝামেলা। না , ভয় পাবার কোন কারণ নেই ওয়েবসাইট বানাতে এখন আর কোন কোডিং শিখতে হয় না , অনেক বেশি টাকাও লাগবে না। ওয়েবসাইট দুইভাবেই বানানো যায়
 
১ গুগল ব্লগার দিয়ে (ফ্রি)
২ ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে

 আপনি যদি google ব্লগার দিয়ে ওয়েবসাইট বানাতে চান তাহলে শুধুমাত্র ডোমেইন খরচ হবে মাত্র ১৫শ টাকা এছাড়া আর কোন হিডেন খরচ নেই। তবে যদি নিজে ডোমেইন কিনতে না পারেন কোন থার্ড পার্টি থেকে কিনে নেন তাহলে চার্জ সহ ২০০০ টাকা নিতে পারে তবে আমি শিওর না কমও  রাখতে পারে কিন্তু বেশি লাগবে না।
আর যদি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট বানাতে চান তাহলে খরচ ৪০০০ টাকা এর মত হবে ডোমেইন হোস্টিং সহ। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় সিএমএস হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস। ওয়েবসাইটকে প্রফেশনাল ভাবে ব্যবহার করতে চাইলে সবচেয়ে ভালো কারণ এটা অনেক সুবিধা আছে যা ব্লগারে  পাবেন না।

ডোমেইন ও হোস্টিং কি? কোথা থেকে কিনবেন?

ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ডোমেইন হোস্টিং হচ্ছে প্রধান বিষয় এই দুটি ছাড়া ওয়েবসাইটের কোন অস্তিত্ব নাই।  ডোমেইন কি?  যদি আপনি একেবারে নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য সংক্ষেপে বলি হোস্টিং হচ্ছে একটা ভার্চুয়াল স্পেস বা দোকান বা স্টোর যেটা ধরা যায় না ছোঁয়া যায় না এমন কি দেখাও যায় না। আর ডোমেইন হচ্ছে সেই ভার্চুয়াল দোকান বা স্টোরে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম বা রাস্তা। যখনি হোস্টিংয়ের সাথে ডোমেন কানেক্ট করে দেবেন তখনই এই দুটোর সমন্বয়ে তৈরি হবে ওয়েবসাইট যেখানে ভার্চুয়ালি সবকিছু মজুদ রাখতে পারবেন।

কোথা থেকে কিনবেন?

আপনি যদি amazon affiliate নিয়ে সিরিয়াস ভাবে কাজ করতে চান তাহলে বাংলাদেশী কোন  হোস্টিং প্রোভাইডার এর কাছ থেকে কখনোই ডোমেইন হোস্টিং কিনবেন না। কারণ এরা শেয়ার  হোস্টিং সেল  করে যখনই আপনার সাইট ভারী হয়ে যাবে তখন বাংলাদেশী হোস্টিং ক্রাশ করবে আর কাজ করবে না, যার ফলে আপনার ভিজিটর হারিয়ে যাবে।

এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ থাকবে নেম চিপ থেকে কেনার। বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি প্রতিষ্ঠান এখান থেকে কিনে থাকে সুতরাং আপনি নিশ্চিন্তে এখান থেকে ডোমেন হোস্টিং কিনতে পারেন। নেম চিপ ছাড়াও হোস্টেঞ্জার bluehost, GoDaddy এগুলো প্রোভাইডার এর কাছ থেকেও কিনতে পারেন আবার ডোমিন হোস্টিং যে এক জায়গা থেকে কিনতে হবে তারও কোন নিয়ম নেই। এক কোম্পানির কাছ থেকে ডোমিন কিনলে অন্য কোম্পানির কাছ থেকে হোস্টিংকিনলে তাতেও কোন সমস্যা নেই।

এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য কন্টেন্ট রাইটিংয়ের গুরুত্ব


আমি সবসময় বলি কনটেন্ট হচ্ছে ওয়েবসাইটের রাজা সেটা হোক ব্লগিং সাইট বা রিভিউ সাইট অথবা এফিলিয়েট সাইট। যেকোন ওয়েবসাইট google এর কাছে নির্ভরযোগ্য করে তুলতে তথ্যবহুল এবং ইউনিক কন্টেন্টের গুরুত্ব অপরিসীম। আপনার ওয়েবসাইটে যদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে যা পাঠক চায় তাহলে গুগল দ্রুত  র‍্যাংক করাবে। আর যদি তথ্যবহুল না হয় হাবিজাবি দিয়ে ভরে রাখেন তাহলে পাঠক পড়বে না   আপনার সাইট থেকে বেরিয়ে চলে যাবে ফলে বাউন্স রেট বেড়ে যাবে গুগল আর রেংক করাবে না।

 কন্টেন্ট লেখার সময় যা মাথায় রাখবেন


বন্ধুর মত লিখুনঃ এমনভাবে আর্টিকেল লিখুন যেন মনে হয় আপনি আপনার কোন বন্ধুকে সামনে রেখে তার সাথে গল্প করছেন একটা প্রোডাক্ট কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন কোন কৃত্রিমতা রাখবেন না।

শুধু ভালো দিক নয় খারাপ দিকও বলুনঃ কোন প্রোডাক্টই ১০০% নিখুঁত নয়, কোন একটা খারাপ দিক থাকেই সুতরাং রিভিউ লেখার সময় সেটির সুবিধার পাশাপাশি ছোটখাটো অসুবিধা গুলো তুলে ধরুন এতে আপনার ওপর ক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে আর বিশ্বাস বাড়লেই সেলও বাড়বে।

সহজ ইংরেজীঃ সহজ সরল সাবলীল ভাষায় আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করবেন যাতে ছোট বাচ্চারাও সহজে বুঝতে পারে। কঠিন কঠিন শব্দ ব্যবহার করার কোন দরকার নেই, লেখার ভিতর যদি জটিলতা থাকে তাহলে পাঠক বুঝতে পারবে না, তাহলে প্রোডাক্ট না কিনে বেরিয়ে যাবে এবং অন্য কোন সাইটে গিয়ে রিভিউ দেখবে। 

এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য কেন এসইও গুরুত্ত্বপুর্ন?


একটা ওয়েবসাইটে মূল দুটি বিষয় থাকে তথ্যবহুল কন্টেন্ট আর এসইও এই দুটি ছাড়া ওয়েবসাইটের কোন অস্তিত্ব থাকে না। এই দুটি বিষয় যার আয়ত্তে পুরো ডিজিটাল মার্কেটিং তার হাতের মুঠোয়। এখন প্রশ্ন করতে পারেন এসইও কেন শিখব ?এর কাজ কি? এর সহজ উত্তর হল আপনার সাইটে ভিজিটর এনে দেবে। ধরেন আপনি একটা দোকান দিলেন এমন জায়গায় যেখানে লোকের যাতায়াত নাই তাহলে কি বিক্রি হবে? অবশ্যই না, তাহলে বিক্রি বাড়ানোর জন্য আপনাকে এমন কিছু করতে হবে যাতে লোকেরা আপনার দোকানে আগ্রহ নিয়ে যায় যেমন দর্শকদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করতে পারেন। অথবা বিনোদনের ব্যবস্থা করে রাখতে পারেন। আবার যদি দোকানে যাওয়ার রাস্তা না থাকে তাহলে রাস্তা তৈরি করে দেয়া এরকম কিছু সুবিধা করে দিতে পারলেই তবেই বেচা বিক্রি বাড়বে।

বর্তমানে বাজার ঘাটে প্রায় সব চায়ের দোকানে দেখা যায় কেরাম খেলার ব্যবস্থা আছে এই ক্যারাম খেলার ব্যবস্থা তৈরি এক ধরনের এসইও। অনেকে কেরাম খেলতে যায় আবার অনেকে খেলা দেখতে যায় উপভোগ করে। এদের প্রায় আশি পার্সেন্ট লোক চা, পান, সিগারেট খায় যা ওই দোকানে পাওয়া যায় এতে করে দোকানের বিক্রি বেশি হয়। এসইও ঠিক তেমনিভাবে আপনার সাইটে ভিজিট করার ব্যবস্থা করে দেয়। আপনার সাইটে এমন ভাবে এসইও করতে হবে যাতে ভিজিটর আগ্রহ নিয়ে আপনার সাইটে প্রবেশ করে। যখন বেশি সংখ্যক মানুষ আপনার সাইটে ভিজিট করবে প্রোডাক্ট বিক্রির পরিমাণও বাড়বে সুতরাং বেশি লাভের জন্য এসইও করতেই হবে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন বেশি মুনাফার জন্য এসইওর প্রয়োজনীয়তা কতটা বেশি। 

এসইও তিন প্রকারের হয়

অন পেজ এসইও ঃ এর কাজ হচ্ছে আপনার লেখার টাইটেল সাব হেডিং শব্দের ঘনত্ব এবং আর্টিকেলের ভেতরে সঠিক জায়গায় কিওয়ার্ড বসানো ইমেজের অলটার ট্যাগ ঠিক করা।

অফ পেজ এসইও বা ব‍্যাকলিংক ঃ এর কাজ হচ্ছে অন্যান্য ভালো সাইট থেকে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য লিঙ্ক বা রেফারেন্স জোগাড় করা যদি ভাল সাইটগুলোতে আপনার সাইটের লিংক বসিয়ে দিতে পারেন তাহলে ওই সাইটের ভিজিটর আপনার সাইটে চলে আসবে এতে আপনার সাইটে অথরিটি বাড়বে।

টেকনিক্যাল এসইওঃ  এর কাজ হচ্ছে সকল পোস্ট গুগলের কাছে ইনডিক্স করা ওয়েবসাইট স্পিড ঠিক করা, মোবাইল ফ্রেন্ডলি আছে কিনা, ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি https , schema markup, url structure এগুলো ঠিকঠাক ভাবে কাজ করানো।
ওয়য়েবসাইট র‍্যাংক করানোর  জন্য এই তিন ধরনের এসইও সমান ভাবে গুরুত্ব বহন করে।

আমাজন অ্যাসোসিয়েটে কিভাবে একাউন্ট করবেন?


উপরের সবগুলো কাজ যখন আপনি শেষ করে ফেলবেন তখন আপনার সাইটে ১৫ থেকে ২০ টি ভাল মনের আর্টিকেল পাবলিশ করবেন। যখন আপনার সাইটে ভিজিটর আস্তে থাকবে তখন আমাজন অ্যাসোসিয়েট একাউন্ট খোলার পালা। এমাজন এফিলিয়েট এপ্রুভ পাওয়ার পরে আপনার কাজ হবে প্রতিটি প্রোডাক্টসের সাথে এফিলিয়েট লিংকগুলো সেট করে দেয়া ব্যাস আপনার ইনকামের পথ শুরু।

সতর্কতাঃ  একটা বিষয় ভালো করে মাথায় রাখবেন একাউন্ট খোলার পর প্রথম 180 দিনের মধ্যে আপনাকে অন্তত তিনটি কোয়ালিফাইড সেল এনে দিতে হবে,  তা না হলে অ্যামাজন আপনার একাউন্টটি বন্ধ করে দেবে তাই সাইটে ট্রাফিক বা ভিজিটর আসার আগেই হুট করে অ্যাকাউন্ট খুলে বসবেন না আগে সাইট একটু দাড় করান তারপর আবেদন করুন। 

নিয়ম ভাঙ্গবেন না

অ্যামাজন তাদের পলিসের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর কখনো নিজের লিংকে নিজে ক্লিক করে কিনবেন না। বন্ধুদের কিনতে বলবেন না কিংবা  ফেসবুক মেসেঞ্জারে সরাসরি এফিলিয়েট লিংক শেয়ার করবেন না, ধরা পড়লে একাউন্ট আজীবনের জন্য ব্যান্ড হয়ে যাবে।

কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা


দীর্ঘদিনের এই যাত্রায় আমি যা শিখেছি তার একটা ছোট্ট নির্যাস আপনাকে দিচ্ছি। অ্যামাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কোন রাতারাতি বড়লোক হওয়ার মত বিষয় না। এখানে ফল পেতে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয় কমপক্ষে ৬ থেকে ৯ মাস।  তবে কিছু কিছু সময় এক বছরও লাগতে পারে যদি এই সময়টুকু আপনার হাতে থাকে তবে এফিলিয়েট দিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে সক্ষম হবেন ,নইলে এই সেক্টরে আসার দরকার নাই আর যদি ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে পারেন লাইফ চেঞ্জ হয়ে যাবে।

অ্যামাজনের কুকি পলিসি


অ্যামাজনের একটা দারুণ ব্যাপার হল এর কুকি পলিসি, আপনার দেয়া লিংকে ক্লিক করে কেউ যদি আপনার সাজেস্ট করা প্রোডাক্ট না কিনে 24 ঘন্টার মধ্যে অন্য প্রোডাক্ট কিনে তবুও কমিশন পাবেন ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ দারুন লাগে।



শেষ কথা 


আপনার যাত্রা শুরু হোক আজই হয়তো ভাবছেন সবই তো বুঝলাম কিন্তু কাল থেকে শুরু করব এই কাল জিনিসটা কিন্তু কখনো আসে না। যদি সত্যিই নিজের ভাগ্য বদলাতে চান তবে আজ থেকে ছোট ছোট পদক্ষেপ নেয়া শুরু করুন প্রথমেই একটা খাতা কলম নিয়ে বসুন আপনার কোন বিষয়ে আগ্রহ আছে তা নিয়ে চিন্তা করুন সিলেক্ট করুন। আমি পারলে আপনি কেন পারবেন না আপনার ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের এই পথ চলা সুন্দর ও সফল হোক কোন প্রশ্ন থাকলে বা কোথাও আটকে গেলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমি সাধ্যমত সাহায্য করার চেষ্টা করব।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url