ভুমিকাঃ
প্রতিদিন নতুন নতুন আর্টিকেল লিখছেন, কিন্তু গুগলে সার্চ করলে নিজের ওয়েবসাইটটি কোথাও খুঁজে পাচ্ছেন না? মাসের পর মাস কাজ করার পরও ভিজিটর বা ইনকাম—কোনোটাই আশানুরূপ হচ্ছে না? এই সমস্যার মূল কারণ হতে পারে আপনার কন্টেন্ট এসইও (SEO) ফ্রেন্ডলি না হওয়া। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের এই প্রতিযোগিতামূলক যুগে এসইও ছাড়া ব্লগে সফল হওয়া প্রায় অসম্ভব। কীভাবে একটি ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথম পাতায় আনতে হয় এবং এসইও শিখে কীভাবে অনলাইন থেকে নিজের ক্যারিয়ার গড়া যায়, তার একদম 'এ টু জেড' গাইডলাইন নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এই পোস্ট। চলুন শুরু করা যাক।
SEO যার ফুল নাম হলো search engine optimization অর্থাৎ কোন সার্চ ইঞ্জিনের কাছে সর্বত্তম হিসেবে তুলে ধরা। আপনার কন্টেন্ট গুলোকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ভালো প্রিয়, ও ইউনিক হিসেবে উপস্থাপন করা আর এটি অবশ্যই কিছু নিয়ম মেনেই করতে হয়। যখনই আপনি সার্চ ইঞ্জিনের পলিসি মেনে আপনার কন্টেন্ট ও ওয়েবসাইট সাজাবেন তখন সার্চ ইঞ্জিন আপনার সাইট কে প্রথম পাতায় আনতে বাধ্য হবে । সেটা হতে পারে google, বিং , বা ইয়াহু । এক্ষেত্রে কোন ওয়েবসাইটকে এক নম্বর পজিশনে রাখবে নাকি দুই নম্বর পজিশনে রাখবে তা নির্ধারণ করতে সার্চ ইঞ্জিন প্রায় 200 টিরও বেশি ফ্যাক্টরকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।
নিচে আপনার সুবিধার্থে এসইও এর যাবতীয় বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
 |
| seo-full-guide-bangla |
এসইও (SEO) কি
আমরা যখন কোন কিছু লিখে গুগলে, বিং, ইয়াহুতে সার্চ করি তখন উক্ত কিওয়ার্ড এর ওপর ভিত্তি করে অনেকগুলো ওয়েবসাইটের লিস্ট চলে আসে। কেন এভাবে লিস্ট আকারে চলে আসে কখনো কি ভেবে দেখেছেন?হ্যাঁ এটাই এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন । সার্চ ইঞ্জিন ন্যানো সেকেন্ডে তার কাছে থাকা তথ্য থেকে সামঞ্জস্য পুর্ণ বিষয় আপনার কাছে তুলে ধরে এবং ঠিক করে নেয় কোন ওয়েব সাইট নম্বর এক নম্বর লিস্টে আর কোন ওয়েবসাইটকে দুই তিন চার নম্বর লিস্টে রাখবে। যে যত নিখুঁতভাবে এসইও করতে পারবে তার ওয়েবসাইট তত উপরে দেখাবে এটা মূলত সার্চ ইঞ্জিন তার নিজস্ব টেকনিকে করে থাকে। সার্চ ইঞ্জিন দেখে আপনার সাইট কতটা নিরাপদ, কত দ্রুত কাজ করে, কন্টেন্ট কোয়ালিটি কেমন, অন্যান্য ওয়েবসাইট আপনাকে কতটা বিশ্বাস করছে ইত্যাদি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আপনার সাইটকে কততম লিস্টে রাখতে হবে তা সে নির্ধারণ করে। সুতরাং উক্ত বিষয়গুলো নিয়ম মেনে আপনার সাইটে সঠিকভাবে সেটাপ করতে পারাটাই এসইও। তবে এসইও এর ফাংশন গুলো শুধুমাত্র এই কয়েকটা বিষয়ের মধ্যেই সীমিত নয় এর পরিধি বিস্তর যা নিম্নে আস্তে আস্তে আলোচনা করবো।
এসইও কিভাবে কাজ করে?
এসইওর পরিধি বিশাল তবে সার্চ ইঞ্জিন তিনটি প্রধান বিষয়ের উপর ডিপেন্ড করে সাইটকে রেঙ্ক করায়। বলা যায় র্যাংক করানোর পূর্বে সার্চ ইঞ্জিন এই কাজগুলো করে থাকে তারপর র্যাংক করায়।
Crawling:
সার্চ ইঞ্জিনের নিজস্ব একটা রোবট বট সিস্টেম আছে যার কাজ হচ্ছে সব সময় নেট দুনিয়ায় ঘুরে বেড়ানো এই গুগল বট সেকেন্ডে লাখ লাখ পেজ ক্রলিং করতে পারে যা প্রতিনিয়ত পুরো ইন্টারনেটের নতুন নতুন ওয়েবসাইট ও লিংক ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে।
Indexing:
ক্রলিং করার পর সার্চ ইঞ্জিন যে নতুন তথ্য লিংকগুলো সংগ্রহ করে তা তার বিশাল ডাটাবেজে ক্যাটাগরি অনুযায়ী জমা রাখে।
Ranking:
এই যে গুগল বট ক্রলিং করে নতুন তথ্য সংগ্রহ করে তার নিজস্ব ডাটাবেজের রেখে দেয় যখন কেউ কোন কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করে তখন ওই সার্চ ইঞ্জিন কিওয়ার্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দ্রুত লোড হয় এমন ওয়েবসাইট কে আপনার সামনে তুলে ধরে।
SEO শিখতে যা যা দরকারঃ
SEO মুলত একটি বিশাল মহাসাগরের মত, তবে এটিকে প্রধানত ৪ টি ভাগে ভাগ করা যায়। এই ৪ টি বিষয়ের উপরে আপনাকে প্রো লেভেলে দক্ষতা অর্জন করতে পারলেই আপনি হবেন এসইও এক্সপার্ট।
Keyword Research: এসইও শেখার প্রথম ও পুর্ব শর্ত হলো কিওয়ার্ড রিসার্চ। সঠিক ভাবে যদি কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে না পারেন তাহলে ওয়য়েবসাইটকে র্যাংক করাতে পারবেন না। এটা বুঝতে হলে মানুষের মন বোঝার কৌশল জানতে হবে। আপনি যেই টপিক নিয়ে আর্টিকেল লিখতে চাচ্ছেন সেটিকে খুজে পাওয়ার জন্য মানুষ কি লিখে সার্চ করছে সেটা আগে বুঝতে হবে এবং সেই আর্টিকেলের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ন কিওয়ার্ড গুলোখুজে বের করতে হবে। এবং সেই কিওয়ার্ড গুলো আপনার ব্লগে আর্টিকেলের মধ্যে বসাতে হবে।
এখন প্রশ্ন জাগতে পারে অনেক কিওয়ার্ড তো গুগল অটো সাজেস্ট করে তাহলে কোন কিওয়ার্ড গুলোকে সঠিক হিসেবে ধরে নেবো। হ্যাঁ, কিওয়ার্ড বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু বিষয় মাথায় রেখে সেলেক্ট করতে হবে।
Search Volume: আপনি যেই কিওয়ার্ড বাছাই করবেন তার সার্চ ভলিউম কেমন সেটা দেখতে হবে।সার্চ ভলিউম যদি কম হয় বা একেবারেই না থাকে তাহলে এসইওর ক্ষেত্রে খুব ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে না।এমন কিওয়ার্ড খুজে বের করতে হবে যেন সার্চ ভলিউম বেশি হয়। মানুষ যেন ওই কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে।
Keyword Difficulty: এখানে ডিফিকাল্ট বলতে কম প্রতিযোগিতামুলক কিওয়ার্ড খুজতে হবে। আপনি হয়ত এমন কিওয়ার্ড খুজে বের করলেন যেটার সার্চ ভলিউম বেশি ঠিক আছে কিন্তু তার কম্পিটিশন অনেক বেশি। সেই keyword নিয়ে বড় বড় বাঘা খেলোয়ার তাদের ওয়য়েবসাইট র্যাংক করেছে। তাহলে সেটা নিয়ে কাজ করলেও তাদের সাথে কম্পিটিশন করে পেরে উঠবেন না। সুতরাং কম্পিটিশন কম এবং সার্চ ভলিউম বেশি এমন কিওয়ার্ড বেছে নিতে হবে।
Search Intent: সার্চ করার পিছনের উদ্দেশ্য পরিষ্কার এই ইনটেন্ট এর ওপর ভিত্তি করে কিওয়ার্ডকে চার ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে যেমন
Navigational Keyword: কেউ যদি ফেসবুকে লগইন করতে চাই তাহলে সে ফেসবুক লগিন লিখে গুগলে সার্চ করবে এখানে "ফেসবুক লগিন" এটাও একটা কিওয়ার্ড তবে এখানে ভিজিটর কোন তথ্য জানতে চাচ্ছেনা বরং নির্দিষ্ট একটা সাইটের প্রবেশ করতে চাচ্ছে।
Commercial Keyword: মানুষ যখন কোন পন্য বা সেবা কিনতে চায় তখন সে এই ধরনের কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে যেমন best laptop in bangladesh, best mobile phone under 20000 in bd, এই ধরনের কিওয়ার্ড দিয়ে যখন মানুষ কিছু সার্চ করে তার মানে সে মোবাইলটি কিনতে চায়। যার কারণে সে ফোনের রিভিউ দেখতে চাচ্ছে।
Transactional Keyword: মানুষ যখন ফাইনালি কোন কিছু কিনতে চাই কেনার জন্য একদম প্রস্তুত তখন এই ধরনের কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে যেমন buy domain in online ।
Tools: কিওয়ার্ড রিসার্চের কথা তো বললাম কিন্তু সেটা আমরা কিভাবে করব সেটা তো জানিনা। কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য অনেক টুলস আছে কিছু ফ্রি আবার কিছু আছে টাকা দিয়ে কিনে ব্যবহার করতে হয়। একদম ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবেন গুগল কিওয়ার্ড প্লানার সেই সাথে এটি গুগলের নিজস্ব টুলস তাই ট্রেনডি কিওয়ার্ড সাথে সাথেই পাবেন যা অন্য টুলসে আপডেট হতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। তবে কিওয়য়ার্ড রিসার্চ এর জন্য জনপ্রিয় টুলস হচ্ছে Semrush, ubbersuggest, Ahrefs। এগুলোর ফ্রি এবং পেইড ভার্সনে আছে তবে একুইরেট রেজাল্ট পেতে পেইড ভার্সন ব্যবহার করায় ভালো।
SEO এর প্রকারঃ
এসইও প্রধানত তিন প্রকার
- অন পেজ এসইও
- অফ পেজ এসইও
- টেকনিক্যাল এসইও
অন পেজ এসইও কি
একটি ওয়েবসাইটের ভেতরের কনটেন্ট এবং পেজগুলোকে সার্চ ইঞ্জিনের উপযোগী করে সাজানো হলো অন পেজ এসইও। এগুলো ওয়েবসাইটের ভেতরের ফাংশনালিজম, কি আছে সেই সব বিষয় এর মধ্যে কি কি আছে চলুন দেখে নেই।
Title and Meta Description:
একটা ব্লগ বা আর্টিকেলের টাইটেল এবং মেটাডিস্ক্রিপশন অবশ্যই এসইও ফ্রেন্ডলি হতে হবে যেমন আপনি যে কিওয়ার্ড রিসার্চ করলেন সেই কিওয়ার্ড টাইটেল এবং মেটা ডেসক্রিপশন এর ভেতরে থাকতে হবে এবং সেটাকে আকর্ষণীয়ভাবে লিখতে হবে যাতে ভিজিটর টাইটেল দেখে ক্লিক করার আগ্রহ দেখায়।
Url Structure:
ইউ আর এল ছোট এবং কিওয়ার্ড ফ্রেন্ডলি রাখা, এটাকে পারমালিঙ্ক ও বলা হয় আপনি যদি ব্লগার দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে নিজের চাহিদা মত শর্ট করে পারমালিংক ব্যবহার করতে পারেন এটাও কিওয়ার্ড এর সাথে প্রাসঙ্গিক থাকতে হবে।
Heading Tag:
ওয়েবসাইটের কনটেন্ট গুলোকে এসইও ফ্রেন্ডলি সুন্দর করে সাজাতে হেডিং ট্যাগের গুরুত্ব অনেক বেশি ।এটি সার্চ ইঞ্জিন এবং ভিজিটর উভয়কে মূল কাঠামো বোঝাতে সাহায্য করে।H1 থেকে H6 পর্যন্ত মোট ছয়টি হেডিং ট্যাগ রয়েছে যা ভিজিটরকে আর্টিকেলের মূলভাব বুঝাতে সাহায্য করে। এটি প্রয়োজন অনুযায়ী আর্টিকেলের hierarchy বজায় রেখে বসাতে হয়।যেমন H1 ট্যাগের পর সরাসরি H4 ট্যাগ ব্যবহার করা যাবে না।আবার H2 ব্যবহার করার পরে H1 ট্যাগ ব্যবহার করা যাবে না।তাছাড়া H1 ট্যাগ আর্টিকেলের ভেতরে টাইটেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একবারই ব্যবহার করা যায়।
Image Optimization:
আর্টিকেলের ভেতরে আমরা যখন কোন ছবি ব্যবহার করব তখন সেটাকে অবশ্যই এসইও ফ্রেন্ডলি অপটিমাইজ করতে হবে। যেমন ছবির সাইজ ছোট করা যাতে মোবাইলে সাপোর্ট করে। কেননা প্রায় ৭০ পার্সেন্ট ভিজিটর মোবাইল দিয়ে ওয়েবসাইট ভিজিট করে আর ছবিরAlt txt এ কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে যাতে করে আর্টিকেলের সাথে ছবির ও র্যাংক করে ।
Internal & External Linking:
আপনার ব্লগে উভয় লিংক ব্যবহার করবেন এর বেশ কিছু সুবিধা আছে যেমন আপনি যদি অভ্যন্তরীণ লিংক ব্যবহার করেন তাহলে পাঠক যখন কোন বিষয়ে পড়ার জন্য আপনার সাইটে আসবে তখন তার প্রাসঙ্গিক অন্য একটি পোস্টের লিংক ও সামনে চলে আসবে তখন সেই লিংকে ক্লিক করে আপনার ওয়েবসাইটের অন্য পেজে চলে যাবে এতে করে আপনার সাইটে বেশি সময় থাকবে যা আপনার সাইটের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াবে গুগলের কাছে।
টেকনিক্যাল এসইও
টেকনিকেল এসইও হচ্ছে একটা সাইটের ভেতরের কারিগরি বিষয় গুলো শক্তিশালী করা । যাতে গুগল সহজেই আপনার সাইটকে খুঁজে পায় ক্রল করতে পারে এবং ইনডেক্স করতে পারে। কনটেন্ট যত ভালো হোক না কেন টেকনিক্যাল ইস্যুতে যদি একটু সমস্যা খুঁজে পায় গুগল। তাহলে আপনার সাইটকে রেংক করানো অসম্ভব। টেকনিকালএসইও তে কোন কোন বিষয় মজবুত রাখতে হবে চলুন দেখে নেয়া যাক।
Website Speed:
ওয়েবসাইট দ্রুত লোড হওয়া নিশ্চিত করতে হবে যদি তিন সেকেন্ডের বেশি সময় নেয় তবে কনটেন্ট ভালো হলেও ভিজিটর আপনার সাইটে আসবে না, অন্য সাইট খুঁজবে যার কারণে রেংক ও হবে না।
Mobile Friendly:
মোবাইলে সাইটটি ঠিকঠাক ওপেন হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে, কারণ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ পার্সেন্ট ভিজিটর মোবাইল দিয়ে ওয়েবসাইট ভিজিট করে।
Robot txt & XML Sitemap:
আপনি যদি google ব্লগার দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করে থাকেন তাহলে robot txt সেটআপ করতে হবে। এটার কাজ হচ্ছে গুগল রোবটকে আপনার সাইট ঘুরে বেড়ানোর অনুমতি দিয়া বা রাস্তা দেখিয়ে দেয়া । আর XML Sitemap এর কাজ হচ্ছে গুগলের কাছে জমা দিলে সার্চ ইঞ্জিন সহজেই আপনার সাইটের সব পেজ খুঁজে পায়।
SSL Certificate:
এর পুরো নাম হচ্ছে secure socket layer এটি হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা। যখন কোন সাইটে SSL Certificate ইন্সটল করা থাকে তখন এড্রেস বারে HTTP এর পরিবর্তে HTTPS দেখাবে এবং একটি তালা চিহ্ন দৃশ্যমান হবে। এর কাজ হচ্ছে ব্যবহারকারী এবং ওয়েবসাইটের মধ্যে সকল তথ্য লক করে দেয়া যাতে হ্যাকার কোনো তথ্য চুরি করতে না পারে করে ওয়েবসাইট সেফ থাকে।
Fixing Broken links:
অনেক সময় বিভিন্ন কারণে ওয়েবসাইটের লিংক ব্রোকেন হয় ফলে লিংকে ক্লিক করলে Error404 দেখায় ।ফলে ভিজিটররা বিরক্ত হয়ে চলে যায়। এতে বাউন্স রেট কমে যায় বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যার কারণে র্যাঙ্ক ধরে রাখা খুব কঠিন হয়ে যায় তাই এসইওর জন্য ব্রোকেন লিঙ্ক ঠিক রাখা জরুরী।
অফ পেজ এসইও
অফ পেজ এসইও এটি ব্যাকলিংক এসইও, লিংক বিল্ডিং নামেও পরিচিত । google যে সাইটের ব্যাকলিংক যত বেশি কোয়ালিটি সম্পন্ন দেখে সেই সাইটকে তত বেশি বিশ্বাস করে । অন পেজ এসইও যেমন ভেতরের ফাংশন নিয়ে কাজ করে অফ পেজ এসইও সাইটের অথরিটি এবং জনপ্রিয়তা নিয়ে কাজ করে।
কি কি উপায়ে অফ পেজ এসইও করা যায়?
Guest Posting: অন্য যেসব জনপ্রিয় সাইট আছে সেই সব সাইটে নিজের সাইটের লিংক তৈরি করে দেয়া। তাদের জন্য গেস্ট হিসেবে আর্টিকেল লিখে দিয়ে বিনিময়ে আপনার লিংক সেখানে সেটাপ করতে হবে এতে করে তাদের ভিজিটররা আপনার সাইটে চলে আসবে।
Profile Backlink: বিভিন্ন হাই অথরিটি সাইটে প্রোফাইল তৈরি করে লিংক নেওয়া।
Competitor backlink replication: প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েবসাইট গুলো কোথা থেকে ব্যাকলিংক পেয়েছে তা এনালাইসিস করে সেখান থেকে লিঙ্ক নেওয়ার চেষ্টা করা।
এসইও এর সুবিধা ও অসুবিধা
যেকোনো মেথডের ভালো-মন্দ দুটি দিক থাকে এসইও যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনি কিছু অসুবিধা রয়েছে চলুন দেখি কি কি সুবিধা আর অসুবিধা রয়েছে।
সুবিধাঃ
বিনামূল্যে অর্গানিক ট্রাফিক পাওয়া যায় এর জন্য গুগল বা কোনো সার্চ ইঞ্জিন কে টাকা দিতে হয় না সম্পূর্ণ ফ্রিতে প্রচুর ভিজিটর পাওয়া যায়।
এসইও করে একবার ভালো পজিশনে চলে গেলে এর ফল দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া যায়।
ব্রান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায় ও সার্চ ইঞ্জিনের আস্থা অর্জন হয় কারণ বর্তমানে মানুষ বিজ্ঞাপনের চেয়ে অর্গানিক ভিজিটরকে বেশি বিশ্বাস করে। সার্চ রেজাল্ট এর প্রথম পাতায় আসলে এটির নির্ভরযোগ্যতা অনেক গুণ বেড়ে যায়।
মানুষ যখন নির্দিষ্ট কোন বিষয় নিয়ে সার্চ করে তখন আপনার সাইট সামনে চলে আসে যেহেতু তারা নিজে থেকে তথ্য খুজছে তাই কনভারশন রেট হাই থাকে।
আপনার সাইটে যদি ভিজিটরদের অভিজ্ঞতা ভালো হয় তাহলে ভিজিটররা বারবার ফিরে আসে এর জন্য দরকার সাইটটিকে মোবাইল ফ্রেন্ডলি এবং দ্রুত লোড হয় কোন সাইটে পরিণত করা।
অসুবিধাঃ
ফলাফল দীর্ঘ মেয়াদী এসইওতে রাতারাতি ভালো কিছু আশা করা যায় না সফলতা পেতে ৩ থেকে ৬ মাস সময় লেগে যায়।
সফলতার ১০০% গ্যারান্টি নাই সবকিছু ঠিকঠাক করার পরেও আপনার সাইট যে এক নম্বর র্যাংকিং এ থাকবে এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
এসইও কোন একবারের কাজ নয় যে একবার করলাম আর করতে হবে না এমনটা না, এখানে সব সময় আপডেট থাকতে হয়।
পরিবর্তন এর ঝুঁকি থাকে গুগলের অ্যালগরিদম প্রতিনিয়ত আপডেট হয় পরিবর্তন হয়। যখন বড় কোন পরিবর্তন নিয়ে আসে তখন ভালো পজিশনে থাকা সাইটটিও ভিজিটর কমে যেতে থাকে ফলে র্যাঙ্ক কমে যায়।
সার্চ ভলিউম বেশি এমন কিওয়ার্ড এর কম্পিটিশন বেশি হয় তাই এদের সাথে পাঞ্জা দিয়ে ওয়েবসাইট রেংক করানো প্রায় অসম্ভব হয়।
কেন এসইও শেখার দরকার?
প্রতিদিন প্রায় লাখ লাখ ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে কিন্তু সব ওয়েবসাইট কি রেংক করছে ?না।এর কারণ হচ্ছে দক্ষ এসইও ম্যান না থাকা। প্রতিনিয়ত যেই সাইট তৈরি হচ্ছে সেই তুলনায় এসইও এক্সপার্ট বাজারে নাই। তাই আপনি যদি এসইও এক্সপার্ট হতে পারেন সহজেই ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। এছাড়াও অনলাইনে ব্যবসার পরিধি দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে ফলে এই ব্যবসার প্রসারে এসইও এক্সপার্টদের চাহিদা আকাশচুম্বি। তাই এসইও এক্সপার্ট হতে পারলে শুধু লোকাল নয় বিশ্ববাজারেও কাজ করতে পারবেন তাও আবার ঘরে বসে।
এসইও শিখে ইনকাম করার উপায়
এসইও শিখলে অনেকভাবেই আয় করা যাবে এটি শেখা মানে ইনকামের পথ খোলা আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না ।চাইলে কারো অধীনে কাজ করতে পারেন আবার চাইলে নিজেই ব্যবসা দাঁড় করাতে পারেন যা ফ্রিল্যান্সিং এর অন্যান্য সেক্টরে নাই। তো চলুন দেখি এসইও শিখে কি কি উপায়ে ইনকাম করা যায়।
ব্লগিং ও গুগল এডসেন্সঃ এসইও হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রাণ ভোমরা সেই এসইও যখন আপনি আয়ত্ত করে ফেলবেন তখন পুরো ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাইক্রো নিশ গুলো আপনার হাতের মুঠোয়। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্লগিং আপনি চাইলে যে কোন একটি নিশ নিয়ে আর্টিকেল লিখে ব্লগ পোস্ট করতে পারেন। ২০ থেকে ৩০ টি ভালো মনের আর্টিকেল লিখেন এরপর google এডসেন্সের জন্য আবেদন করেন ইনকাম শুরু। এটি ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে স্বাধীন একটি পেশা নির্দিষ্ট কোন সময়ের প্রয়োজন হয় না, আপনার ইচ্ছামত সময় বের করে করতে পারেন এছাড়া বায়ারের কোন প্যারা নেই।
এফিলিয়েট মার্কেটিংঃ অন্যের প্রোডাক্ট নিজের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রচার করে কমিশন ভিত্তিক ইনকাম। অ্যামাজন আলিবাবা সহ আরো অনেক মার্কেটপ্লেস আছে যেখান থেকে প্রোডাক্ট নিয়ে রিভিউ লিখে এসইওর মাধ্যমে প্রমোট করে বড় এমাউন্ট ইনকাম করা সম্ভব।
লোকাল ও ইন্টারন্যাশনাল জবঃ লোকাল ও আন্তর্জাতিক মার্কেটে এসইও স্পেশালিস্ট হিসেবে এসইও সার্ভিস বিক্রি করে ইনকাম করা যায়।
নিজের ই-কমার্স ব্যবসাঃ আপনি চাইলে এসইও শিখে নিজেই একটা ই-কমার্স ব্যবসা দাড় করাতে পারেন সে ক্ষেত্রে কাস্টমারের জন্য কোন পেইড বিজ্ঞাপন চালাতে হবে না। এসইওর মাধ্যমে আপনি বিজনেস করতে পারবেন কাস্টমারের কাছে পন্য পৌঁছাতে পারবেন।
এসইও এজেন্সিঃ আপনি চাইলে এসইও শিখে একটা এজেন্সিও চালু করতে পারে আর এটি বাংলাদেশে বর্তমান জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বড় কোন টিম তৈরি করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির পুরো ডিজিটাল মার্কেটিং বা এসইও প্রজেক্ট এর দায়িত্ব নিতে পারবেন।
এসইও শিখে কোথায় কাজ পাবেন ?
কাজের দক্ষতা অর্জন করতে পারলে কাজ পাওয়া নিয়ে কোন টেনশন কর তে হবে না।কাজ নিজে থেকে আপনাকে ধরা দেবে তবে কিছু মাধ্যমকে অনুসরন করতে হবে । এর জন্য কিছু মার্কেট প্লেস আছে যা ক্লায়েন্ট আর ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরী করে কাজ পেতে সহায়তা করে। যেমন
ফাইভারঃ এখানে অনেক ছোট ছোট কাজ কিওয়ার্ড রিসার্চ, অন পেজ এসইও,টেকনিক্যাল এসইও, ইত্যাদি গিগ আকারে সাজিয়ে রাখলে ক্লায়েন্টরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সার হায়ার করে নির্দিষ্ট পেমেন্টের বিনিময়ে।
ফ্রিল্যান্সার ডটকম ও আপওয়ার্কঃ এই দুইটি সাইটের নিয়ম সাধারনত একই রকম এখানে ক্লায়েন্টরা তাদের কাজের ধরন অনুযায়ী বাজেট সহ পোস্ট করে থাকে আর ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কভার লেটার সহ বিড করে থাকে। এক কাজের জন্য অনেকে বিড করে থাকে ক্লায়েন্ট তার পছন্দ মত যে কোন একজনকে বেছে নেয়।
স্যোশাল মিডিয়া নেটওয়ার্কঃ স্যোশাল মিডিয়ায় অনেক উপায় আছে কাজ পাওয়ার তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে লিংকডইন। এখানে প্রফেশনাল মানের একটা প্রোফাইল তৈরী করে রাখুন । বিভিন্ন কোম্পানির রিমোট জবে সরাসরি আবেদন করে রাখুন এবং নিয়মিত এসইও বিষয়ে পোস্ট করতে থাকুন যাতে ক্লায়েন্ট সহজে আপনাকে খুজে পায়।
দেশি বিদেশি বিভিন্ন এসইও এবং ডিজিটাল মার্কেটিং গ্রুপে একটিভ থাকুন মানুষের সমস্যার সমাধান দিন সেখান থেকে সরাসরি ইনবক্সে ক্লায়েন্ট পাওয়া যাবে।
লোকাল ক্লায়েন্ট থেকেঃ আপনার আশেপাশে বিভিন্ন হোটেল , ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ই-কমার্স ইত্যাদির লিস্ট করেন। তাদের SEO Audit খুজে বের করেন এবং তাদের মেইল করে বলেন আপনার এই এই বিষয়ে ঘাটতি আছে আমি আপনাদের সেলস বাড়িয়ে দিতে পারবো।
শেষ কথাঃ
পরিশেষে এই টুকু কথা গ্যারান্টি দিয়ে বলি যে এসইও এমন একটা নিশ যার চাহিদা সব সময় সর্বক্ষেত্রে বেশি এবং যতদিন ওয়েবসাইট থাকবে ততদিন এসইওর চাহিদা থাকবে ।সুতরাং একবার শিখে নিতে পারলে আর পিছু ফিরে তাকাতে হবে না । আর কাজ পাওয়ার জন্য সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকারী উপায় হচ্ছে নিজের একটা পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট থাকা।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url