ঘরে বসে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম: এ টু জেড গাইডলাইন
ভূমিকা
"অনলাইনে ইনকাম কি আসলেই সম্ভব, নাকি শুধুই কথার কথা? ৬ মাস একটানা হাড়ভাঙা খাটুনির পর যখন আমাজন অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গেল, মনে হয়েছিল সব শেষ! কিন্তু সেই হতাশা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে কীভাবে মাত্র ১৮ দিনে আমার প্রথম ডলার ইনকাম হলো? আজ কোনো রূপকথার গল্প নয়, বরং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের একদম বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করব—চলুন, চা খেতে খেতে আড্ডা দেওয়ার মতো করে পুরো বিষয়টা খোলাসা করি!
আমি যখন প্রথমে এই সেক্টরে পা রেখেছিলাম মনে হাজারটা প্রশ্ন আর কিছুটা সংশয় ছিল আসলে কি অন্য কারো প্রোডাক্ট প্রমোট করে ঘরে বসে ইনকাম করা সম্ভব? আজ একজন ব্লগার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি হ্যাঁ সম্ভব। তবে এটা কোন আলাদিনের চেরাগ নয় যে আপনাকে রাতারাতি কোটিপতি বানিয়ে দেবে। এটা একটা নিখাদ ব্যবসা যেখানে ধৈর্য আর সঠিক স্ট্র্যাটেজি থাকলে লাইফ চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে।
নতুনদের জন্য এফিলিয়েট মার্কেটিং গাইড
![]() |
| ঘরে বসে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম |
চলুন একদম চা খেতে খেতে আড্ডা দেওয়ার মতো করে সহজ ভাষায় পুরো বিষয়টা খোলাসা করি।
এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?
এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কোন কোম্পানি বা অন্য যে কারো প্রোডাক্ট আপনার মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া ।যেমন ধরুন আপনার কোন বন্ধু ভালো একটা মোবাইল কিনবে তার বাজেট ২০ হাজার টাকা কিন্তু সে বুঝে উঠতে পারছে না, এই বাজেটের মধ্যে কোন মোবাইল তার জন্য ভালো হবে।
আপনি নির্দিষ্ট কোন একটা মডেলের মোবাইলের ফিচার সুবিধা অসুবিধা থাকে জানালেন যেটা বাজেট ফ্রেন্ডলি এবং তার পছন্দ হলো আপনি তাকে সাথে নিয়ে গিয়ে মোবাইলটা কিনে দিলেন।
এখন আপনি দোকানদারকে যে একটা কাস্টমার এনে দিলেন দোকান মালিক খুশি হয়ে তার লাভের থেকে কিছু পরিমাণ আপনাকে দিল এটাই অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম। ঠিক একই কাজ আপনি সশরীরে না করে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে মার্কেটিং করে করতে পারেন।
আর এই কাজের জন্য আপনার একটা ব্লগ সাইট প্রয়োজন হবে যেখানে প্রোডাক্টের গুণাবলী সুবিধা অসুবিধা বর্ণনা থাকবে এবং buy now বাটন সেট করে সেখানে কোম্পানির দেওয়া ইউনিক এফিলিয়েট লিংক যুক্ত করে দেবেন। কোন কাস্টমার যদি আপনার ব্লগ সাইটে গিয়ে প্রোডাক্টসের বর্ণনা পড়ে কিনতে চায় তাহলে সে আপনার দেয়া লিংকে ক্লিক করে কিনে নেবে। কাস্টমার যে আপনার লিংকে ক্লিক করে প্রোডাক্ট কিনলো তার জন্য প্রোডাক্টসের মালিক আপনাকে একটা কমিশন দিবে এটাই এফিলিয়েট মার্কেটিং।
এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, সবি বুঝলাম কিন্তু আমি অনলাইনে সেল করবো কমিশনের টাকা হাতে পাবো কিভাবে? চলুন এবার আমি আলোচনা করবো কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন ,এটি করতে কি কি লাগবে,কমিশনের টাকা কিভাবে হাতে পাবো?
তার বিস্তারিত জানতে পুরো আর্টিকেল মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
কিভাবে শুরু করবেন?
কিভাবে শুরু করবেন এটা বলার আগে আমার জীবনের বাস্তবতা আপনাদের সাথে একটু শেয়ার করি " ২০২৩ সাল মে মাস বাংলাদেশি একটা সার্ভিস হোল্ডারের কাছ থেকে ডোমেইন হোস্টিং কিনে ওয়য়ার্ডপ্রেস দিয়ে কাজ শুরু করি মার্কেট প্লেস হিসেবে বেছে নিলাম amazon associate । দীর্ঘ ৬ মাস একটানা কাজ করার পরেও কোন প্রোডাক্ট সেল করতে পারিনি ফলাফল এমাজন একাউন্ট ব্লক।এমাজন এসোসিয়েটের আবার একটা নিয়ম আছে ১ম ৬ মাসের মধ্যে একটা প্রোডাক্ট বিক্রি করতেই হবে , না হলে একাউন্ট ব্লক করে দেয় আমারও তাই হলো। কিছুদিন কাজ বন্ধ রেখে হতাশ হয়ে বসে থাকলাম পরে বুঝলাম আমি নিশ সেলেক্ট করে কাজ না করার কারণে এই দশা এরপর আবার একাউন্ট খুললাম warriorplus এ এখানে একটানা ২ মাস কাজ করার পরে প্রথম সেল আসে যেটাতে কমিশন পাই ৬ ডলার । কিছুটা উৎসাহী হয়ে কাজ চালিয়ে যাই ১৮ দিনের মাথায় আরো দুটি সেল আসে যাতে কমিশন পাই ১০ ডলার, এবার আমাকে থামায় কে ? সমস্ত মনোযোগ উজার করে দিলাম এই কাজের প্রতি শুরু হয় ফ্রিল্যান্সিং যাত্রা "
এতক্ষন এই গল্পটি বলার কারণ হচ্ছে হাল ছেরে দেয়া যাবে না, যত বাধাই আসুক ধর্য্য ধরে লেগে থাকুন এবং সঠিক স্ট্রেটেজি ফলো করুন সফলতা আসবেই ।
একটি নিশ বা ক্যাটাগরি বেছে নিন
এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার প্রথম ধাপ হচ্ছে ভালোভাবে নিশ সিলেকশন করা এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে হড়বড়ে করে ফেলে, সবগুলো বিষয়ে একসাথে নিয়ে কাজ করে তারা মনে করে লিখতে পারলেই হলো, বিষয়টা এমন না। নিশ সিলেকশন করতে না পারলে বেশি দূরে এগোতে পারবেন না , নিশ সিলেকশন করার একটা সুবিধা আছে যখন নির্দিষ্ট একটা ক্যাটাগরি নিয়ে কাজ করবেন তখন google ওই বিষয়ে আগ্রহী ভিজিটরদেরকে আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ে আসবে। ফলে ওয়েবসাইট র্যাংক করাতে অনেক সুবিধা হয়, আর যদি সব বিষয় একসাথে নিয়ে কাজ করেন তাহলে গুগল মামা বুঝতে পারবে না আপনি আসলে কি চাচ্ছেন? তাই শুরুতেই সবকিছু একসাথে নিয়ে কাজ করতে যাবেন না। আপনার যে বিষয়ে আগ্রহ আছে সেই বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করেন। টেকনোলজি ,গেজেট, রূপচর্চা, ফিটনেস নাকি রান্নাবান্না যেকোনো একটি ক্যাটাগরি বেছে নিন। এছাড়া আপনারা চাইলে আমার মত ডিজিটাল প্রোডাক্ট নিয়েও কাজ করতে পারেন।
প্ল্যাটফর্ম তৈরি করুন
অনলাইনে এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজ করতে চাইলে একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে যেখান থেকে কাস্টমার প্রোডাক্ট কিনবে। শুরুতেই একটা ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল instagram profile, tiktok আইডি দিয়ে শুরু করতে পারেন। তবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা ইনকাম করার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হচ্ছে ওয়েবসাইট। কারণ টেক্সট কনটেন্টকে গুগলে র্যাংক করার ক্ষমতা দারুন। এই ওয়েবসাইট আপনি দুই ভাবে করতে পারেন
১ গুগল ব্লগার দিয়ে
২ ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে
গুগল ব্লগার দিয়ে ওয়েবসাইট বানাতে খরচটা একটু কম হবে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা দিয়ে শুধু একটা ডোমিন কিনলেই হবে। আর ওয়ার্ড প্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট বানাতে খরচটা একটু বেশি হবে ডোমিন + হোস্টিং দুটোই কিনতে হবে সে ক্ষেত্রে ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকার মতো খরচ হবে।
ওয়েবসাইট বানানোর পর যে নিশ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী সেইসব প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিউ লেখা শুরু করেন। রিভিউ গুলো লিখবেন সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে বর্তমান সময়ের সাথে যায় এমন প্রোডাক্ট নিয়ে রিভিউ লিখবেন। প্রোডাক্টসের বর্ণনা ডিটেলস দেয়ার চেষ্টা করবেন সুবিধা অসুবিধা, আপনার প্রোডাক্ট কেন অন্য প্রোডাক্ট থেকে আলাদা কাস্টমার কেন আপনার প্রোডাক্ট কিনবে সব বিষয়ে ক্লিয়ার করে বলার চেষ্টা করবেন এতে কাস্টমারদের বিশ্বস্ততা তৈরি হবে।
ওয়েবসাইট ভ্যালু তৈরি করুন
ওয়েবসাইট তৈরি করে শুধু রিভিউ লিখলেই যথেষ্ট হবে না ওয়েবসাইটের ভ্যালু তৈরি করতে হবে যাতে করে গুগলের কাছে আপনার সাইট বিশ্বস্ত মনে হয় আর ভিজিটরদের কাছে রিয়েল মনে হয়। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে কিসের ওপর ভিত্তি করে ওয়েবসাইটকে ভ্যালুয়েবল মনে হবে ভিজিটরদের কাছে। আপনার সাইট তখনই ভ্যালুয়েবল মনে হবে যখন আপনি ভিজিটরদের সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। আপনি যত বেশি ভিজিটরদের সমস্যার সমাধান করবেন ওয়েবসাইট ভ্যালু তত বাড়বে এবং ইনকাম বৃদ্ধি পাবে। একটা উদাহরণ দিয়ে বলি ধরুন আপনি মোবাইলে রিভিউ নিয়ে ব্লগিং করেন এখানে আপনি মোবাইলের ডিটেলস স্পেসিফিকেশন না লিখে এভাবে লিখতে পারেন," স্টুডেন্টদের জন্য বাজেট ফ্রেন্ডলী একটা মোবাইল"
এবং কি কি কারনে এই মোবাইল স্টুডেন্টদের জন্য বাজেট ফ্রেন্ডলি সেই বিষয় তুলে ধরুন তাহলে যারা স্টুডেন্ট বা কম বাজেটের মোবাইল কিনতে আগ্রহী তারা আপনার লিংক থেকে মোবাইল কিনবে।
এফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হন
আপনার ওয়েবসাইট যখন বড় হবে অনেক ভিজিটর আসতে থাকবে তখন বিভিন্ন কোম্পানির এফিলিয়েট প্রোগ্রামে ফ্রিতে সাইন আপ করে যুক্ত হতে হবে, আপনি যদি এফিলিয়েট লিংক যুক্ত না করেন তাহলে ইনকাম হবে না। কোন কোন কোম্পানির এফিলিয়েট লিংক নিয়ে কাজ করবেন চলুন দেখা যাক।
সাধারণত দুই ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং করা যায়
১। ডিজিটাল প্রোডাক্ট
২। ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট
১। ডিজিটাল প্রোডাক্ট
ডিজিটাল প্রোডাক্ট হচ্ছে সেই সব প্রোডাক্ট যেগুলোর জন্য ডেলিভারি ম্যান এর প্রয়োজন হয় না। সহজ কথায় যে প্রোডাক্ট ধরা যায় না, ছোয়া যায় না, এর কোন আকার থাকে না কম্পিউটারের মাধ্যমে কেনা যায় ,ডাউনলোড করা যায় এবং অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায় সেগুলোই ডিজিটাল প্রোডাক্ট।
যেমন ই-বুক, কোন সফটওয়্যার, অ্যাপস, অনলাইন কোর্স, রিসার্চ ডাটাবেজ, টেমপ্লেট, প্লাগিন, ওয়েবসাইট থিম , এগুলো সব ডিজিটাল প্রোডাক্ট ।
ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর জন্য কোন কোন মার্কেটে যুক্ত হবেন
আপনি যদি আন্তর্জাতিক মার্কেটে কাজ করতে চান এবং ইংরেজিতে প্রোডাক্ট রিভিউ লেখেন তাহলে আপনার জন্য বেস্ট সাইট হচ্ছে warriorplus এবং clickbank। এছাড়া আরো অনেক সাইট আছে তবে আমার দেখা বেস্ট সাইট আমি সাজেস্ট করলাম।
আর যদি লোকাল মার্কেটে ডিজিটাল প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে হোস্টিং প্রোভাইডার সাইট webhostbd তে কাজ করতে পারেন।
ডিজিটাল প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করার তিনটা বড় সুবিধা আছে
১ ম্যানুফ্যাকচারিং খরচ নাই একবার একটি প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারলে বারবার বিক্রি করা যায়।
২ ইনস্ট্যান্ট ডেলিভারি কোন ডেলিভারির ঝামেলা নাই কাস্টমার টাকা পেইড করার সাথে সাথে ইন্সটেন্ট জিমেইলে ডাউনলোড লিংক চলে যায়।
৩ গ্লোবাল মার্কেটিং বাংলাদেশের ঘরের কোণে বসে ইউরোপ আমেরিকা সহ বিশ্বের যে কোন দেশের কাস্টমারের কাছে এই প্রোডাক্ট বিক্রি করা যায়।
২। ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট
ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট হচ্ছে যেগুলোর আকার আছে এবং ডেলিভারি ম্যানের মাধ্যমে কাস্টমারের কাছে পৌঁছাতে হয়, যেমন বাজারে গিয়ে আপনি যেগুলো কিনে আনবেন সেগুলো সব ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট, মোবাইল, গেজেট আইটেম, চেয়ার, টেবিল, ফ্যান, আলু, বেগুন , মুলা, তরকারি, সবকিছু ফিজিক্যাল প্রোডাক্টের অন্তর্ভুক্ত।
কোন কোন মার্কেটে যুক্ত হবেন
ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট নিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং করার অফুরন্ত সুযোগ আছে। আপনি যদি আন্তর্জাতিক মার্কেটে ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান তাহলে বেস্ট হচ্ছে অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েট , shareAsale, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই আমাজনের প্রোডাক্ট সাপ্লাই করা হয়ে থাকে। এছাড়া আরো মার্কেট আছে যেমন aliexpress, walmart, ebay, এই সব মার্কেটেও কাজ করতে পারেন তবে নতুনদের জন্য আমার পরামর্শ থাকবে আমাজন অ্যাসোসিয়েট এবং shareAsale নিয়ে কাজ করার জন্য।
আর যদি লোকাল মার্কেটে কাজ করতে চান তাহলে দারাজ এফিলিয়েট প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করা সবচেয়ে ভালো হবে । কারণ এটা বিশাল প্ল্যাটফর্ম প্রোডাক্ট ও আছে হাজার হাজার। এছাড়াও বিডি শপ ডট কম এবং রকমারি ডট কম আছে এগুলো বেশ বিশ্বস্ত সাইট।
আয়ের সম্ভবনা কেমন?
এফিলিট মার্কেটিংয়ে আয়ের সম্ভাবনাকে ফিক্সড করে বলার কোন সুযোগ নাই এখানে মূলত ধৈর্য আর দক্ষতার উপর ডিপেন্ড করে আয় কেমন হবে? শূন্য থেকে শুরু করে মাসে লাখ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করার সম্ভাবনা আছে।
এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে আয়ের পরিধিকে সাধারণত তিন স্তরে ভাগ করা যায়।
- নতুন বা শিক্ষানিবেশ সময় ৩ থেকে ৬ মাস এই সময়ে কাজ শেখা ওয়েবসাইট সেটাপ কাজের স্ট্রাটেজি বুঝতেই চলে যায় সুতরাং এই সময় ইনকাম হবে এর কোন গ্যারান্টি নেই তবে ছয় মাস পর থেকে ১০০ থেকে ৪০০ ডলার পর্যন্ত আয়ের সম্ভাবনা থাকে যদি স্ট্রাটেজি বুঝতে পারেন।
- মধ্যম স্তরের মার্কেটের যারা আছেন যাদের কাজের অভিজ্ঞতা ১ থেকে ৩ বছর এবং ওয়েবসাইটে অর্গানিক ভিজিটর নিয়ে আসতে পারে তারা মাসে এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত ইনকাম করতে পারেন।
- এক্সপার্ট লেভেল যারা অধিক দক্ষ একসাথে একাধিক নিশ নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে কাজ করতে পারেন তারা মাসে ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করে থাকে সুতরাং বুঝতেই পারছেন এখানে আয়ের সম্ভাবনা কেমন?
ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ কেমন?
এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ এক কথায় বলতে গেলে অসাধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদী । যতই দিন যাচ্ছে মানুষ ততই সশরীরই মার্কেটিং করার চাইতে অনলাইনে মার্কেটিং এর প্রতি বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে । কোম্পানিগুলো এখন অন্ধের মত ফেসবুক বুস্টিং এর পিছনে টাকা খরচ না করে , এফিলিয়েটের প্রতি বেশি খরচ করছে কারণ এখানে কেবল সেল হলেই কমিশন দিতে হচ্ছে ,নাহলে নাই ।
মানুষের বিশ্বাসের মূল্য বাড়ছে এ আই এর যুগে রোবটিক কন্টেন্ট দিয়ে ভরে গেছে তাই কোম্পানিগুলো হিউম্যান ট্রাস্ট কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে যারা জেনুইন প্রোডাক্ট রিভিউ করছে মানুষের বিশ্বাস ধরে রাখতে পারছে তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত বলা যায়। তাই ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও এই গ্রাফ কেমন উপরের দিকে যাচ্ছে।
এফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবেন?
- যখন আপনি একটা ব্যবসা করার কথা চিন্তা করবেন তখন আপনার মাথায় প্রথম যে বিষয়টা ঘুরপাক খাবে সেটা হচ্ছে মূলধন সেইসাথে প্রোডাক্ট কিনতে হবে দোকান ভাড়া সিকিউরিটি চার্জ ইত্যাদি ইত্যাদি নানান ঝামেলা । কিন্তু এফিলিয়েটের ক্ষেত্রে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে কাজটি করতে পারবেন কোন প্রোডাক্ট স্টকে ঝামেলা নাই ।
- এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে টাকা আয় করা যায় আপনার ওয়েবসাইট যখন এসইও ফ্রেন্ডলি হয়ে যাবে তখন অটোমেটিক ইনকাম আসতে থাকবে যদি আপনি ঘুমিয়েও থাকেন তবুও।
- প্রোডাক্ট শিপিং এর কোন ঝামেলা নাই আপনার কাজ হবে ক্রেতাদের প্রোডাক্টের সন্ধান দেয়া ডেলিভারি বা কাস্টমার সার্ভিসের কোনো দায়ভার নাই।
- কাজের স্বাধীনতা যখন ইচ্ছা তখন কাজ করতে পারেন এখানে কোন সেলস টার্গেট নাই বা বসের কোন প্যারা নাই।
আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ
এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে এসে কখনো শটকাট খুজবেন না, অনেককে দেখেছি মানুষের ইনবক্সে গিয়ে লিংক স্পেমিং করে এতে কোন লাভ হয় না বরং উল্টো নিজের দেশের নাম খারাপ হয়। মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে শিখুন আপনি যে প্রোডাক্টটা নিজে ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন না এটা শুধু কমিশনের লোভে অন্যকে গুছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন না। যখন আপনার পাঠকেরা বুঝবে যে আপনি তাদের ভালোর জন্য সঠিক রিভিউ টা দিচ্ছেন তখন তারা চোখ বন্ধ করে আপনার ওপর ভরসা করবে আর এই ভরসাটাই আপনার লাইফ টাইম ইনকামের উৎস হয়ে দাঁড়াবে।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url