ফ্রিল্যান্সিংয়ে দ্রুত সফল হওয়ার ম্যাজিকঃ শূন্য থেকে শিখরে যাওয়ার বাস্তব গাইডলাইন
ইদানীং অনলাইন থেকে ইনকামের বিষয়টা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক শিক্ষিত বেকার কোথাও চাকরি না পেয়ে ঝুকছে অনলাইন ইনকামের পথে, অনেকে লেখাপড়া চলাকালীন সময়ে করছে ফ্রিল্যান্সিং। আবার এমন অনেক লোক আছে যারা চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঝুঁকছে ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে। তবে একটা কথা মেনে নিতেই হচ্ছে ৬০-৬৫ % লোক সফল হচ্ছে না ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে। কারণ হচ্ছে লোভ আর কাজের প্রতি ডেডিকেশন না থাকা। শব্দ দুটি আমি এই জন্যই ব্যবহার করেছি, ফেসবুক ইউটিউবে বিভিন্ন লোভনীয় ভিডিও দেখে তারা ফ্রিল্যান্সিং এ ঝুঁকছে অমুক ফ্রিল্যান্সিং করে কোটিপতি, তমুক অনলাইন থেকে ইনকাম করে স্বাবলম্বী। আরে ভাই তাদের পেছনের গল্প তো আপনি জানেন না। যারা আজ সাকসেস হয়েছে তাদের এই পর্যায়ে আসার গল্প টা শোনেন। কত ত্যাগ, কত ডেডিকেশন করে আজকে তারা সাকসেস হয়েছে।ফ্রিল্যান্সিং নামক সমুদ্রে টিকে থাকতে হলে এই ৩টি গুন আপনার থাকতেই হবে।
![]() |
| ফ্রিল্যান্সিং এ দ্রুত সফল হওয়ার উপায় |
সঠিক স্কিল: সঠিকভাবে কাজের দক্ষতা অর্জন করতে পারলে মার্কেটে সব সময় ডিমান্ড থাকে।
ধর্য্য: ফ্রিল্যান্সিং এ টিকে থাকার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে ধর্য্য। আপনার স্কিল আছে তার মানে এই না, আজকে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন কাল থেকেই লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।
স্মার্ট কাজ: শুধু ধর্য্য ধরে গাধার মতো খাটলে হবে না। বর্তমানে AI এর যুগ তাই বিভিন্ন টুলসের সঠিক ব্যবহার জানতে হবে।
এই ৩টি গুনের কোন একটি যদি আপনার ভেতরে অনুপস্থিত থাকে তাহলে সাকসেস হতে পারবেন না। বর্তমানে যেই ৬০-৬৫% লোক সাকসেস হতে পারছেনা তাদের মধ্যে এই ৩টি গুনের কোন একটি অথবা সবগুলো গুন মিসিং। তারা বিভিন্ন লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে আসে, একটা রেখে আরেকটা কাজ করতে যায় অর্থাৎ ছটফটানি শুরু করে। দিন শেষে ধর্য্য হারা হয়ে বুক ভরা হতাশা নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং থেকে বিদায় নেয়।
আজ আমি আপনাদের বলবো কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলে সফল হবেন এবং দ্রুত সফল হবেন। আমার জীবনের বাস্তবতা থেকে কিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে আমার আর্টিকেল ৩টি ধাপে বিভক্ত করেছি
- প্রথম ধাপ
- দ্বিতীয় ধাপ
- তৃতীয় ধাপ
আপনি যদি একেবারে নতুন এবং দ্রুত সফলতা পেতে চান তাহলে ১ম এবং ২য় ধাপ দিয়ে শুরু করবেন আশাকরি ১০০% সফলতা পাবেন।
আপনি তৃতীয় ধাপ দিয়েও শুরু করতে পারেন যদি আপনার হাতে প্রচুর সময় থাকে এবং প্রবল ইচ্ছেশক্তি থাকে। তবে আমার আজকের লেখাটি সম্পুর্ন নতুনদের জন্য যারা দ্রুত সাকসেস হতে চান।
নতুনদের দ্রুত সফল হওয়ার সেরা কয়েকটি উপায়
ফ্রিল্যান্সিং শেখা কঠিন কোন কাজ নয় বরং অতি সহজ।কিন্তু অনেকে এটাকে কঠিন হিসেবে মাথায় সেট করে নেয়,যার কারণে ফ্রিল্যান্সিং এর কথা বলতেই এদের হাত পা গুটিয়ে আসে। এটা অনেক ঝামেলার কাজ, এতে অনেক কিছু জানতে হয়, শিখতে হয় ইত্যাদি। ট্যালেন্ট হওয়ার পরেও এক অজানা ভয়ের কারণে সামনে এগোতে পারেনা। তাদের এই ভুল ধারণা কে ভেংগে দিতে আমার আজকের আর্টিকেল। এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো যে বিষয় নিয়ে কাজ করলে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে না, বা অনেক কিছু শিখতে হবে না, কিছু ট্যাকনিকেল জ্ঞান থাকলেই ঘরে বসে মাসে ১০-১৫ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন।হ্যাঁ, এই ট্যাকনিক শুধুমাত্র নতুনদের জন্য তবে প্রফেশনাল ভাবে কাজ করতে চাইলে ইনকাম বেশি করতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে পারফেক্ট হতে হবে।
১ম ধাপ
কনটেন্ট রাইটিং:
ফ্রিল্যান্সিং এর যেই সেক্টরেই কাজ করেন না কেন কন্টেন্ট ইজ মোস্ট ইম্পরট্যান্ট। আপনার যদি বাংলা বা ইংরেজিতে বেসিক ধারণাও থাকে তাহলে এই সেক্টর দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন।কারণ কন্টেন্ট রাইটারদের চাহিদা সব সময় আকাশ চুম্বি।যে কোন ওয়েবসাইট কে র্যাংক করানোর জন্য কন্টেন্ট এর গুরুত্ব অনেক বেশি। যতই দিন যাচ্ছে অনলাইনে ব্যবসার পরিধি ততই বাড়ছে, আর ব্যবসা বাড়া মানে ওয়েবসাইটের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকবে এই সব ওয়েবসাইট র্যাংক করাতে গেলে কন্টেন্টের প্রয়োজন। সুতরাং বুঝতেই পারছেন কন্টেন্ট রাইটারদের চাহিদা এখন কত বেশি।
সুবিধা : কন্টেন্ট রাইটিং এর পরিধি ব্যপক কিন্তু মার্কেটে দক্ষ রাইটারের অভাব
দুই মাসের মধ্যেই দক্ষতা অর্জন করা যায়।
- কাজ পাওয়া অনেক সহজ।
- মার্কেটে চাহিদা অনেক বেশি।
- মার্কেট প্লেস বা বায়ারের উপরে নির্ভর করতে হয় না।
আপনি যদি লিখতে ভালোবাসেন, তবে এটাই আপনার জন্য বেস্ট জায়গা। এই একটি মাত্র স্কিল অর্জন করলে আপনি অনেক গুলো উপায়ে ইনকাম করতে পারবেন।
কিভাবে করবেন জানতে হলে পুরো আর্টিকেল মনোযোগ দিয়ে পড়ুন- বিস্তারিত আলোচনা করবো।
ব্লগিং বা এডসেন্স :
আপনি কন্টেন্ট রাইটিং এ দক্ষতা অর্জন করেছেন তো গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম করার ৮০% পথ আপনার জন্য খুলে যাবে। আপনি যদি বায়ারদের উপর নির্ভর করতে না চান তাহলে এটা আপনার জন্য দ্বিতীয় বেস্ট চয়েস। যেহেতু কন্টেন্ট রাইটিং এ আপনার দক্ষতা আছে সেই দক্ষতাকে পুঁজি করে ব্লগ পোস্ট করা শুরু করে দেন। কন্টেন্টের মান ভালো হলে দুই মাসের মধ্যেই এডসেন্স এপ্রুভাল পেয়ে যাবেন। এপ্রুভ পেয়েছেন মানে আপনার ইনকাম শুরু। সেক্ষেত্রে আপনার দরকার একটি ডটকম ডোমেইন দাম পড়বে মাত্র ১২০০-১৫০০ টাকা। ডোমেইন অবশ্যই গুগল ব্লগারে সেট করবেন এটা আমার পরামর্শ।
অনেকে মনে করে এডসেন্স পেতে হলে ডোমেইন হোস্টিং কিনতে হবে ৮-১০হাজার টাকা খরচ করে আবার ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে হবে, নানা ঝামেলা। শুরুতেই এত খরচ করার কোনো দরকার নেই ওয়ার্ডপ্রেস শেখারও ঝামেলা নেই।মাত্র ১৫০০ টাকা দিয়ে ডোমেইন কিনে ব্লগিং শুরু করে দেন । এখন হয়তো ভাবছেন এ আই এর সময়ে ব্লগিং থেকে ভাল কিছু করা যাবে না এটা আপনাদের ভুল ধারণা ।আগামী ১০ বছরেও এডসেন্স থেকে ইনকাম বন্ধ হবে না এটা নিশ্চিত থাকেন,হয়ত সিস্টেমের পরিবর্তন হতে পারে, যতদিন ওয়েব সাইট আছে ততদিন এডসেন্স থেকে ইনকাম চলবে।
এফিলিয়েট প্রোগ্রাম :
আর্টিকেল রাইটিং এ দক্ষতা অর্জন করার আরেকটি বড় সুযোগ হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। বাংলা ও ইংরেজি যে ভাষায় আর্টিকেল লেখায় স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন না কেন, লেখালেখি করে এফিলিয়েট লিংক দিয়ে আপনি হ্যান্ডসাম একটা এমাউন্টও ইনকাম করতে পারেন। কিভাবে করবেন চলুন দেখি
আপনি যদি হেলথ বা ফিটনেস নিয়ে লেখালেখি করেন। তাহলে এই বিষয়ে একটা ব্র্যান্ড তৈরি করুন যখন আপনার ওয়েবসাইটে হাজার হাজার ভিজিটর আসবে তখন হেলথ এবং ফিটনেস প্রোডাক্ট অনলাইনে সেল করে এমন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করুন যাদের এফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু আছে । বাজারে এমন শত শত প্রতিষ্ঠান আছে যাদের এফিলিয়েট সিস্টেম চালু আছে (আপনি খোজ না পাইলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন)। আমার খোজে অনেকে আছে যারা এফিলিয়েটের মাধ্যমে অর্গানিক প্রোডাক্ট সেল করে। আবার আপনি যদি অনলাইনে ইনকাম নিয়ে ব্লগে কন্টেন্ট লেখেন তাহলে একই ভাবে অনলাইন ইনকাম রিলেটেড বিভিন্ন এফিলিয়েট সিস্টেম চালু আছে সেগুলোর লিংক আপনার ব্লগের মধ্যে সেট করে দিতে পারেন।
আবার আপনি যদি প্রোডাক্ট রিভিউ নিয়ে ব্লগে লেখেন তাহলে বিভিন্ন প্রোডাক্টের রিভিউ লিখে সেখানে এফিলিয়েট লিংক সেট করে আয় করতে পারেন।যদি বাংলায় ব্লগ লেখেন তবে দারাজ, বিডিশপে যোগাযোগ করতে পারেন। আর যদি ইংরেজিতে প্রোডাক্ট রিভিউ নিয়ে ব্লগিং করেন তাহলে আমার পরামর্শ থাকবে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটের এফিলিয়েট নিয়ে কাজ করার এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট নিয়ে রিভিউ লিখবেন। সেক্ষেত্রে আমার সুপারিশ হচ্ছে warrior plus , এই মার্কেট নিয়ে কাজ করলে দুই দিক থেকে ইনকাম করতে পারবেন গুগল এডসেন্স এবং প্রোডাক্ট সেল। warrior plus এর কমিশন রেট অনেক বেশি। সো এখানে লসের কোন সম্ভাবনা নাই।
সিপিএ মার্কেটিং
সিপিএ মার্কেটিং ঠিক এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মতই তবে এখানে এফিলিয়েট এর চেয়ে ইনকাম কয়েক গুন বেশি। কিভাবে আপনি আর্টিকেল লেখে বা ব্লগের মাধ্যমে সিপিএ থেকে আয় করবেন চলুন দেখা যাক
আর্টিকেল লিখে যদি আপনি সিপিএ থেকে লাখ টাকা বা তার বেশি আয় করতে চান তাহলে আমার মতামত হচ্ছে আপনি ইংরেজিতে আর্টিকেল লেখেন অথবা ইংলিশ ব্লগিং করে। কারন সিপিএ মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে বাংলার চেয়ে ইংরেজিতে ব্লগিং করলে ইনকাম কয়েক গুন বেশি হবে।
তবে যারা নতুন ব্লগিং শুরু করতে চাচ্ছেন তাদের বাংলা আর্টিকেল রাইটিং দিয়ে শুরু করায় বেটার হবে। যদিও ইনকাম কম হবে তবে সফলতার মুখ দেখবেন।
বাংলায় ব্লগিং করে সিপিএ থেকে আয় করতে হলে, কিভাবে অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায় সে বিষয় আর্টিকেল লেখা শুরু করেন এতে ভালো আউটপুট পাবেন। ভিজিটর আসা শুরু হলে বিভিন্ন আকর্ষণীয় টাইটেল, সাব- টাইটেলে এডসটেরা মনিট্যাগের ডাইরেক্ট লিংক সেট করে দিন। এভাবে প্রতিটি আর্টিকেলে লিংক বসিয়ে পোস্ট করতে থাকুন। চাইলে সোশ্যাল বার, ব্যানার এড ও বসিয়ে দিতে পারেন এতে আয় বেশি হবে।
আরেকটি উপায় CPAgrip নামক মার্কেট প্লেসে একটা একাউন্ট খুলুন এবং সেখানে স্মার্ট লিংক তৈরি করেন। এরপর বিভিন্ন বোনাস রিলেটেড ব্যানার তৈরি করে সেই ব্যানারে স্মার্ট লিংক গুলো সেট করে দেন। (কিভাবে একাউন্ট ও স্মার্ট লিংক তৈরি করেবেন ইউটিউবে সার্চ দিন অথবা পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন আমি শিখিয়ে দেব)
আমার দেয়া টিপস মেনে যদি এভাবে আপনি নিয়মিত কাজ করে যান, মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা অনায়াসে আয় করতে পারবেন।
তবে আপনি যদি ব্লগিং দিয়ে শুরু করতে চান তাহলে এসইও (S E O) টা আয়ত্ত করতে হবে । এটা শেখা কঠিন কিছু না ,নিয়ম মেনে পোস্ট করলেই হবে।
এতক্ষন তো বললাম কন্টেন্ট রাইটিং এ দক্ষ হয়ে আয় করার উপায় গুলো। এখন বলবো ফ্রিল্যান্সিং এ দ্রুত সফল হওয়ার দ্বিতীয় ধাপ।
দ্বিতীয় ধাপ
ফেসবুক মার্কেটিং
বর্তমান সময়ে ফেসবুক মার্কেটিং চাহিদার শীর্ষে আছে বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে। অনলাইনে ই-কমার্স বিজনেস দিন দিন বেড়েই চলছে আর সেটি প্রচার ও প্রসারের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। আপনি ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেয়ার কৌশল গুলোয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন তাহলে আপনাকে ঠেকায় কে? যেমন এড রান করা, কোন ধরনের প্রোডাক্টসের জন্য কি এড রান করাতে হবে, লাইক ফলোয়ার বৃদ্ধির জন্য কোন ধরনের এড ক্যাম্পেইন করতে, কিভাবে কাস্টমার টার্গেট করতে হয় কিভাবে রিটার্গেট করতে, ফেসবুক শপ তৈরি করা, সেখানে প্রোডাক্ট আপলোড করা, কিভাবে অটোমেটিক মেসেজ রোবট সেটাপ করতে হয়,ইত্যাদি বিষয়ে এক্সপার্ট হোন। এই একটি মাত্র স্কিল আপনাকে সফলতা এনে দেবে।
কোথায় শিখবেনঃ ফেসবুক মার্কেটিং শেখার জন্য আপনাকে কোনো পেইড কোর্স করতে হবে না। ইউটিউবে হাজার হাজার ফ্রি টিউটোরিয়াল আছে দেখে দেখে প্রতিদিন প্রেক্টিস করতে পারেন সেই সাথে chatgpt, gemini এর সাহায্য নিতে পারেন এতে শেখার পথ আরো সহজ হবে।
সময়ঃ আপনি যদি দৈনিক ৬ঘন্টা করে সময় দেন তাহলে ৩মাসের মধ্যেই ফেসবুক মার্কেটিং এ খুটিনাটি শিখতে পারবেন।
কাজ পাবেন কোথায়ঃ লোকাল মার্কেটে একজন দক্ষ ফেসবুক মার্কেটারের চাহিদা এখন অনেক।প্রতিদিন লোকাল মার্কেট থেকে শত শত দক্ষ ফেসবুক মার্কেটারদের হায়ার করা হয়।আপনি যদি আন্তর্জাতিক মার্কেট কাজ করতে চান তাহলে fiverr, upwork, এই মার্কেটে একাউন্ট করার মাধ্যমে বিদেশি বায়ার দের সাথে কাজ করতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট
আপনি যদি ফেসবুক মার্কেটিং ভালো ভাবে শিখে থাকেন তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এর অর্ধেক কাজ এগিয়ে আছে।আপনি যদি এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্যই ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটস এপ ইত্যাদির ব্যবহার জানেন। এই
সোশ্যাল মিডিয়ায় আরেকটু এডভান্স কাজ শিখে নিলেই এটাই হবে আপনার ইনকামের মুল হাতিয়ার। ফেসবুক মার্কেটিং শিখে থাকলে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল করা আপনার কাছে কোন বিষয় না।কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার যত জটিল কাজ তার ৮০% ফেসবুক মার্কেটিং থেকেই শিখতে পারবেন।
কোথায় কাজ পাবেনঃ লোকাল মার্কেটে+ আন্তর্জাতিক মার্কেট উভয় জায়গাতেই হিউজ পরিমাণ কাজ পাবেন। মুল কথা দক্ষতা অর্জন করলে কাজের কোন অভাব নেই।
ড্রপ শিপিং
ফেসবুক মার্কেটিং শেখার আরেকটি বড় সুবিধা হচ্ছে ড্রপ শিপিং বিজনেস করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে কোনো বায়ারের উপর নির্ভর করতে হবে না।লোকাল মার্কেটে ড্রপ শিপিংয়ের হাজার হাজার প্রোডাক্ট সোর্চ রয়েছে।নিজে নিজেই পুরো বিষয় হ্যান্ডেল করতে পারবেন। কোনো স্টোর লাগবে না, প্রোডাক্ট সোর্সিং করতে হবে না। ফ্রিল্যান্সিং এ দ্রুত সফলতা পাবার সবচেয়ে কার্যকর একটা মাধ্যম ড্রপ শিপিং।
শিখতে কতদিন লাগবেঃ ১দিন সময়ও লাগবে না আপনার ড্রপ শিপিং বিজনেস শিখতে, ফেসবুক মার্কেটিং শেখা শেষ করেই ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করতে পারবেন। হ্যাঁ এখানে একটা বিষয় আছে সেটা উইনিং প্রোডাক্ট বাছাই করা। মাথা খাটিয়ে রিসার্স করে উইনিং প্রোডাক্ট গুলো খুজে বের করতে পারলেই দ্রুত সাকসেস হতে পারবেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে উইনিং প্রোডাক্ট খোজার ট্যাকনিক আয়ত্ত্ব করতে হবে। এটা তেমন কঠিন কিছু না, কিছুদিন প্রেক্টিস করলে অটোমেটিক বুঝতে পারবেন।
আমি নিজেও ড্রপ শিপিং বিজনেস করছি ১ বছর যাবত। প্রোডাক্ট কোথায় পাবেন কোথা থেকে শুরু করবেন ইত্যাদি বিষয় প্রয়োজনে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন কমেন্টের মাধ্যমে।
ই-কমার্স বিজনেস
আপনার যদি খরচ করার মত পর্যাপ্ত মুলধন থাকে তাহলে এই বিজনেস আপনার জন্য। ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার জন্য কমপক্ষে ১লাখ টাকা তহবিল থাকতে হবে। কারণ এখানে প্রোডাক্ট সোর্সিং করতে হয়। প্রথমে অল্প দিয়ে শুরু করেন, তারপর ধীরে ধীরে ব্যবসা বড় করেন। সম্ভব হলে চায়না থেকে প্রোডাক্ট এনে বিজনেস করেন এতে মুনাফা বেশি।
ফেসবুক/ইউটিউব (রিলস/শর্টস)
বর্তমানে সময়ে সবচেয়ে দ্রুততম উপায়ে জনপ্রিয় হওয়া বা সফল হওয়ার মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক রিলস এবং ইউটিউব শর্টস ভিডিও। আপনি যদি মনে করেন লেখালেখি আপনার দ্বারা হবে না, কিন্তু আপনার নির্দিষ্ট কোনো বিষয় প্রতিভা আছে, সেই প্রতিভা গুলোকে ভিডিওতে ধারন করেন।এই ভিডিও গুলোকে ছোট ছোট করে ফেসবুক ইউটিউবে আপলোড করে দেন। তাহলে এটাই হবে দ্রুত সময়ে ইনকামের একমাত্র পথ। একটানা দুই মাস এরকম ভিডিও আপলোড করে যান। ফেসবুক / ইউটিউবের ক্রাইটেরিয়া পুরন হলেই মনিটাইজেশনের অনুমোদন পেয়ে যাবেন, ব্যস আপনার টাকা ইনকাম করা শুরু হয়ে যাবে।
ইউটিউবে সার্স দিলে এরকম শত ভিডিও পাবেন যারা ভিডিও ব্লগিং করে মাসে লাখ টাকা আয় করছে।
শপিফাই স্টোর ডিজাইন
কম সময়ে ফ্রিল্যান্সিং থেকে সফলতা পাবার আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে শপিফাই স্টোর ডিজাইন শেখা। আন্তর্জাতিক মার্কেটে এর চাহিদা ব্যপক, বিশেষ করে উন্নত দেশের বায়াররা ই-কমার্স বিজনেসের জন্য শপিফাই প্লাটফর্ম কে বেশি পছন্দ করে। তাই আপনি যদি শপিফাই স্টোর ডিজাইন শিখতে পারেন তাহলে আর পিছু ফিরে তাকাতে হবে না।
শেখার সময়কালঃ সর্বোচ্চ দেড় থেকে ২ মাসের মধ্যেই পুরো শপিফাই ডিজাইন শিখতে পারবেন।
কোথায় কাজ পাবেনঃ fiverr, upwork, freelancer. Com, guru ইত্যাদি মার্কেট প্লেসে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইন
যারা নতুন এবং দ্রুত সফল হতে চান তাদেরকে এই চ্যাপ্টারের আলোচনা নিয়ে প্রথমে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে উৎসাহ দেবো না। তবে হ্যাঁ আপনার হাতে যদি পর্যাপ্ত সময় থাকে এবং শেখার প্রবল ইচ্ছে থাকে তবেই এগুলো নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন কারন এই চ্যাপ্টারের পরিধি ব্যপক তাই শিখতেও সময় বেশি লাগে, আর ইনকামও এখানে অনেক অনেক বেশি, মার্কেটে চাহিদাও হাই।
এ আই প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এ আই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের নতুন দিগন্তের দিকে। এ আই হচ্ছে বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং জগতের মুকুট। আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর যেই সেক্টরেই কাজ করেন না কেন AI সম্পর্কে ধারণা থাকতেই হবে এবং Ai এর ব্যবহার করতেই হবে, না হলে ভবিষ্যতে ফ্রিল্যান্সিং থেকে ছিটকে পড়বেন।কারণ আগামীর পথ হবে এ আই নির্ভর তাই যতই দিন যাচ্ছে ততই AI এর চাহিদা বাড়ছে। আপনি যদি এ আই ভালো করে শিখে নিতে পারেন ভবিষ্যত নিয়ে আর কোন চিন্তা করতে হবে না।
সময়ঃ এ আই এর পরিধি অনেক বড় তাই এটি ভালো ভাবে শিখতে হলে ৬মাস থেকে ১বছর সময় লাগবে।তবে শুধু শিখে বসে থাকলেই হবে না সব সময় আপডেট থাকতে হবে কারণ AI এর ধারা, ফিচার, নিয়ম প্রতিনিয়ত আপডেট হয় পরিবর্তন হয়। তাই নিজেকেও আপডেট থাকতে হবে।
ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট
ইভার গ্রিন একটা নিশ হচ্ছে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর চাহিদা কখনো কমে না আর কমবেও না।যতদিন ওয়েবসাইট থাকবে থাকবে ততদিন এই ওয়েব ডিজাইন থাকবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন একবার শিখে নিতে পারলে সারা জীবন বসে কাটাতে পারবেন কারন ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে বেশি ইনকাম করা যায় এই সেক্টর থেকে।
শেখার সময়কালঃ ফ্রিল্যান্সিং এর এই সেক্টর অনেক বড় তাই এটি শিখতে ১ থেকে ২ বছর সময় হাতে নিয়ে শুরু করা উচিৎ। তবে ব্যাকেন্ড ডিজাইন, ফ্রন্ডেড ডিজাইন, ফুল স্ট্যাক ডেভেলপমেন্ট আলাদা আলাদা ভাবে শিখেও ক্যারিয়ার শুরু করা যায়।
এপ্স ডিজাইন
এপ্স ডিজাইনের চাহিদাও ওয়েব ডিজাইনের মত। যতদিন ওয়েব ডিজাইন থাকবে ততদিন এপ্স ডিজাইনও থাকবে কারন এট বিজনেস এবং অর্গানাইজেশন বা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত।
আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন শিখে ফেলেন তাহলে এপ্স ডিজাইন আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে। কারন এ দুটির কাজ প্রায় কাছাকাছি।
সময়ঃ কমপক্ষে ৬মাস থেকে ১ বছর ।
UX/UI ডিজাইন
Ux হচ্ছে user experiences আর UI হচ্ছে user interfac। এই দুটি মুলত ওয়েব ডিজাইন এবং এপ্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন। UX ওয়েবসাইট বা এপের কাঠামো বা ভিত্তি আর UI এর কাজ হচ্ছে সেই কাঠামোকে আরও সৌন্দর্য মন্ডিত করা। যেহেতু ওয়েবডিজাইন এবং এপ্স ডিজাইনের ভবিষ্যতে বেশ ভালো। তাই UX/UI ডিজাইনারের চাহিদা ও বেশ ভাল।
মানুষ বাজারে কম্পিটিশন করে টিকে আছে, তাই কম্পিটিটরকে টিক্কা দিতে নতুন নতুন লুক নতুন ডিজাইন দিচ্ছে কাস্টমারদের ধরে রাখতে।
সময়কালঃ ৬ মাস থেকে ১ বছর।
গ্রাফিক্স ডিজাইন
ডিজাইন জগতের সুচনা থেকে আজ পর্যন্ত চলে আসছে গ্রাফিক্স ডিজাইন। বিজ্ঞাপন, ব্যানার তৈরি, পোস্টার, এনিমেশন, ইত্যাদি কাজের জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাহিদা সব সময় তুংগে। এর ভেতরে আরো ছোট ছোট ভাগ আছে, সব গুলো একসাথে শিখতে হলে ২-৩ বছর লেগে যাবে তাই এর ভেতরে ছোট ছোট যে কোন কোন একটি বিষয় দিয়ে শুরু করায় বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন মোশন গ্রাফিক্স দিয়ে শুরু করতে পারেন,অথবা এনিমেশন দিয়ে শুরু করতে পারেন।
পরিশেষে বলি, ফ্রিল্যান্সিংএ সফল হতে চাইলে এদিক সেদিক ছোটাছুটি বন্ধ করে নির্দিষ্ট একটা নিশ বেছে নিন, যেই কাজ করতে আপনি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন সেটা দিয়েই শুরু করে দেন। একবার ডিজিটাল মার্কেটিং তো আরেকবার গ্রাফিক্স ডিজাইন, আবার হয়তো ওয়েব ডিজাইন, ফলাফল কি দ্বারায় কিছুদিন কাজ করে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। ফলে কোনোটাই শেষ করতে পারেন না, দিন শেষে হতাশা নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং ছেড়ে দেন। আমার দেয়া গাইড লাইন ফলো করেন আর ধর্য্য ধরে কাজ করে যান হাল ছাড়বেন না ১০০% সফলতা আসবে।
উপরে উল্ল্যেখিত টপিক ছাড়াও আরো অনেক টপিক আছে যেকোন বিষয় নিয়েই কাজ করতে পারেন যদি আপনার সেই বিষয়ে আগ্রহ বেশি থাকে এই টপিক দিয়েই যে শুরু করতে হবে এমন না। তবে আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বিষয়টা শেয়ার করলাম, এভাবে শুরু করলে ফ্রিল্যান্সিং সফলতা তাড়াতাড়ি আসবে বলে আমি আশা করি।
দ্রুত সফল হওয়ার আমার বাস্তব রোডম্যাপ
পরামর্শ ১: একটা মাত্র বিষয় বেছে নিন। সবজান্তা হওয়ার কোন দরকার নেই।
পরামর্শ ২: ইউটিউব থেকে শেখা শুরু করেন এবং প্রতিদিন প্র্যাকটিস করেন।
পরামর্শ ৩: নিজের কিছু স্যাম্পল কাজ বা পোর্টফোলিও তৈরি করেন। মনে রাখবেন , ক্লায়েন্ট আপনার সার্টিফিকেট দেখবে না, কাজ দেখবে তাই কাজের মান ঠিক রাখে।
পরামর্শ ৪: এরপর মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট খুলে কাজ শুরু করে দেন প্রতিদিন অন্তত ১০টা করে বিড করেন।
পরামর্শ ৫: সব স্কিল মেলানোর চেষ্টা করেন যেমন রাইটিংয়ের সাথে যদি এসইও জানেন, তবে আপনার ডিমান্ড কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
পারফেক্ট হওয়ার জন্য বসে না থেকে শুরু করে দেন, কাজ করতে করতেই শিখবেন। মনে রাখবেন আজ যারা পারফেক্ট একদিন তারাও নতুন ছিল।
শেষ কথা
ফ্রিল্যান্সিং মানে শুধু টাকা না, এটা একটা স্বাধীনতা। কিন্তু এই স্বাধীনতা পেতে হলে শুরুর কয়েক মাস ঘাম ঝরাতে হবে। যদি দিনে ২-৩ ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে সময় দিতে পারেন, তবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে আপনিও নিজের সফলতার গল্প লিখবেন।আজই একটা কাজ করো ঝেড়ে কাশফুলে মন না দিয়ে, ইউটিউবে গিয়ে আপনার পছন্দের নিশের ওপর অন্তত ৩টি টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখেন। শুরুটা আজ থেকেই হোক!


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url