OrdinaryITPostAd

অনলাইনে ব্লগিং করে ইনকাম করার সহজ উপায়: সম্পূর্ণ গাইডলাইন

 ভূমিকা


ব্লগিং কি এর ভবীষ্যত কেমন

বর্তমানে অনলাইন থেকে ইনকামের জনপ্রিয় মডেল হচ্ছে ব্লগিং, এখন প্রশ্নটা হচ্ছে ব্লগিং কি?।  ব্লগিং হচ্ছে নিজের জ্ঞান,অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর লেখালেখি করে অনলাইনে প্রকাশের মাধ্যমে সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ব্লগিং। এটা অনলাইনে নিয়মিত আর্টিকেল প্রকাশ করার একটি প্রক্রিয়া । blog  শব্দটি এসেছে মূলত weblog থেকে । 

স্মার্ট ফোন আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এখন ৯০% মানুষ সরাসরি অনলাইনে যুক্ত। তাই মানুষ কোন কিছু খুঁজে এখন ইন্টারনেটে সার্চ করে সমাধান পাওয়ার জন্য। এজন্য ব্লগিং এর জনপ্রিয়তা এখন অনেক বেশি ।শুরুর দিকে মানুষ ব্লগিং করত শখ করে বা ব্যক্তিগত ডায়েরি হিসেবে। কিন্তু বর্তমানে এটি ইনকামের জনপ্রিয় মাধ্যম এবং সম্মানিত একটা পেশায় পরিণত হয়েছে। ব্লগে জনপ্রিয় হওয়ার বেশ কিছু কারণ ও রয়েছে যেমন স্বাধীনভাবে কাজ করা যায়, নিজস্ব ব্র্যান্ডিং তৈরি করা যায়, ইনকামের দারুন সুযোগ। তাই তরুণ প্রজন্ম ব্লগিংয়ে দিকে বেশি ঝুকছে এবং স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়ছে। আপনি যদি লেখালেখি করতে ভালোবাসেন এবং অনলাইনে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চান তবে ব্লগিং হতে পারে আপনার জন্য সেরা একটি প্ল্যাটফর্ম।

ব্লগিং করে ইনকামের করার সহজ উপায়

কন্টেন্ট রাইটিং করে ইনকামের সহজ উপায়,

জানতে এখানে ক্লিক করুন



ব্লগিং কিভাবে শুরু করব

এই আর্টিকেলে আমরা একদম শূন্য থেকে শুরু করে কিভাবে একটি সফল ব্লগ তৈরি করা যায় তার একটি স্টেপ বাই স্টেপ গাইড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব চলুন তাহলে শুরু করা যাক।



নিশ নির্বাচন করা

ব্লগিং, ইউটিউব বা অনলাইনে যেকোনো কাজের জন্য নিশ একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নিশ হল নির্দিষ্ট একটা বিষয় নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি আপনি নিশ ঠিক না করে কোন বিষয়ে সাকসেস হতে পারবেন না। একটা সুনির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে ব্লগিং শুরু করতে হয়।যেমন ধরুন আপনি বাজারে গেলেন এখন আপনার যদি কাঁচা মাল আলু, পটল, বেগুন, ইত্যাদি দরকার হয় তাহলে নিশ্চয়ই কাঁচামালের দোকানে যাবেন। আবার আপনার যদি শাড়ি কাপড়ের দরকার হয় তাহলে কাপড়ের দোকানে যাবেন। আবার আপনার যদি কোন ইলেকট্রনিক্স জিনিসের দরকার হয় অবশ্যই ইলেকট্রনিক্সের দোকানে যাবেন। আপনি কি কখনো এমন দোকান দেখেছেন যেখানে শাড়ি কাপড় কাঁচামাল ইলেকট্রনিক্স জিনিস সবকিছু একসাথে পাওয়া যায়? উত্তর আসবে না।

কারণ এটা ব্যবসায় সফল হওয়ার কোন মাধ্যম বা সিস্টেম না। ব্যবসা করতে হলে বা ব্যবসায় সফল হতে হলে অবশ্যই একটা নির্দিষ্ট পণ্যের উপর ফোকাস করতে হবে নিশ ঠিক তেমনি একটা বিষয়। অনলাইনে সবগুলো বিষয় একসাথে নিয়ে কখনো কাজ করা যায় না।  নির্দিষ্ট বিষয়কে ফোকাস করে সামনের দিকে এগোতে হয়। অনলাইনে কাজ করার জন্য অনেকগুলো নিশ রয়েছে তবে এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এবং ট্রেন্ডিং কিছু নিশ হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, এফিলিয়েট মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ইত্যাদি।নিশ যদি সুনির্দিষ্ট হয় তবে টার্গেটেড অডিয়েন্স এর কাছে সহজেই পৌঁছানো যায় এবং ওই বিষয়ে এক্সপার্ট হওয়া যায়।

তবে  নিশ নির্বাচনের জন্য অবশ্যই নিজের জ্ঞান আছে, প্যাশন আছে, দীর্ঘদিন লিখতে পারবেন এমন বিষয় বেছে নেওয়া ভালো। এতে করে লেখালেখির প্রতি একঘেয়েমি বা বিরক্ত আসবেনা। নিশ চূড়ান্ত করার আগে আরো একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে মানুষের চাহিদা আছে, মার্কেটে কম্পিটিশন কম, এমন বিষয়ে বাছাই করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বড় কোনো নিশের অধীনে ছোট মাইক্রোনিশ নিয়ে কাজ করা বুদ্ধিমানের কাজ এতে সফলতার সম্ভাবনা বহু গুণ বেড়ে যায়।


প্ল্যাটফর্ম বাছাই করা

ব্লগিংয়ের জন্য প্লাটফর্ম বাছাই করা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ প্ল্যাটফর্ম নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে  পরবর্তীতে মাইগ্রেশন করতে গেলে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। এসইও র‍্যাংক বা ট্রাফিক হারানোর ঝুঁকি থাকে ।তাই আপনারা ব্লগিংয়ের ধরন বুঝে তারপর প্ল্যাটফর্ম বাছাই করতে হবে।

ব্লগার

গুগলের এই প্লাটফর্মটি তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো যারা প্রাথমিক অবস্থায় কোন বিনিয়োগ ছাড়া ব্লগিং শুরু করতে চান। যারা অনলাইন ইনকাম, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, নিয়ে ব্লগিং করে এডসেন্স থেকে ইনকাম করতে চান কিন্তু বাজেট কম। তারা গুগলের এই প্লাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারেন। এখানে হোস্টিংয়ের জন্য কোন খরচ নেই শুধুমাত্র ডোমেইন কিনে গুগলে সেটআপ করে দিলেই হলো। এটি গুগলের সার্ভিস হওয়ায় ওয়েবসাইট ডাউন হওয়ার কোন ভয় নাই এবং SSL  সার্টিফিকেট আজীবনের জন্য ফ্রি।

ওয়ার্ডপ্রেস

বর্তমানে বিশ্বের ৪০% এর বেশি ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেসে তৈরি। এটি একটি ওপেন সোর্স প্লাটফর্ম যেখানে ওয়েবসাইটের ১০০% নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে থাকে। যারা ব্লগিংকে সিরিয়াস পেশা হিসেবে নিতে চান তাদের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস সবচেয়ে ভালো। কারণ এর আলাদা কিছু সুবিধা আছে যা ব্লগারে নাই। যেমন ওয়ার্ডপ্রেস এ হাজার হাজার ফ্রি থিম রয়েছে। এসইও করার জন্য Rankmath,  ও  yoast এর মত শক্তিশালী প্লাগিন আছে যেকোনো কাস্টম ফিচার সহজেই যুক্ত করা যায় ইত্যাদি আরো অনেক সুবিধা যেমন ই-কমার্স সাইট তৈরী করা যায়।

কারা ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করবেন?

যারা রেডিমেড অডিয়েন্স এবং পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং করতে চান।

যারা পেইড সাবস্ক্রিপশন এবং নিউজ লিটার নিয়ে কাজ করতে চান।

যারা পোর্টফলিও বা বিজনেস ওয়েবসাইটের সাথে কাজ করতে চান।

অর্থাৎ আপনি যদি ওয়েবসাইট দিয়ে শক্তিশালী কোন কাজ বা ডিজাইন করতে চান তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস সবচেয়ে ভালো আর নরমাল ভাবে যদি শুধু লেখালেখি করে আয় করতে চান তাহলে ব্লগারই যথেষ্ট।

ডোমেইন নির্বাচন ও কাস্টম ডোমেইন কানেক্ট করার নিয়ম

একটি ওয়েবসাইট তৈরির প্রথম ধাপ হচ্ছে ডোমেইন ঠিক করা। ডোমেইন ছাড়া  ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যায় না তাই সর্বপ্রথমে একটি ছোট আকর্ষণীয় এবং নিশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে  ডোমেইন নাম নির্বাচন করতে হবে। সব সময় চেষ্টা করবেন একটি ডট কম অথবা ডটনেট ডোমেইন কেনার।কারণ এই ধরনের ডোমেইনের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। কখনোই  ডোমেইনের মধ্যে হাইফেন বা সংখ্যা ব্যবহার করা উচিত না। একটি .com ডোমেইন আপনার ব্রান্ডের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি ভিজিটরদের কাছে আপনার সাইটের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ায়। আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে প্রভাইডারের কাছ থেকে সরাসরি ওয়ার্ডপ্রেসে নিয়ে গিয়ে আপনার সাইটে ডোমেইন হোস্টিং সেটিং করার সিস্টেম আছে।

আর যদি ব্লগার দিয়ে ওয়েবসাইট বানাতে চান তাহলে গুগলের ডিফল্ট ডোমেইন বাদ দিয়ে আপনাকে কাস্টম  ডোমেইন সেভ করতে হবে সে ক্ষেত্রে ডোমেইন প্রভাইডারের কাছ থেকে ডিএনএস অপশন থেকে CNAME এবং A RECORD সংগ্রহ করে সেটি গুগল ব্লগারের সাইটে এসে সঠিকভাবে বসিয়ে দিলে ব্লগারের সাথে কানেক্ট করা যায়।

ব্লগ সেটআপ এবং ডিজাইন

একটা ওয়েবসাইটের ৮০%  ভিজিটর আসে মোবাইল ফোন থেকে তাই আপনার ওয়েবসাইট যেন রেসপন্সিভ ডিজাইনের হয় সেদিকে খেয়াল রেখে থিম সিলেক্ট করতে হবে।

রেস্পন্সিভ ডিজাইন বলতে এমন একটি লেআউটকে বুঝায় যা মোবাইল, ট্যাবলেট, বা কম্পিউটার যেকোন ডিভাইসের স্ক্রিনের আকারের সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানিয়ে নেয়। ওয়েবসাইটের থিমকে এমনভাবে কাস্টমাইজ করতে হবে যেন যে কেউ যেকোনো ডিভাইস ব্যবহার করে আপনার ওয়েবসাইটে আসুক না কেন আপনার ছবি, টেক্সট যেন সঠিকভাবে সাপোর্ট করে। তা না হলে ভিজিটররা বিরক্ত হয়ে আপনার সাইট থেকে বেরিয়ে যাবে। এতে করে বাউন্স রেট বেড়ে যাবে যা ওয়েবসাইট র‍্যাংক এর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়াও গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন  মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইটগুলোকে খুব দ্রুত র‍্যাংক করে থাকে।

অ্যাডসেন্সের জন্য আবশ্যক ৪টি পেজ

একটি ওয়েবসাইটকে প্রফেশনাল মাপের তৈরি করতে এবং ভিজিটরদের কাছে বিশ্বস্ত করে তুলতে সেই সাথে google এডসেন্স পাওয়ার জন্য নিচের কয়েকটি পেজ থাকা বাধ্যতামূলক।

About Us এই পেজে আপনার ব্লগের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, এবং আপনার নিজের সম্পর্কে বর্ণনা থাকে।

Contact Us ভিজিটর বা স্পন্সররা যেন আপনার সাথে সহজেই যোগাযোগ করতে পারেন সে জন্য একটি কন্টাক্ট ফর্ম বা ইমেইল ঠিকানা এখানে যুক্ত করতে হবে।

Privacy Policy ব্যবহারকারীদের ডেটা বা কুকিজ এটা কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার স্পষ্ট ভাবে জানাতে এই পেজটি ব্যবহৃত হবে।

Terms& Condition ওয়েবসাইট ব্যবহারের আইনের নিয়ম কানুন ও শর্তাবলী এই পেজে উল্লেখ থাকে।

মেনু বার ক্যাটাগরি এবং ফুটার সেটআপ

একটি ওয়েবসাইটের কনটেন্ট গুলোকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য ক্যাটাগরি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। ক্যাটাগরি অনুযায়ী টপে  মেনুবার সেট করা জরুরী, আপনি যে বিষয়ে লেখালেখি করেন এই   বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভাগ করে মেইন মেনুতে যুক্ত করুন। সেই সাথে ওয়েবসাইটের একদম নিচে ফুটার অংশে সোশ্যাল মিডিয়া লিংক কপিরাইট নোটিশ এবং গুরুত্বপূর্ণ পেজ গুলো যুক্ত করে পেজকে পরিপূর্ণ রূপ দেন।

নেভিগেশন সহজ করার উপায়

ব্লগের নেভিগেশন সিস্টেম যত পরিষ্কার হবে ভিজিটররা সাইটে ততো বেশি সময় কাটাবেন। তাই নেভিগেশন সিস্টেম সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। যদি মেনু বারে  ড্রপডাউন ব্যবহার করেন তাহলে সেটি যেন দীর্ঘ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভিজিটররা ওয়েবসাইটে ঢুকেই যেন তার কাঙ্খিত পোস্ট পেয়ে যায় তার জন্য সাইটে একটি সার্চ বার যুক্ত করতে হবে। সেই সাথে রিসেন্ট এবং পপুলার পোস্ট গুলোর কালার  কম্বিনেশন করে নেভিগেশন সাজালে দেখতে অনেক সুন্দর হয়।

কীওয়ার্ড রিসার্চ এবং এসইও

মানুষ গুগলে যে শব্দ বা বাক্য লিখে কোন কিছু খোঁজার জন্য বা তথ্য জানার জন্য সার্চ করে তখন সেই শব্দ বা বাক্যকে  বলা হয় কিওয়ার্ড। এই কিওয়ার্ড দুই ধরনের হয়ে থাকে একটা হচ্ছে শর্ট টেইল কিওয়ার্ড যেমন "ফ্রিল্যান্সিং"  " অনলাইন ইনকাম" আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে লং টেইল কিওয়ার্ড যেমন "কিভাবে মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শিখব"   " কিভাবে অনলাইন থেকে সহজে ইনকাম করা যায়"

যেকোনো ওয়েবসাইট গুগলে র‍্যাংক করানোর জন্য এই কিওয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথম পাতায় আনতে হলে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে ভ্যালুয়েবল কীওয়ার্ড খুঁজে বের করতে হয়। ইচ্ছেমতো যেনতেন কিওয়ার্ড বসিয়ে দিলেই কাজ হবে না ।এমন কিওয়ার্ড খুঁজে বের করতে হবে যেটা আপনার লেখা আর্টিকেলের সাথে মানানসই, সার্চ ভলিউম আছে, এবং কম্পিটিশন কম। নতুন অবস্থায় লং টেইল কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করলে দ্রুত সফল হওয়া যায় ।কারণ শর্ট টেইল কিওয়ার্ড এর  কম্পিটিটর বেশি থাকে পক্ষান্তরে লং টেল কিওয়ার্ড এর কম্পিটিটর কম থাকে বলে র‍্যাংক করানো সহজ হয়।

একটা সাইটকে র‍্যাংক করানোর জন্য এইটুকুই যথেষ্ট নয় ঠিকভাবে এসইও করতে হবে। এসইও তিন প্রকারের (এসইও চ্যাপ্টারের ডিটেলস আলোচনা আছে) এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অন পেজ  এসইও।

অন পেজ এসইও করার জন্য নিচের কয়েকটি বিষয় ফলোআপ করতে হবে

টাইটেল অপটিমাইজেশন একটা আর্টিকেলের প্রথম যে শর্ত সেটা হচ্ছে টাইটেল থাকতে হবে এবং টাইটেলটা আকর্ষণীয় হতে হবে টাইটেলের মধ্যে মূল কীওয়ারটি থাকতে হবে।

মেটা ডেসক্রিপশন আমরা যখন কোন কিছু লিখে সার্চ করি তখন টাইটেলের ঠিক নিচে ছোট করে কিছু লেখা থাকে এটা হচ্ছে মেটা ডিস্ক্রিপশন। এখানে ফোকাস কিওয়ার্ড যুক্ত করে পুরো আর্টিকেলের সারাংশ সুন্দর সাবলীল ভাষায় আকর্ষণীয় একটা ডিসক্রিপশন লিখতে হবে। যাতে ভিজিটররা  এটি দেখে ক্লিক করতে বাধ্য হয়।

 পারমালিংক আমরা যে টাইটেল ব্যবহার করি সেই টাইটেলের ইংরেজি একটা ইউ আর এল  পারমালিংকে যুক্ত করতে হবে। যেটি হবে ছোট আকর্ষণীয় এবং অর্থবহ পারমালিংকে অপ্রয়োজনীয় কোন শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।

হেডিং আর্টিকেল এর ভেতরের বিষয়বস্তু আলাদা করার জন্য হেডিং ব্যবহার করা হয়। হেডিংগুলো অবশ্যই কিওয়ার্ড সমৃদ্ধ হতে হবে। হেডিং কে H দ্বারা প্রকাশ করা হয়।অন পেজ  এসইও করার জন্য h1 থেকে h6 পর্যন্ত হেডিং ট্যাগ আছে। এখানে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে হেডিং ট্যাগ বসাইতে হয়। যেমন ধরেন আপনি যদি H1 ট্যাগ  কোথাও ব্যবহার করেন তারপরে H2, H3, H4, H5, H6  ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু যদি H4 ট্যাগ বসানোর পরে আবার H1 বা H2  ট্যাগ ব্যবহার করতে  চান তাহলে হবে না।

এছাড়া সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত র‍্যাংক করানোর জন্য আপনার সাইটকে গুগল সার্চ কনসোল যুক্ত করতে হবে এবং সেই সাথে সাইট ম্যাপ যুক্ত করতে হবে।


কোয়ালিটি কন্টেন্ট লেখা ও পাবলিশ করা

একটা আর্টিকেলের মূল প্রাণ হচ্ছে কন্টেন্ট তাই সব ধরনের পাঠক যাতে বুঝতে পারে সেজন্য সহজ সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় আর্টিকেল লিখতে হবে। পাঠক ধরে রাখার জন্য রিডার ফ্রেন্ডলি এবং ছোট ছোট প্যারা করে লিখতে হবে  প্রয়োজনে বুলেট বা পয়েন্ট আকারে লিখতে হবে এতে করে পাঠকের একঘেয়েমী হবে না। 

ব্লগিংয়ে সফল হতে হলে অবশ্যই নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে ইউনিক কিছু লিখতে হবে। কখনো অন্যের বা google এর কোন আর্টিকেল কপি পেস্ট করা যাবে না এতে সাইটে পেনাল্টি আসতে পারে। তাই ১০০% নিজের লেখা ইউনিক আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করবেন। সেইসাথে আর্টিকেলের বিষয়বস্তুকে প্রাণবন্ত করে তুলতে শুধুমাত্র টেক্সট না লিখে আর্টিকেলের সাথে প্রাসঙ্গিক ছবি ব্যবহার করুন এটি পাঠকদের মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ব্লগিং নিয়ে সফলতা পেতে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে নিয়মিত কন্টেন্ট পাবলিশ করা। নিয়মিত কন্টেন্ট পাবলিশ করলে পাঠকদের বিশ্বস্ততা বাড়ে সেই সাথে google ও আর্টিকেল কে দ্রুত র‍্যাংক করায়।

 ব্লগের প্রমোশন ও ট্রাফিক বৃদ্ধি

ব্লগের ট্রাফিক বৃদ্ধি বা প্রমোশনের জন্য কয়েকটা পদ্ধতি ফলো করতে পারেন

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে ট্রাফিক ওয়েবসাইটে নিয়ে আসা যায় বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহার করে ট্র্যাফিক আনা এখন অনেক সহজ।  আপনি একটা প্রফেশনাল ফেসবুক পেজ তৈরি করে সেখানে নিয়মিত কনটেন্ট আপলোড করতে থাকেন এতে প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর ওয়েবসাইটে নিয়ে আসা যাবে।

গেস্ট পোস্টিং ও ব্যাকলিংক

নতুন ব্লগে ভিজিটর আনার একটি কৌশল হচ্ছে গেস্ট পোস্টিং।  আপনি জনপ্রিয় কোন ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লিখে দিয়ে তার বিনিময়ে সেখানে আপনার সাইটের লিংক ব্যবহার করে আপনার সাইটে ভিজিটর নিয়ে আসতে পারেন এতে করে আপনার সাইটের অথরিটি এবং বিশ্বস্ততা বাড়বে।

অর্গানিক ট্রাফিক ও এসইও

ব্লগে অর্গানিকভাবে ট্রাফিক আনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা উপায় হচ্ছে এসইও। ব্লগ সাইটে সবচেয়ে মূল্যবান ট্রাফিক আসে এই এসইও এর মাধ্যমে। তবে এসইও এর মাধ্যমে ট্রাফিক আনা বেশ ধৈর্য সাপেক্ষ ব্যাপার। সার্চ ইঞ্জিনে রেঙ্ক করে অর্গানিক ট্রাফিক আনার জন্য মানসম্মত কনটেন্টের কোন বিকল্প নেই নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট পাবলিশ করে দিতে হবে।

ব্লগিং করে ইনকাম করার উপায়

আপনার ওয়েবসাইটে যখন অর্গানিক ট্রাফিক আসতে শুরু করবে তখন সেখান থেকে কয়েকটি উপায়ে ইনকাম করা যায় যেমন

Google এডসেন্স থেকে

ব্লগিং থেকে ইনকাম করার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে এডসেন্স নতুন থেকে শুরু করে প্রফেশনাল মানের সবাই সব ধরনের ব্লগার এডসেন্স থেকে ইনকাম করে থাকে। তবে এক্ষেত্রে গুগলকে বুঝাতে হবে আপনার কনটেন্টগুলো তথ্যবহুল ও নির্ভরযোগ্য এবং ইউনিক সেই সাথে আপনার ওয়েবসাইটে About us, contact us, privacy policy, term and condition এই পেজগুলো বাধ্যতামূলকভাবে থাকতে হবে।

ওয়েবসাইটের নেভিগেশন একদম পরিষ্কার থাকতে হবে এবং কপিরাইট যুক্ত কোন কনটেন্ট থাকা যাবে না এসব নিয়ম মেনে এডসেন্স এর জন্য আবেদন করলে তারা আবেদন approve করে দেবে এবং গুগল থেকে আপনার সাইটে একটা বিজ্ঞাপন দেখানো হবে যার বিনিময়ে একটা রেভিনিউ আপনি পাবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

গুগল এডসেন্সের পাশাপাশি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে ইনকাম বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। আপনি যে বিষয় নিয়ে আর্টিকেল লেখেন তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই রিলেটেড লিংক সেখানে শেয়ার করবেন কেউ আপনার লিংকে ক্লিক করে প্রোডাক্ট কিনলে আপনি একটা কমিশন পাবেন।

স্পন্সর পোস্ট এবং নিজস্ব সার্ভিস বিক্রি করে ইনকাম

আপনার সাইটের যখন অথরিটি বাড়বে তখন বিভিন্ন ব্রান্ড প্রোমোটাররা আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। আপনি তাদের কাছ থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নিয়ে তার বিনিময়ে তাদের ব্রান্ডকে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে প্রমোট করে দেবেন।এছাড়াও আপনার যদি নিজস্ব কোন পণ্য থাকে যেমন কোন ডিজিটাল প্রোডাক্ট বা ই-বুক সেগুলো বিক্রি করেও আপনার ওয়েবসাইট থেকে আপনি ইনকাম করতে পারেন।

উপসংহার

ব্লগিং করে ইনকাম করার জন্য দরকার মানসম্মত কনটেন্ট নিয়মিত কনটেন্ট পাবলিশ করা এবং ধৈর্য সহকারে কাজ করা সেইসাথে সঠিকভাবে এসইও করে গেলে ব্লগে থেকে ভালো পরিমাণে একটা প্যাসিভ ইনকাম করা সম্ভব। সুতরাং আপনি যদি অনলাইন ক্যারিয়ার গড়তে চান আমার মতামত আপনি ব্লগিং থেকে আপনাকে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন এটা তুলনামূলকভাবে সহজ এবং কম সময় লাগে তবে আর্টিকেল লেখার মানসিকতা থাকতে হবে ।

                                                                    আরও পড়ুন

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url