OrdinaryITPostAd

ঘরে বসে দারাজে ব্যবসা: নতুন সেলারদের জন্য ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ গাইড

 

ভূমিকা

দোকান ভাড়া নেই, ডেকোরেশনের খরচ নেই, শুধু একটি স্মার্টফোন আর সঠিক পরিকল্পনা, এতেই আজ অনেকে দারাজে ব্যবসা শুরু করছেন। কিন্তু ভুল পণ্য বাছাই বা ভুল প্রাইসিংয়ের কারণে অনেক নতুন সেলার শুরুতেই লোকসানে পড়েন। আপনি যেন সেই ভুল না করেন, তাই এই গাইডে একাউন্ট খোলা থেকে বিক্রি বাড়ানো পর্যন্ত সবকিছু ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে।

বর্তমান সময়ে যদি বিজনেসের কথা বলা হয় তবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছে ই-কমার্স বিজনেস। বর্তমানে এই ডিজিটাল যুগে মানুষ এখন আর মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা না করে ঘরে বসেই অনলাইনে পণ্য অর্ডার করে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে ই-কমার্স বিজনেসের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। শহর থেকে গ্রাম সব জায়গাতেই এখন ক্রেতারা পছন্দের পণ্য অর্ডার করছেন কয়েকটি ট্যাপে। আর বাংলাদেশের এমন একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এর নাম হচ্ছে দারাজ, যার জনপ্রিয়তা এখন সবার শীর্ষে। বিস্তৃত পণ্য, নিয়মিত দারুন সব অফার, ক্যাশ অন ডেলিভারি, এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে পণ্য পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে দারাজ এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছে, সেই সাথে ক্রেতা বিক্রেতাদের আস্থাও ধরে রেখেছে কয়েক বছর ধরে। তাই দেশের মানুষের অনলাইনে কেনাকাটার একমাত্র ভরসা এখন দারাজ।

তবে দারাজ এখন শুধু কেনাকাটা বা ক্রেতা বিক্রেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং উদ্যোক্তাদের জন্য দারুন সুযোগ তৈরি করেছে। আপনি যদি চান অল্প পুঁজিতে অনলাইনে ব্যবসা করবেন তাহলে দারাজ আপনাকে সেই সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে । প্রয়োজন শুধু আপনার ইচ্ছা শক্তি পরিশ্রমের আর সঠিক পরিকল্পনা।

দারাজ সেলার একাউন্ট,দারাজের সাথে ব্যবসা করে আয়,ঘরে বসে প্যাসিভ ইনকাম
দারাজ সেলার হয়ে আয় শুরু থেকে সফল হওয়ার সম্পুর্ণ গাইড



এই তিনটি বিষয়ে যদি আপনার ঠিক থাকে তাহলে আজ থেকেই দারাজের সাথে যুক্ত হয়ে দারাজের পণ্য সারা দেশব্যাপী বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। কিভাবে শুরু করবেন তা জানতে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। এই আর্টিকেলে আপনি জানতে পারবেন দারাজ সেলার একাউন্ট খোলার পদ্ধতি, পন্য নির্বাচন ও তালিকাভুক্তির কৌশল, অর্ডার ম্যানেজমেন্ট এবং বিক্রি বাড়ানোর কার্যকর টিপস, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি দারাজে ব্যবসা শুরু করার একটি স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত ধারণা পাবেন।

কেন দারাজ সেলার হিসেবে ব্যবসা শুরু করবেন?

বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ই-কমার্স ব্যবসা করতে গেলে অনেক বিষয়ে মাথায় রাখতে হয়। যেমন পণ্য, সঠিক সাপ্লায়ার, লজিস্টিক সিস্টেম, ডেলিভারি, পেমেন্ট মেথড, মার্কেটিং কৌশল, স্টক ও ইভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি। একজন স্বল্প পুঁজি ওয়ালা উদ্যোক্তার পক্ষে এত কিছু একসাথে ম্যানেজ করা খুব কঠিন হয়ে যায়। আর দারাজ আপনাকে  এই সবগুলো সুবিধা একসাথে  দিচ্ছে ব্যবসা করার জন্য।

কেন আপনার অন্য প্লাটফর্ম বাদ দিয়ে দারাজের সাথে কাজ করা উচিত বলে আমি মনে করি নিম্নে তার কারণ গুলো তুলে ধরা হলো

বিশাল কাস্টমার বেইজ

দারাজের  কাস্টমার এর পরিধি এখন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল গ্রামগঞ্জে শহরের অলিতে গলিতে এমন জায়গা পাওয়া যাবে না যেখানে দারাজের কাস্টমার নেই। এই লক্ষ লক্ষ ক্রেতার কারণে দারাজে যুক্ত হয়ে নিজের পণ্য সারা দেশে বিক্রি করে করার জন্য ক্রেতা খুঁজতে হয় না বরং ক্রেতারা দারাজের পণ্য খোঁজে। ফলে দারাজের পণ্য বিক্রি করা অনেক সহজ হয়।

লজিস্টিক সাপোর্ট

নতুন ব্যবসায়ীদের জন্য আরেকটি বড় ঝামেলা হচ্ছে ডেলিভারি করা। আপনি যদি আলাদাভাবে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে চান তাহলে এই ডেলিভারির জন্য আপনাকে অনেক হয়রানি পোহাতে হবে। কিন্তু যদি দারাজের সাথে কাজ করেন তাহলে এই ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকা যাবে শতভাগ। তাদের নিজস্ব ডেলিভারি সিস্টেম রয়েছে যার মাধ্যমে তারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ডেলিভারি করে থাকে।

ফ্রি মার্কেটিং ও প্রোমোশন সুবিধা

দারাজ বিভিন্ন উপলক্ষে ফ্ল্যাশ সেল, ভাউচার ক্যাম্পেইন করে থাকে যা প্রোডাক্ট বিক্রি করতে আলাদা একটা সুবিধা দেয়। তাছাড়া ব্যবসার প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপনের দরকার যা দারাজ ফ্রিতে করার সুযোগ দেয় এবং প্রমোশনের সুযোগ দেয়।

স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করার সুবিধা

সর্বোপরি যারাদের সাথে কাজ করলে স্বল্প মূলধনে ব্যবসা করার সুযোগ আছে। যেমন দোকান ভাড়া, ডেকোরেশন, প্রোডাক্ট স্টক রাখা ইত্যাদি ঝামেলা নেই তাই স্বল্প পুজিতে ঘরে বসেই অনলাইনে এই ব্যবসা করা যায়।

দারাজ সেলার হওয়ার প্রাথমিক শর্তাবলী

দরাজের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবসা করা অনেক সহজ এবং লাভজনক তবে যারা সেলার হওয়ার জন্য কিছু শর্তাবলী আছে। দরাজের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করতে হলে এই শর্তগুলো মেনে কাজ করতে হয় তারা যেন সেলার হওয়ার জন্য মূলত দুই ধরনের অ্যাকাউন্ট আছে।

  • এক লোকাল সেলার
  • দুই কর্পোরেট সেলার

আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে ছোট পরিসরে তাদের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করতে চান তার জন্য লোকাল সেলার একাউন্ট খোলার যথেষ্ট। আর যদি প্রতিষ্ঠানিকভাবে তাদের সাথে কাজ করতে চান তাহলে কর্পোরেট একাউন্ট খুলতে হবে তবে সেক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন।

এই দুই ধরনের একাউন্ট এর জন্য কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বা কাগজপত্র লাগবে।

  •  ভেরিফিকেশনের জন্য জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি।
  •  টাকা লেনদেনের জন্য ব্যাংক একাউন্ট।
  • একটা সচল ফোন নাম্বার।
  • জিমেইল এড্রেস।

এই কয়েকটি প্রাথমিক ডকুমেন্ট সঠিকভাবে সাবমিট করার মাধ্যমেই আপনি দারাজে আপনার ব্যবসার প্রথম ধাপটি সফলভাবে শুরু করতে পারবেন।

দারাজ সেলার একাউন্ট খোলার নিয়ম

দারাজ সেলার একাউন্ট খোলার জন্য প্রথমে দারাজ অ্যাপস থেকে বা সরাসরি ব্রাউজার থেকে দারাজ সেলার সেন্টারে চলে যান। সেখান থেকে become a seller অপশনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় ইনফরমেশন দিয়ে ফোন নাম্বার দিয়ে ভেরিফিকেশন করে নিন ব্যাস প্রথম ধাপে রেজিস্ট্রেশন শেষ।

প্রথম ধাপের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে গেলে আপনার প্রোফাইলে কিছু কাজ কমপ্লিট করতে হবে। যেমন এন আই ডি এবং ব্যাংক একাউন্টের যাবতীয় তথ্য দিয়ে সাবমিট করতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে রিভিউ করে আপনার অ্যাকাউন্টটি এক্টিভ করে দেবে এক্ষেত্রে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে। অ্যাকাউন্ট একটিভ হয়ে গেলে প্রোফাইলে ব্যবসার যাবতীয় নিয়ম কানুন ফ্রি ট্রেনিং ও টিউটোরিয়াল শো করবে এই ভিডিওগুলো এখান থেকে দেখে শেষ করতে হবে।

 লাভজনক পণ্য নির্বাচন ও সোর্সিং

অ্যাকাউন্ট একটিভ হওয়ার পর আপনার প্রথম কাজ হল আপনার লাভজনক প্রোডাক্ট নির্বাচন করা এবং সোর্সিং করা।তবে যেই প্রোডাক্টটি সোর্সিং করেন না কেন সোর্সিং করার আগে অবশ্যই মার্কেটে রিসার্চ এবং বিশ্লেষণ করবেন। মার্কেটে কোন প্রোডাক্ট এর চাহিদা বেশি সেটা বোঝার জন্য দারাজে গিয়ে বেস্ট সেলিং প্রোডাক্টগুলো দেখে নিন। সাধারণত মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স গেজেট, মেয়েদের ও ছেলেদের ফ্যাশন আইটেম, হোম ডেকর এবং কসমেটিক্স সামগ্রীর চাহিদা কি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম গুলোতে সব সময় শীর্ষে থাকে।

এছাড়াও দারাজের ফ্ল্যাশ সেল, টপ রেটেড, বেস্ট সেলার ক্যাটাগরির সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ রাখুন এতে চাহিদা সম্পন্ন প্রোডাক্ট গুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা আসবে।

ট্রেন্ডিং প্রোডাক্ট এবং চিরসবুজ প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। কারণ ট্রেনডিং প্রোডাক্টগুলো সেজনালি অনেক বিক্রি হয়। কিন্তু সিজন চলে গেলে স্টক আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে চিরসবুজ প্রোডাক্ট গুলো সারা বছরেই বিক্রি হয় তাই আপনার অনলাইন ব্যবসা কে দীর্ঘায়িত করতে ৭০% চিরসবুজ প্রোডাক্ট এবং ৩0%ট্রেন্ডিং প্রোডাক্ট রাখা ভালো একটা কৌশল।

প্রোডাক্ট নির্বাচন করার পর আপনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে বা লাভ লসের হিসাব করা। কারণ সঠিকভাবে লাভ-ক্ষতি হিসাব না করতে পারলে ব্যবসায় ধস আসতে পারে। যে কোন প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণ করার আগে অনুমানের ওপর দাম নির্ধারণ করা ঠিক না। পন্যের ক্রয় মূল্য, প্যাকেজিং খরচ, ভ্যাট, পেমেন্ট ফি, সব কিছু বাদ দিয়ে কতটুকু প্রফিট থাকছে তা নিখুত ভাবে হিসেব করে তারপর দাম নির্ধারণ করতে হবে।

প্রোডাক্ট নির্বাচন করা হয়ে গেলে আপনার কাজ হচ্ছে নির্ভরযোগ্য স্থান থেকে ইমপোর্ট করা। বেশি লাভ করতে চাইলে পাইকারি বা রিটেলারের কাছ থেকে প্রোডাক্ট না কিনে সরাসরি ইমপোর্টার বা উৎপাদকের কাছ থেকে পণ্য কেনার চেষ্টা করুন। পোশাকের জন্য ইসলামপুর, কসমেটিক্স ও ইমিটেশনের জন্য চকবাজার, বা ইলেকট্রনিক্স এর জন্য নবাবপুর হতে পারে চমৎকার সোর্স।

প্রোডাক্ট লিস্টিং ও এসইও

দারাজে হাজার হাজার বিক্রেতা একই ধরনের পণ্য বিক্রি করেন। তাই ভালো পণ্য থাকলেও লিস্টিং দুর্বল হলে ক্রেতা সেটি খুঁজে পান না। তাই সঠিক লিস্টিং ও এসইও করতে হবে যাতে আপনার পণ্যকে search result এর উপরে তুলে আনে।

প্রথমেই কাস্টমারদের আকর্ষণ করার জন্য একটা চমৎকার এসইও ফ্রেন্ডলি টাইটেল লিখতে হবে। এর জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ করে খুঁজে বের করতে হবে কাস্টমাররা কোন কোন কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করছে। এবং কৌশলে এই কিওয়ার্ডগুলো টাইটেলের সাথে যুক্ত করে দিতে হবে। যেমন শুধু "শার্ট" না লিখে ছেলেদের ক্যাজুয়াল কটন হাফ হাতা শার্ট লেখলে আপনার পণ্যটি সার্চ রেজাল্টে আসার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায় ।

টাইটেল এর পরেই পণ্যের ডেসক্রিপশন এবং স্পেসিফিকেশন লিখতে হবে। মনে রাখবেন কাস্টমার সরাসরি পণ্য চেক করতে পারেনা ।তাই এখানে পণ্যের ডেসক্রিপশন এবং স্পেসিফিকেশন এমন ভাবে লিখতে হবে যেন কাস্টমার ডেসক্রিপশন পড়েই পণ্য সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা পান এবং কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। পন্যের সাইজ, কালার, মেটেরিয়াল, ওয়ারেন্টি এবং বিশেষ গুণাবলী বুলেট পয়েন্ট আকারে স্পষ্টভাবে সাজিয়ে লিখতে হবে। এখানে কাস্টমারদের আকর্ষণ করতে অতিরঞ্জিত কিছু লেখা যাবে না।

অনলাইন কেনাকাটায় পণ্যের ছবি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছবিটা কে স্পষ্ট করে এবং হাই কোয়ালিটি সম্পূর্ণ ছবি তুলতে হবে এবং ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা করে দিতে হবে যাতে কাস্টমার বুঝতে পারে। এবং বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে একাধিক ছবি আপলোড করতে হবে সে সাথে প্রোডাক্টের একটা ছোট ভিডিও দিলে কাস্টমারের জন্য আরো বেশি সুবিধা হয়।

সবশেষে পণ্যের ক্যাটাগরিতে গুরুত্ব দিন এক ক্যাটাগরির পণ্য আরেক ক্যাটাগরিতে আপলোড করলে পণ্যের এসইও ভালো হয় না এবং পণ্য খুঁজেও পাওয়া যাবে না। সুতরাং পন্যের ক্যাটাগরি এবং সাব ক্যাটাগরি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।

অর্ডার ম্যানেজমেন্ট এবং প্যাকেজিং

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মার্কেটিং করার পরে কাজ হবে প্রতিনিয়ত নোটিফিকেশন চেক করা। কারণ কেউ যদি আপনার পণ্য অর্ডার করে তাহলে এখানে নোটিফিকেশন আসবে তাই একজন সফল ব্যবসায়ী হতে হলে প্রতিনিয়ত নোটিফিকেশন চেক করতে হবে এবং দ্রুত কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এতে কাস্টমারের আস্থা অর্জন হবে।

প্যাকেজিং

অর্ডার পাওয়ার পর সবচেয়ে সংবেদনশীল কাজ হচ্ছে প্যাকেজিং করা এখানে অবশ্যই দারাজের গাইড লাইন অনুযায়ী প্যাকেজিং ম্যানেজমেন্ট  করতে হবে। প্রোডাক্ট এর ধরন অনুযায়ী প্যাকেজিংয়ের জন্য উপযুক্ত বক্স রেডি করতে হবে এবং সেই সাথে ভঙ্গুর প্রোডাক্ট গুলো বাবল র‍্যাপিং  দিয়ে যত্ন সহকারে প্যাকেট করতে হবে। যাতে প্রোডাক্ট নিখুত ভাবে কাস্টমার হাতে পায়। অথবা যদি রিটার্ন আসে তাহলে যেন অক্ষত অবস্থায় রিটার্ন আসে সেদিকে খেয়াল রেখে প্যাকেজিং করতে হবে।

ইনভয়েস ও শিপিং লেবেল

প্যাকেজিং করা হয়ে গেলে আপনার সেলার সেন্টার একাউন্ট এর ড্যাশবোর্ডে গিয়ে এখান থেকে ওই প্রোডাক্টের ইনভয়েস প্রিন্ট করে সেটা প্রোডাক্টের গায়ে লাগিয়ে দিতে হবে। ডেলিভারি প্রক্রিয়া, নির্ভুল এবং সহজ করতে লেবেলের বারকোড যেন নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ড্রপ অফ বা পিক আপ

প্যাকিং সম্পন্ন হয়ে গেলে দারাজের পিকআপ সার্ভিস ব্যবহার করুন অথবা নিজে ড্রপ অফ পয়েন্টে গিয়ে দিয়ে আসুন। সঠিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট ও প্যাকেজিং মেনে চললে ক্রেতার সন্তুষ্টি বাড়ে এবং ব্যবসার প্রসার ঘটে।

পেমেন্ট পদ্ধতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা

দ্বারা দের সাথে কাজ করলে দারাজ এর পুরো পেমেন্ট সিস্টেমটা আগে বুঝতে হবে তা না হলে তাদের পরিবর্তে পুরোটাই লস হবে।

পেমেন্ট সাইকেল

দারাজ এর নিয়ম নীতিগুলো খুব ভালো করে পড়ে নেবেন। কারণ দারাজ পেমেন্ট এর একটা সাইকেল আছে একটা প্রক্রিয়া আছে। দারাজ সাধারণত প্রতি সপ্তাহে তাদের পেমেন্ট সম্পন্ন করে থাকে। তবে সপ্তাহে কতবার পেমেন্ট করে তা নির্ধারণ করে প্রোডাক্ট বিক্রির ধরন ও পলিসির উপরে।

অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট চেক করা

সেলার সেন্টার এর ফাইনান্স সেকশনে গিয়ে অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট দেখা যায়। সেখানে প্রতিটি অর্ডারের বিক্রয় মূল্য, কাটা কমিশন, শিপিং চার্জ, ও চূড়ান্ত প্রাপ্য টাকার বিস্তারিত থাকে। নিয়মিত স্টেটমেন্ট মিলিয়ে দেখলে কোন অসঙ্গতি থাকলে দ্রুত সাপোর্টে যোগাযোগ করে তা সমাধান করে নিন।

কমিশন ভ্যাট ও ট্যাক্স

দারাজ পন্যের ওপর নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন কেটে নেয়।
সঙ্গে পেমেন্ট ফি ও কাটে তাই দাম নির্ধারণ করার সময় এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে দাম নির্ধারণ করা উচিত। নইলে প্রফিট এর পরিবর্তে লোকসান হতে পারে।। আয় ও ব্যয়ের হিসাব ঠিক রাখতে তাই নিয়মিত স্টেটমেন্ট চেক করা জরুরী কারণ আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখলে ব্যবসা ঠিকঠাক হয় এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়।

সেলস ও ইনকাম বাড়ানোর সিক্রেট টিপস

অনলাইনে সফল হতে হলে কৌশল খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে যে যত কৌশল এপ্লাই করতে পারবে সে ততো দ্রুত সফলতার তীরে পৌঁছাবে। তাই শুধু ভাল প্রোডাক্ট সোর্সিং করে মার্কেটিং করলেই হবে না কৌশল অবলম্বন করে মার্কেটিং করতে হবে। ঠিক তেমনি দারাজে সফলতা পেতে হলেও কিছু সিক্রেট কৌশল আছে যে কৌশল গুলো এপ্লাই করলে বিক্রি বেড়ে যাবে কয়েক গুণ।

মেগা ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করা

সেলস বাড়ানোর জন্য দারাজের মেগা ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করা কার্যকর একটা উপায়।যেমন ১১.১১, ১২.১২, কিংবা বৈশাখী মেলা। এই সময় গুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকে ফলে বিক্রি বেড়ে যায় বহু গুণ। তাই পর্যাপ্ত স্টক রেখে আগে থেকেই এসব ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করা জরুরী।

দ্রুত চ্যাট রেসপন্স করা

অনলাইনে কেনাকাটার সময় ক্রেতারা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে থাকেন এবং দ্রুত রেসপন্স আশা করেন।  কাস্টমারদের প্রশ্নের দ্রুত রেসপন্স করলে কাস্টমারদের আস্থা বাড়ে। তাই দ্রুত এবং বিনয়ের সাথে রেসপন্স করুন। উচ্চ চ্যাট রেসপন্স আপনার স্টোরের মান বাড়ায়।

সেলার রেটিং ও পজিটিভ রিভিউ

সেলার রেটিং পজিটিভ এবং ১০০% এর কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করুন। সঠিক পণ্য এবং নিরাপদে ডেলিভারি প্যাকেজিং নিশ্চিত করলে সেলার রেটিং ভালো হয়। প্রয়োজনে ডেলিভারি পাওয়ার পর ক্রেতাকে বিনয়ের সাথে ধন্যবাদ দিয়ে মেসেজ দিন।

আকর্ষণীয় বান্ডেল অফার ভাউচার ফ্রি শিপিং 

আকর্ষণীয় বান্ডেল অফার সেট করুন যেমন একসাথে একাধিক পণ্য কিনলে বিশেষ ডিসকাউন্ট, ফ্রি ভাউচার, ফ্রি ডেলিভারি ইত্যাদি দিয়ে বান্ডেল অফার সেট করুন। এই অফার গুলো প্রোডাক্ট কিনতে কাস্টমারদের প্রতি উৎসাহিত করে।

সাধারণ সমস্যা ও তার সমাধান

অনলাইনে বিজনেস করতে গেলে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে এটাই স্বাভাবিক তবে সঠিক কৌশল অবলম্বন করে  এ সমস্যাগুলোকে  মোকাবেলা করে সমাধান খুজে বের করতে হবে।

রিটার্ন বাতিল হওয়া  অর্ডার

কোন অর্ডার বাতিল হলে বা রিটার্ন  আসলে হতাশ হওয়া যাবে না। বরং ঠান্ডা মাথায় তার  কারণ খুঁজতে হবে কেন প্রোডাক্ট রিটার্ন আসলো। ভুল সাইজ ভিন্ন রং বা বিবরণের সাথে মিল না থাকার জন্য বেশিরভাগই প্রোডাক্ট রিটার্ন আসে এগুলো দ্রুত সমাধান করুন।

ইনভেন্টরি আপডেট রাখা

প্রোডাক্ট অর্ডার হলে সেটা দিতে না পারলে ব্র্যান্ড এর জন্য মারাত্মক একটা ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই সব সময় স্টক আপডেট রাখুন। বিক্রি হওয়া পণ্যের আপডেট রাখুন এবং যেগুলো জনপ্রিয় প্রোডাক্ট সেগুলোকে বাড়তি স্টকে রাখুন।

নেগেটিভ রিভিউ রিপ্লাই

কোন কাস্টমার যদি নেগেটিভ রিভিউ দেই তাহলে সেটি এড়িয়ে যাবেন না বরং প্রফেশনাল ভাবে তার উত্তর দেবেন। যেমন এই সমস্যার কারণে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি আমরা খুব দ্রুত সংশোধন করার চেষ্টা করব এরকম কিছু উত্তর দিন। এতে করে নতুন যারা প্রোডাক্ট কিনতে এসে রিভিউ দেখবে তারাও আপনার প্রতি একটা ভরসা পাবে।

উপসংহার

একজন সফল দারাজ সেলার হিসেবে আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য, ব্যবসায়িক সততা, এবং কাস্টমার সন্তুষ্টির ওপর ফোকাস করতে হবে। যেকোনো ব্যবসার শুরুতেই কিছু বাধা বা চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। তবে হতাশ না হয়ে সঠিক কৌশল ও পরিকল্পনা করে ন্যায় নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেলে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল পাওয়া যাবে। আর মনে রাখবেন অনলাইন বিজনেস মানেই রাতারাতি ধনী হওয়ার কোন বিষয় না। যে কোন ব্যবসা করতে গেলেই ধৈর্য প্রয়োজন আর সেই সাথে পরিশ্রম করে যেতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url