ঘরে বসে নারীদের ইনকাম করার ৭টি কার্যকর উপায়
ভূমিকা
একটা সময় ছিল যখন নারীদেরকে ঘরের কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হতো মনে করা হতো এদেরকে সংসার সামলানোটাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।. কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের এই চিন্তাধারা বদলে গেছে বর্তমান সময়ে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।. সমাজ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য নারীদেরকে বর্তমানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে ।প্রত্যেকটা কর্মক্ষেত্রে এখন নারীরা কোনো দিকে পুরুষের চাইতে পিছিয়ে নেই.।
কর্মক্ষেত্রের প্রত্যেকটি সেক্টরে এখন নারীরা পুরুষের মতো সমান ভূমিকা পালন করছে। কেননা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মানুষকে যতটা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় তেমন সমাজ ও পরিবারের সিদ্ধান্তগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এ নারীরা।
| ঘরে বসে নারীদের ইনকামের সাতটি কার্যকর উপায় |
তবে বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে অনেক সমাজে এখনো নারীদেরকে কর্মক্ষেত্রে প্রত্যেকটি সেক্টরে মসৃণভাবে কাজ করার ভালো চোখে দেখে না। বিয়ের পর একটা মেয়ে সংসার সামলানো সন্তান স্বামীকে সামলানো পরিবারের বয়স্কদের দেখাশোনা প্রতিদিন এই নির্দিষ্ট চক্রের মধ্যে থেকেই কাজ করতে হয় এর বাইরে গিয়ে চাকরি করা অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এমন পরিস্থিতিতে এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নারীদেরকে ঘরে বসে আয় করার একটা দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে বর্তমান সময়ে। নারীরা চাইলেই এখন ইন্টারনেট আর প্রযুক্তির ব্যবহার করে ঘরে বসে ইনকাম করতে পারে। ইন্টারনেট আর প্রযুক্তির ব্যাপক আধুনিকায়নের ফলে এখন আর অফিসে গিয়ে উপার্জন করা বাধ্যতামূলক নয় ।স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই ঘরে বসেই সংসারের পাশাপাশি ইনকাম করার দারুণ সুযোগ তৈরি করতে পারে নারীরা।
আমার আজকের আর্টিকেলের মূল আলোচনা হচ্ছে নারীদের ইনকামের পথ। তাই আপনিও যদি একজন নারী হয়ে থাকেন বা গৃহিণী হয়ে থাকেন। ভাবছেন সংসার সামলানোর পাশাপাশি ইনকাম করে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরতে তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। আজ আমি আলোচনা করব ঘরে বসে অনলাইন থেকে ইনকাম করার উপায় যা ব্যবহার করে আপনি সংসারের পাশাপাশি দারুণ ইনকাম করার একটা সুযোগ পাবেন।
১। ফ্রিল্যান্সিং করে আয়
নারীদের ঘরে বসে ইনকামের দারুণ একটা মাধ্যম এবং প্রধান উপায় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। এখানে পর্যাপ্ত স্বাধীনতা আছে ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি পেশা যেটাতে কাজ করারকোনো লিমিটেশন নেই ২৪ ঘন্টার মধ্যে যেকোনো সময় করা যায়। এখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো চাপ নেই। অফিসে যাওয়ার কোনো তাড়া নেই। সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম সেরে সন্তান এবং পরিবারকে যথেষ্ট সময় দেয়ার পরে এই কাজটি করতে পারে। শুধু প্রয়োজন একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার আর ইন্টারনেট সংযোগ।
ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয় করার বেশ কিছু ক্ষেত্র বা পরিধি আছে যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, ডাটা এন্ট্রি, ইত্যাদি। এছাড়াও নারীদের সহজে এবং দ্রুত ইনকাম করা যায় ভিডিও এডিটিং, এসইও, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এর মত সহজ কিছু দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে।
তবে ফ্রিল্যান্সিং শেখার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হল যেকোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। কারণ। বর্তমান কম্পিটিশনের মার্কেটে নিজের দক্ষতাকে সর্বোচ্চ লেভেলে প্রয়োগ করতে হবে। শতভাগ দক্ষতা অর্জন না করে মার্কেটে কাজ শুরু করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে না। তাই শুরুতেই ইনকামের চাইতে দক্ষতা অর্জন করার আগেই বেশি ফোকাস করতে হবে।
স্কিল শেখা শেষ হলে ফাইবার, আপওয়ার্ক এর মত মার্কেটে একাউন্ট করে আপনার দক্ষতার ছোট স্পষ্ট বিবরণ প্রোফাইলে তুলে ধরুন। এখানে শত শত বিদেশী ক্লায়েন্ট হাজার হাজার কাজ নিয়ে বসে আছে ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে করে নেওয়ার জন্য। আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী সেই কাজগুলোকে সম্পন্ন করে স্মার্ট ইনকাম করতে পারেন।
২। অনলাইন বুটিক বা এফ-কমার্স থেকে আয়
নারীদের ঘরে বসে ইনকাম করার আরেকটি সহজ মাধ্যম হচ্ছে অনলাইন বুটিক বা এফ -কমার্স। আপনার যদি কোনো বিষয়ে শখ বা ফ্যাশন থাকে যেমন সাজগোজ, অর্নামেন্ট, পোশাক, শাড়ি, কসমেটিক্স বা অন্য যেকোনো বিষয়ে। তাহলে ফেসবুকে একটা প্রফেশনাল পেজ খুলে প্রচারণা করে ইনকাম করতে পারেন। এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এখানে লাখ লাখ টাকার পণ্য কিনে মজুদ রাখতে হয় না বা স্টোর ভাড়া করে করতে হয় না সামান্য পুঁজি অল্প বিনিয়োগে এখানে একটা ব্যবসা দাড় করানো সম্ভব।। তবে এখানে সফল হতে হলে কিছু বিষয়কে বেশি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে ।
- ভালো এবং বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার খুঁজে বের করা
- পণ্যের কোয়ালিটি শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে
- কাস্টমারদের প্রশ্নের দ্রুত রিপ্লাই দেওয়া
মনে রাখবেন অনলাইন ব্যবসায় "কোয়ালিটি ইজ কিং" সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই ক্রেতার আস্থা ধরে রাখতে পণ্যের মানের ক্ষেত্রে কোনো আপোষ করা যাবে না।
আর ব্যবসা কে দ্রুত বৃদ্ধি করতে চাইলে মার্কেটিং এর বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এর খুঁটিনাটি বিষয় জানতে হবে সেইসাথে প্রোডাক্টের ছোট ছোট শর্ট ভিডিও তৈরি করে আকর্ষণীয় ডেসক্রিপশন লিখে নিয়মিত ফেসবুকে পোস্ট করতে হবে। সঠিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করে ডেসক্রিপশন লিখলে কাস্টমারদের সহজেই আকর্ষণ করা সম্ভব হয়। এছাড়াও আপনি কাস্টমারদের টার্গেট করে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন পরিচালনা করতে পারেন।
৩। হোমমেড খাবার ডেলিভারি বা ক্যাটারিং থেকে আয়
আপনি যদি শহরে বাস করে থাকেন তাহলে ঘরে বসে ইনকামের জন্য এই অপশনটি হতে পারে আপনার জন্য দারুণ একটা চয়েস। আপনার যদি রান্না করার দক্ষতা খুব ভালো থাকে তাহলে আপনি এই অপশনটি বেছে নিতে পারেন। এখানে খুব বেশি টাকার দরকার নেই অল্প কিছু বিনিয়োগ করে হোমমেড খাবার তৈরি এবং ডেলিভারির মাধ্যমে সহজ ভাবে ইনকাম করা যায়।
স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যাপারে মানুষের বর্তমান স্বাস্থ্য সচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আর শহর জীবনের কর্মব্যস্ততার মাঝে মানুষ মানসম্মত খাবার পায় না তাই আপনি যদি সেই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তৈরি করে সেটি বেচেলার ম্যাচ বা চাকরিজীবীদের ডেলিভারি করতে পারেন তাহলে মোটামুটি একটা প্যাসিভ ইনকাম হবে।
এছাড়াও বাঙালি সংস্কৃতিতে পিঠার কদর সব সময় বেশি আপনি চাইলে রান্নার পাশাপাশি পিঠাপুলি খাবার তৈরি করে বিক্রি করে একটা ইনকাম করতে পারেন। পাশাপাশি ব্যস্ত গৃহিণীদের সুবিধার্থে স্বাস্থ্যকর ফ্রোজেন ফুড যেমন কাবাব, সামোসা, স্প্রিং রোল, পরোটা, ইত্যাদি তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন এই আইডিয়াটাও বর্তমান সময়ে বেশ লাভজনক।
তবে ব্যবসার প্রচার এবং প্রসারের ক্ষেত্রে মার্কেটিং খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাই মার্কেটিং এর গুরুত্ব দিতে হবে। আপনি ফেসবুকে একটা প্রফেশনাল পেজ তৈরি করে খাবারের আকর্ষণীয় ছবি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খাবারের মেনু, শেয়ারের মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারেন। এবং এই পেজের মাধ্যমে আপনার প্রতিদিনের মেনু পোস্ট করুন । এছাড়াও বিক্রির জন্য ফুডপান্ডা হোম শেফের সাথে যুক্ত হয়ে আপনার খাবার ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারেন।
৪। অনলাইন টিউশনি করিয়ে আয়
বর্তমানে অনলাইন ক্যারিয়ার গড়ার অন্যতম এবং সম্মানজনক পেশা হচ্ছে অনলাইন টিউশনি করানো। আপনার যদি কোনো বিষয়ে বিশেষ স্কিল থাকে তাহলে সেই বিষয়টি অন্য কাউকে শিখিয়ে স্মার্ট ইনকাম করতে পারেন। অথবা অনলাইন কোর্স তৈরি করে সেটাকে বিক্রি করতে পারেন। অথবা অনলাইনে সহি কুরআন শিক্ষা দিয়ে আয় করা আরেকটি দারুণ উপায় বা অন্য যে কোনো বিষয়ে জ্ঞান থাকলে যেমন আধুনিক পোশাক সেলাই বেকিং নানা পদের রান্না কিংবা অন্য যেকোনো ব্যবহারিক কাজ জানা থাকলে সেগুলো নিয়েও চমৎকার সব অনলাইন কোর্স বা ওয়ার্কশপ আয়োজন করতে পারেন এসবের চাহিদা এখন ব্যাপক এবং বহুমুখী।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল ঘরে বসেই সবকিছু করা যাবে আলাদা করে স্কুল কোচিং বা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার দরকার নেই। এমনকি ভৌগলিক কোনো সীমারেখা নেই বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীদেরও পড়ানো যাবে। প্রয়োজন শুধু স্মার্টফোন ইন্টারনেট সংযোগ আর সেই সাথে জুম গুগল মিটের ব্যবহার জানা থাকলেই হবে।
৫। ব্লগিং বা ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয়
ব্লগিং সম্পর্কে এর আগেও একটা আর্টিকেল লিখেছি তারপরও সংক্ষেপে বলি আপনার যদি রান্না লাইফ স্টাইল গ্যারেন্টিং বাগান করা বা ট্রাভেলিং করার শখ থাকে তাহলে এই শখকে কাজে লাগিয়ে আপনি ইউটিউব ব্লগিং করতে পারেন। এতে যেমন আপনার শখ পূরণ হবে তেমন ইনকামেরও দারুণ একটা উপায় তৈরি হবে
এখান থেকে তিন ভাবে আয় করা যায়
- গুগলে এডসেন্স থেকে
- এফিলিয়েট থেকে
- স্পন্সর থেকে
একটা বিষয় মাথায় রাখবেন ব্লগিংয়ের করে রাতারাতি বড়লোক হওয়া যায় না। মান সম্মত কন্টেন্ট নিয়মিত আপলোড করে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে এবং দর্শকদের মন জয় করতে পারলেই আপনি হিট এরকম হাজারও উদাহরণ আছে যারা ব্লগিং করে আজ কোটিপতি।
৬। হস্তশিল্প বা হ্যান্ডিক্রাফ্ট বিক্রি থেকে আয়
আপনি যদি হস্তশিল্পী পারদর্শী হয়ে থাকেন তাহলে এটা হতে পারে আপনার আয়ের উপযুক্ত একটা মাধ্যম। বর্তমান মানুষ শখ করে হস্তশিল্পের তৈরি জিনিস কিনে ঘরে সাজিয়ে রাখে। এর চাহিদা বর্তমানে ব্যাপক চারিদিকে যান্ত্রিক জিনিস দেখে মানুষের কৃত্রিমের প্রতি অনীহা চলে আসছে। তাই সৌখিন মানুষ হাতের তৈরি জিনিসের অনেক কদর করে। কারখানায় তৈরি জিনিসের চেয়ে হাতের তৈরি জিনিসের স্বকীয়তা, আভিজাত্য, মানুষকে বেশি মুগ্ধ করে। তাই আপনার যদি হস্তশিল্পের প্রতি নিপুন দক্ষতা থাকে তাহলে এটি হতে পারে আপনার ইনকামের দারুণ একটা মাধ্যম।
হস্তশিল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নকশাদার মাটির গহনা, পরিবেশবান্ধব পার্টির তৈরি জিনিস, প্রিয়জনের জন্য বিশেষ কাস্টমাইজড উপহার, নিপুন এমব্রয়ডারি, দৃষ্টিনন্দন ক্যানভাস পেইন্টিং কিংবা ঐতিহ্যবাহী ব্লক বাটিকের কাজ। আপনি আপনার আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী যে কোনো বিষয়কে বেছে নিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে সারাদেশে বিক্রি করতে পারেন। পরবর্তীতে চাহিদা বেশি হলে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারেন। আমার লেখা পড়ে হয়তো অবাক লাগতে পারে বা বিদ্রুপের হাসি হাসতে পারেন কিন্তু হ্যাঁ এটাই সত্য অনেকেই এইসব কাজ করে মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করছে।
একটা বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বলি যশোরে কেশবপুর উপজেলার সাজ্জাদ আলী নামের এক ব্যক্তি ঘরের ভেংগে যাওয়া টিউবলাইটকে কাজে লাগিয়ে রং বেরঙের ঝলমলে জিনিস তৈরি করে সারা দেশে বিক্রি করে আজ সে সফল ব্যবসায়ী। লিংকে ক্লিক করে দেখুন
জীবিকার তাগিদে তিনি এক সময় রিকশা চালাতেন তার এক নিকট আত্মীয়র কাছ থেকে এই কাজটিকে শিখে তিনি আজ সারাদেশব্যাপী এটি বিক্রি করে একজন সফল ব্যবসায়ী।
সুতরাং আপনার যদি কোনো বিষয়ে দক্ষতা থাকে তাহলে ঘরে বসে না থেকে সেই দক্ষ তাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হোন মনে রাখবেন পরিশ্রম আর ধৈর্য মানুষকে সফলতার শেখরে পৌঁছায়।
৭। ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট করে আয়
বর্তমানে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এর চাহিদা ব্যাপক। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ নানামুখী কাজের চাপ সামলাতে হিমশিম খায়। তাই তাদের সহযোগিতা করার জন্য কিছু এসিস্ট্যান্ট প্রয়োজন হয়। আপনার যদি কম্পিউটার সম্পর্কে টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকে তাহলে এটি হতে পারে আপনার ইনকামের একমাত্র পথ। ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হচ্ছে সরাসরি অফিসে না গিয়ে দূর থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অফিসের দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা করা যেমন ক্লায়েন্টের ইমেইল ম্যানেজমেন্ট করা। ক্লায়েন্টের হয়ে কাস্টমারকে রিপ্লাই দেয়া, সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট(ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক) দেখভাল করা টাইপিং করা ইত্যাদি। এটি শুধুমাত্র দেশেই না, ঘরে বসে বিদেশী ক্লায়েন্টের কাজ করেও ডলার ইনকাম করতে পারেন। এই কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দামি কম্পিউটারের প্রয়োজন নেই এবং ভারী টেকনিক্যাল জ্ঞানেরও প্রয়োজন নেই সাধারণ একটা কম্পিউটার ইন্টারনেট সংযোগ এবং অনলাইনে সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা থাকলে এই কাজ শুরু করা যায়।
ডাটা এন্ট্রি করে ইনকাম করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন
পেমেন্ট ও লেনদেন
আপনি যদি দেশের ভিতরেই উপরোক্ত সাতটি বিষয়ে একটি নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে আপনি বিকাশ নগদ বা রকেট অথবা ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারেন।
আপনি যদি বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে পেমেন্ট নিতে চান তাহলে আপনার জন্য বেস্ট অপশন হচ্ছে পেওনিয়ার। পেওনিয়ার বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের কাছে এখন বেশ জনপ্রিয় কারণ পেওনিয়ার থেকে বাংলাদেশী বিকাশ বা ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার করা অনেক সহজ।
কাজ শুরুর আগেই জরুরি টিপস
ওপরের যে ৭ টি ইনকামের বিষয়ে আলোচনা করলাম তার সবগুলোই কার্যকর এবং ব্যাপক চাহিদা সম্পন্ন। সুতরাং আপনি যদি অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে চান বা গৃহস্থলীর কাজের পাশাপাশি ইনকাম করতে চান তাহলে উপরের উল্লেখিত সাতটি টপিকের যেকোন একটি বিষয় নিয়ে আপনি আজ থেকেই কাজ শুরু করে দিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন অনলাইন কাজের ক্ষেত্রে টাইম ম্যানেজমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। সংসার সামলানো এবং সারাদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝে একটা নির্দিষ্ট সময় আপনাকে বেছে নিতে হবে। এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন কাজ করে যেতে হবে আপনি আজ করবেন সাতদিন করবেন না, এরকম করলে অনলাইনে সফল হওয়া যাবে না। যেকোনো নতুন কাজে সফল হতে ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।
কারণ অনলাইনে রাতারাতি সফল হওয়ার কোনো শর্টকাট উপায় নেই। শুরুর দিকে কাস্টমার পেতে বা কাজ পেতে সময় লাগবে ধৈর্য ধরে টাইম ম্যানেজ করে কাজ করে যেতে হবে। কিন্তু অধৈর্য হয়ে কাজ ছেড়ে দেয়া যাবে না। লেগে থাকতে হবে সফলতা আসবে ইনশাআল্লাহ আজ যারা সফল হয়েছে ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করেছে বিধায় সফল হয়েছে। তাদেরকে সৃষ্টিকর্তা সফল ব্যক্তি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠাননি তারা যদি পারে আপনি কেন পারবেন না?
প্রতারণা থেকে সাবধান
আপনি যদি অনলাইনে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন তাহলে আরও একটা বিষয় খুব ভালো করে মাথায় রাখতে হবে সেটা হচ্ছে স্ক্যাম বা প্রতারণা। অনলাইনে প্রতারণার ছড়াছড়ি হাজার হাজার বিজ্ঞাপন লোভনীয় বিজ্ঞাপনে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। যেমন বিনা অভিজ্ঞতায় মাসে ৩০০০০ ইনকাম, শুধুমাত্র ভিডিও দেখে দৈনিক ১০০০ টাকা ইনকাম, বিজ্ঞাপন দেখে ইনকাম এরকম চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে কখনো পা দেবেন না। যে কাজগুলো অবশ্যই এড়িয়ে যাবেন অনলাইনে।
- যে কাজ পেতে টাকা দিতে হয় তার প্রায় নিশ্চিতভাবেই প্রতারণা।
- অচেনা কাউকে এনআইডি ব্যাংকের তথ্য বা ব্যক্তিগত ছবি দেবেন না।
- কাজে নেওয়ার আগে ক্লায়েন্ট বা প্রতিষ্ঠানের রিভিউ যাচাই করুন।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url