কনটেন্ট রাইটিং কী? সফল কন্টেন্ট রাইটার হওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড
ভুমিকা
২ বছর আগে রাফি লিখতেন শখের বসে, পড়তো হাতে গোনা কয়েক জন । আজ তার লেখা পরে হাজার হাজার মানুষ ,ক্লাইয়েন্টরা লাইনে দাড়িয়ে থাকে তার সময়ের জন্য।পার্থক্যটা কোথায় হলো?
ধরুন আপনি দুটো দোকানের সামনে দিয়ে হাঁটছেন একটা দোকানের সাইনবোর্ডে লেখা আমরা জুতা বিক্রি করি অন্যটায় লেখা প্রতিটা পথ চলাকে করুন আরামদায়ক ও স্টাইলিশ। তাহলে কোন লেখাটি আপনার মন কাড়বে? অবশ্যই দ্বিতীয়টি। চোখ বন্ধ করে আপনি দ্বিতীয় দোকানে ঢুকে পড়বেন। কারণ একটাই এই ডিজিটাল যুগে মানুষ শত শত বিজ্ঞাপন দেখে, প্রতিনিয়ত যেটি তার মন ছুয়ে যায় সমস্যার সমাধান দেয় সেখানে এসে আটকে যায়। আর এর দ্বারা এটাও স্পষ্ট হয় কনটেন্ট রাইটিং এর আসল শক্তি কোথায় ।কনটেন্ট বলতে শুধু শব্দ সাজানো না বরং পাঠকদের মনের ভাষা বোঝা এবং সে ভাষাতেই কথা বলা।
| সফল কন্টেন্ট রাইটার হওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড |
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত ভাবে জানবো কনটেন্ট রাইটিং কি? কেন এটা এত গুরুত্বপূর্ণ , এর প্রকারভেদ , লেখার কৌশল সাধারণ ভুলগুলো প্রয়োজনীয় টুলস এবং কিভাবে একজন মানুষ পেশাদার কন্টেন্ট রাইটার হয়ে উঠতে পারে। ভালো মানের কন্টেন্ট লেখার টিপস,কনটেন্ট রাইটার ক্যারিয়ার,কনটেন্ট রাইটিং শেখার উপায়,সফল কন্টেন্ট রাইটার হওয়ার উপায়,সবকিছু
কনটেন্ট রাইটিং আসলে কি
কনটেন্ট রাইটিং হল নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু লেখা যা মানুষকে তথ্য দেয়, সমস্যার সমাধান দেয় , বিনোদন দেয় অথবা কোন পণ্যের বিক্রি বাড়িয়ে দেয় , সাধারণ লেখার চেয়ে এটা একটু আলাদা কারণ এখানে তিনটি বিষয় মাথায় রেখে কাজ করতে হয়।
১ পাঠককে তার বয়স চাহিদা সমস্যা ও আগ্রহ কি?
২ উদ্দেশ্য কি তথ্য দেয়া প্ররোচিত করা নাকি বিশ্বাস তৈরি করা
৩ প্ল্যাটফর্ম কেমন ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া , ইমেইল , নাকি ওয়েবসাইট কারণ প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব ভাষা থাকে।
কেন কনটেন্ট রাইটিং এত গুরুত্বপূর্ণ
ভালো কনটেন্ট রাইটিং মানে সুন্দর করে লেখা নয় বরং কৌশলগত আপনি যে কনটেন্ট লিখছেন সেটা কেন করবে? পড়ে কি করবে এসব চিন্তা মাথায় নিয়ে লিখতে হয় আপনার কন্টেন্ট পরে যদি পাঠকদের উপকার না হয় তাহলে সেটা করবে না এটাই স্বাভাবিক। শুধু এইটুকুই না আর্টিকেলের গুরুত্ব আরো অনেক।
বিশ্বাস যোগ্যতা তৈরি করা
আজকে যেটাকে আমরা ব্র্যান্ড হিসেবে জানি বা দেখছি সেটা তো রাতারাতি ব্র্যান্ড হয়ে ওঠেনি। একদিন সে শূন্য থেকে শুরু করেছিল যা পরবর্তীতে ব্রান্ডে পরিণত হয়েছে। একটা ব্রান্ড যখন নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করে পাঠক ধীরে ধীরে সেটাকে বিশ্বাস করতে শুরু করে যা একদিন ব্রান্ডে পরিণত হয় উদাহরণ যখন একটা স্কিন কেয়ার ব্রান্ড শুধু "আমাদের প্রোডাক্ট কিনুন" এটা না লিখে বরং সেই স্কিন কেয়ার ব্যবহার করে কি কি উপকার পাবে তা পাঠকদের সামনে তুলে ধরে এবং সেই প্রোডাক্ট ব্যবহারের পরে ভালো ফলাফল পায় তাহলে পাঠক ওই বিষয়ে আগ্রহী হয় এবং বিশ্বাস করতে শুরু করে যা একদিন ব্রান্ডে পরিণত হয়। সুতরাং কৌশলগত কন্টেন্টের চাহিদা সব সময় বেশি।
সার্চ ইঞ্জিনে ভালো রেঙ্ক করায়
Google রেংকিং এর ক্ষেত্রেও মানসম্মত কনটেন্ট এর গুরুত্ব অপরিসীম। যেসব কনটেন্ট থেকে মানুষ উপকৃত হয় সেই ওয়েবসাইট কেও গুগল রেংকিংয়ে এগিয়ে রাখে। নিয়ম করে মানসম্মত কন্টেন্ট পাবলিশ করলে ওয়েবসাইটের অর্গানিক ট্রাফিক বাড়ে, যা দীর্ঘ মেয়াদে বিজ্ঞাপনের চেয়েও সাশ্রয়।
বিক্রি বাড়ায়
সরাসরি "কিনুন" না বলে পণ্যের গুনাগুন আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরুন এবং গল্পের ছলে পাঠকদের সামনে পণ্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরুন । সেটি পাঠকদের কি সমস্যার সমাধান করবে তা কৌশলে ব্যাখ্যা করুন পন্যের প্রতি পাঠকদের কৌতুহলী করে তুলুন এতে আগ্রহ ও বিক্রি বাড়বে।
যেমন "আমাদের ব্যাগ টেকসই এবং সুন্দর" এভাবে না লিখে এভাবে লিখতে পারেন "অফিস ট্রাভেল আর দৈনন্দিন ব্যস্ততার সব সামলাতে একটা ব্যাগেই যথেষ্ট বৃষ্টি হোক বা রোদ ৩ বছর ব্যবহারের পরেও যেন প্রথম দিনের মতোই নতুন।
ব্রান্ড পরিচিতি ও অথরিটি বাড়ায়
যেখানে ভালো মানের কন্টেন্ট পায় সেখানে পাঠকরা বারবার যায় ফলে গুগলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে এবং google আরো বেশি মানুষের কাছে তা তুলে ধরে যা পরিচিত বাড়াতে সাহায্য করে তাছাড়াও ভালো মানের কন্টেন্ট যা মানুষের উপকারে লাগে সেটা বেশি বেশি শেয়ার করে।
দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ তৈরি করে
যখন পাঠক ভালো কনটেন্ট পায় তখন সে বারবার ফিরে আসে হলে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক তৈরি হয় লেনদেন তখন বছরের পর বছর চলতে থাকে যা ব্রান্ডের জন্য কাজ করে যায়।
কনটেন্ট রাইটিং এর প্রধান ধরণসমূহ
ইনফরমেটিভ বা ইনফরমেশনাল আর্টিকেল
ইনফরমেটিভ আর্টিকেল মূলত পাঠকদের তথ্য এবং শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে লেখা হয়। এখানে লেখকের কোন মতামত থাকে না বরং লেখক সঠিক তথ্য দিয়ে অডিয়েন্সের সামনে তা তুলে ধরে মাত্র। যেমন কেউ যখন গুগলের কোন বিষয় জানতে চেয়ে সার্চ করে, এসইও কি বা এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এটি কিভাবে কাজ করে? তখন এই কীওয়ার্ডের উপর ভিত্তি করে যে কনটেন্ট লেখা হয় সেটা ইনফরমেটিভ আর্টিকেল।
লেখার মূল নিয়ম
এই ধরনের আর্টিকেল সাধারণত সহজ ভাষায় লিখতে হয় পড়ার সুবিধার্থে বড় প্যারাগ্রাফ না করে ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ বা বুলেট পয়েন্ট আকারে লিখতে হয়। সেই সাথে তথ্যগুলো যেন ১০০% নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে নেয়া হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
গাইড আর্টিকেল
এই ধরনের আর্টিকেলে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে যেমন পাঠককে ধাপ অনুযায়ী কোন একটি কাজ সম্পন্ন করতে শেখানো । যখন মানুষ কোন সমস্যার সমাধান বা কোন কাজ নিজে নিজে শিখতে চায় যেমন কেউ এটা লিখে সার্চ করল "কিভাবে ওয়েবসাইট বানাবো" এই কিবোর্ডের উপর ভিত্তি করে যে আর্টিকেল লেখা হয় সেটাই গাইড আর্টিকেল। এখানে লেখাটা tutorial এর মত করে ক্রম অনুযায়ী সাজানো থাকে।
লেখার নিয়ম
এখানে পাঠককে যে নির্দেশিকা বা গাইড দেয়া হবে সেটা যেন ১ ২ ৩ ... এভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে লেখা হয় এবং এতটাই পরিষ্কার হয় যেন একজন একদম নতুন মানুষও পড়ে কাজটি করে ফেলতে পারে ।প্রয়োজনীয় টুলস বা উপদানের তালিকা শুরুতেই দেওয়া উচিত।
পারসুয়েসিভ বা কনভেন্সিং আর্টিকেল
এই ধরনের আর্টিকেলে মানুষকে কথার জাদুতে ফেলে পাঠকের যুক্তির সাথে একমত পোষণ করানো। এখানে পাঠককে চিন্তা করা এবং সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয় ।এই ধরনের আর্টিকেলের প্রথমে সমস্যা তুলে ধরা হয় এরপর সমাধান দেয়া হয় ফিচারের উপকারিতা তুলে ধরা হয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয় যেমন একটি প্রোডাক্ট কেনা, ইমেল সাবস্ক্রাইব করা, বা সাইন আপ করা।
সাধারণত এফিলিয়েটেড মার্কেটিং সিপিএ মার্কেটিং সেলস পেজ বা প্রমোশনের জন্য এই ধরনের আর্টিকেল লেখা হয়।
উদাহরণ ওয়াটার প্রুফ বেগের সেলসের জন্য "এই ব্যাগটা ওয়াটারপ্রুফ" এভাবে না লিখে।
এভাবে লিখবেন "হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি এলেও এই ব্যাগ প্যাক এর ভেতরের দামি ল্যাপটপ আর জরুরী ফাইলগুলো থাকবে একদম সুরক্ষিত ও শুকনো" এতে মানুষ কনভিন্স হবে সহজেই।
এই ধরনের কনটেন্ট রাইটিং AIDA ফর্মুলা মেনে লেখা হয়
Attention: আকর্ষণীয় হেডলাইন দিয়ে পাঠকের নজর কারা.।
Interest: সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে কথা বলে আগ্রহ তৈরি করা।
Desire: কেন এটি তাদের প্রয়োজন সেই সুনির্দিষ্ট উপকারিতা তুলে ধরা।
Action: পরিষ্কার কল টু অ্যাকশন বাটন সেট করে দেয়া যেমন "এখনই কিনুন" " অফারটি সীমিত সময়ের জন্য" ইত্যাদি।
লিস্টিকল আর্টিকেল
এই ধরনের আর্টিকেল তথ্যকে তালিকা বা পয়েন্ট-আকারে সাজানো থাকে যা পাঠক দ্রুত ও সহজেই পড়তে পারে আর এই কনটেন্ট মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। হেডলাইনে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকতে হবে। যেমন ৫ টি উপায়, ১০ টি নিয়ম, ইত্যাদি। যেমন "নতুন রাইটারদের জন্য সফল ক্যারিয়ার গড়ার ৭ টি দরকারি টিপস" প্রতিটি পয়েন্টের নিচে সংক্ষেপে কিন্তু কার্যকর আলোচনা থাকতে হবে স্ক্যানিং ফ্রেন্ডলি করে সাজাতে হবে ।
ওপেনিয়ন বা থট লিডারশিপ আর্টিকেল
এখানে রাইটার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লেখে লেখক চলতি ট্রেন্ডি বিষয়ে বিশ্লেষণ করে তার মতামত দেয় যা পাঠকদের চিন্তা করতে সাহায্য করে একমত পোষণ করতে সহায় হয়। মনে করেন আপনি এমন একটা লেখা পড়লেন যা পড়ে আপনার কাছে মনে হল "বিষয়টা তো এভাবে ভেবে দেখিনি" লোকটা তো মনের কথা বলেছে। সাধারণত এই ধরনের আর্টিকেল এর কদর বেশি কারণ এটি অনুকরণ করা যায় না, কেননা যেহেতু সব লেখকের মতামত একই রকম হয় না তাই নকলও করা যায় না। এই আর্টিকেল শেষে লেখক পাঠকদের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দেয় যেমন এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url