OrdinaryITPostAd

কনটেন্ট রাইটিং কী? সফল কন্টেন্ট রাইটার হওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড

ভুমিকা


 ২ বছর আগে রাফি লিখতেন শখের বসে, পড়তো হাতে গোনা কয়েক জন । আজ   তার লেখা পরে হাজার হাজার মানুষ ,ক্লাইয়েন্টরা লাইনে দাড়িয়ে থাকে তার সময়ের জন্য।পার্থক্যটা কোথায় হলো?

ধরুন আপনি দুটো দোকানের সামনে দিয়ে হাঁটছেন একটা দোকানের সাইনবোর্ডে লেখা আমরা জুতা বিক্রি করি অন্যটায় লেখা প্রতিটা পথ চলাকে করুন আরামদায়ক ও স্টাইলিশ। তাহলে কোন লেখাটি আপনার মন কাড়বে? অবশ্যই দ্বিতীয়টি। চোখ বন্ধ করে আপনি দ্বিতীয় দোকানে ঢুকে পড়বেন। কারণ একটাই এই ডিজিটাল যুগে মানুষ শত শত বিজ্ঞাপন দেখে,  প্রতিনিয়ত যেটি তার মন ছুয়ে যায় সমস্যার সমাধান দেয় সেখানে এসে আটকে যায়। আর এর দ্বারা এটাও স্পষ্ট হয় কনটেন্ট রাইটিং এর আসল শক্তি কোথায় ।কনটেন্ট বলতে শুধু শব্দ সাজানো না বরং পাঠকদের মনের ভাষা বোঝা এবং সে ভাষাতেই কথা বলা।


কন্টেন্ট রাইটিং গাইডলাইন,কনটেন্ট রাইটার ক্যারিয়ার,
সফল কন্টেন্ট রাইটার হওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড


এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত ভাবে জানবো কনটেন্ট রাইটিং কি? কেন এটা এত গুরুত্বপূর্ণ , এর প্রকারভেদ ,  লেখার কৌশল সাধারণ ভুলগুলো প্রয়োজনীয় টুলস এবং কিভাবে একজন মানুষ পেশাদার কন্টেন্ট রাইটার হয়ে উঠতে পারে। ভালো মানের কন্টেন্ট লেখার টিপস,কনটেন্ট রাইটার ক্যারিয়ার,কনটেন্ট রাইটিং শেখার উপায়,সফল কন্টেন্ট রাইটার হওয়ার উপায়,সবকিছু

কনটেন্ট রাইটিং আসলে কি

কনটেন্ট রাইটিং হল নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু লেখা যা মানুষকে তথ্য দেয়, সমস্যার সমাধান দেয় , বিনোদন দেয় অথবা কোন পণ্যের বিক্রি বাড়িয়ে দেয় , সাধারণ লেখার চেয়ে এটা একটু আলাদা কারণ এখানে তিনটি বিষয় মাথায় রেখে কাজ করতে হয়।

১ পাঠককে তার বয়স চাহিদা সমস্যা ও আগ্রহ কি?

২ উদ্দেশ্য কি তথ্য দেয়া প্ররোচিত করা নাকি বিশ্বাস তৈরি করা

৩ প্ল্যাটফর্ম কেমন ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া ,  ইমেইল , নাকি ওয়েবসাইট কারণ প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব ভাষা থাকে।

কেন কনটেন্ট রাইটিং এত গুরুত্বপূর্ণ

ভালো কনটেন্ট রাইটিং মানে সুন্দর করে লেখা নয় বরং কৌশলগত আপনি যে কনটেন্ট লিখছেন সেটা কেন করবে? পড়ে কি করবে এসব চিন্তা মাথায় নিয়ে লিখতে হয় আপনার কন্টেন্ট পরে যদি পাঠকদের উপকার না হয় তাহলে সেটা করবে না এটাই স্বাভাবিক। শুধু এইটুকুই না আর্টিকেলের গুরুত্ব আরো অনেক।

বিশ্বাস যোগ্যতা তৈরি করা

আজকে যেটাকে আমরা ব্র্যান্ড হিসেবে জানি বা দেখছি সেটা তো রাতারাতি ব্র্যান্ড হয়ে ওঠেনি। একদিন সে শূন্য থেকে শুরু করেছিল যা পরবর্তীতে ব্রান্ডে পরিণত হয়েছে। একটা ব্রান্ড যখন নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করে পাঠক ধীরে ধীরে সেটাকে বিশ্বাস করতে শুরু করে যা একদিন ব্রান্ডে পরিণত হয় উদাহরণ যখন একটা স্কিন কেয়ার ব্রান্ড শুধু "আমাদের প্রোডাক্ট কিনুন" এটা না লিখে বরং সেই স্কিন কেয়ার ব্যবহার করে কি কি উপকার পাবে তা পাঠকদের সামনে তুলে ধরে এবং সেই প্রোডাক্ট ব্যবহারের পরে ভালো ফলাফল পায় তাহলে পাঠক ওই বিষয়ে আগ্রহী হয় এবং বিশ্বাস করতে শুরু করে যা একদিন ব্রান্ডে পরিণত হয়। সুতরাং কৌশলগত কন্টেন্টের চাহিদা সব সময় বেশি।

সার্চ ইঞ্জিনে ভালো রেঙ্ক করায়

Google রেংকিং এর ক্ষেত্রেও মানসম্মত কনটেন্ট এর গুরুত্ব অপরিসীম। যেসব কনটেন্ট থেকে মানুষ উপকৃত হয় সেই ওয়েবসাইট কেও গুগল রেংকিংয়ে এগিয়ে রাখে। নিয়ম করে মানসম্মত কন্টেন্ট পাবলিশ করলে ওয়েবসাইটের অর্গানিক ট্রাফিক বাড়ে, যা দীর্ঘ মেয়াদে বিজ্ঞাপনের চেয়েও সাশ্রয়।

বিক্রি বাড়ায়

সরাসরি "কিনুন" না বলে পণ্যের গুনাগুন আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরুন এবং গল্পের ছলে পাঠকদের সামনে পণ্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরুন । সেটি পাঠকদের কি সমস্যার সমাধান করবে তা কৌশলে ব্যাখ্যা করুন পন্যের প্রতি পাঠকদের কৌতুহলী করে তুলুন এতে আগ্রহ ও বিক্রি বাড়বে।

যেমন "আমাদের ব্যাগ টেকসই এবং সুন্দর" এভাবে না লিখে এভাবে লিখতে পারেন "অফিস ট্রাভেল আর দৈনন্দিন ব্যস্ততার সব সামলাতে একটা ব্যাগেই যথেষ্ট বৃষ্টি হোক বা রোদ ৩ বছর ব্যবহারের পরেও যেন প্রথম দিনের মতোই নতুন।

ব্রান্ড পরিচিতি ও অথরিটি বাড়ায়

যেখানে ভালো মানের কন্টেন্ট পায় সেখানে পাঠকরা বারবার যায় ফলে গুগলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে এবং google আরো বেশি মানুষের কাছে তা তুলে ধরে যা পরিচিত বাড়াতে সাহায্য করে তাছাড়াও ভালো মানের কন্টেন্ট যা মানুষের উপকারে লাগে সেটা বেশি বেশি শেয়ার করে।

দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ তৈরি করে

যখন পাঠক ভালো কনটেন্ট পায় তখন সে বারবার ফিরে আসে হলে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক তৈরি হয় লেনদেন তখন বছরের পর বছর চলতে থাকে যা ব্রান্ডের জন্য কাজ করে যায়।




কনটেন্ট রাইটিং এর প্রধান ধরণসমূহ

কনটেন্ট রাইটাররা যখন এই জগতে প্রবেশ করে তখন সবাই একটা কমন ভুল করে থাকে। তারা লেখার ধরন না বুঝে সব একই স্টাইলে লেখেন আপনার লেখাটা কোন  ধরনের পাঠকের উপর টার্গেট করে লিখবেন সেটা আগে ঠিক করতে হবে। কারণ পাঠকের ওপর ভিত্তি করে লেখার ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন হয় ।
আর্টিকেল রাইটিং এর প্রধান পাঁচটি ধরন এবং এদের বিস্তারিত নিচে দেয়া হলো

ইনফরমেটিভ বা ইনফরমেশনাল আর্টিকেল

ইনফরমেটিভ আর্টিকেল মূলত পাঠকদের তথ্য এবং শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে লেখা হয়। এখানে লেখকের কোন মতামত থাকে না বরং লেখক সঠিক তথ্য দিয়ে অডিয়েন্সের সামনে তা তুলে ধরে মাত্র। যেমন কেউ যখন গুগলের কোন বিষয় জানতে চেয়ে সার্চ করে, এসইও কি বা এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এটি কিভাবে কাজ করে? তখন এই কীওয়ার্ডের উপর ভিত্তি করে যে কনটেন্ট লেখা হয় সেটা ইনফরমেটিভ আর্টিকেল।

লেখার মূল নিয়ম

এই ধরনের আর্টিকেল সাধারণত সহজ ভাষায় লিখতে হয় পড়ার সুবিধার্থে বড় প্যারাগ্রাফ না করে ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ বা বুলেট পয়েন্ট আকারে লিখতে হয়। সেই সাথে তথ্যগুলো যেন ১০০% নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে নেয়া হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

গাইড আর্টিকেল

এই ধরনের আর্টিকেলে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে যেমন পাঠককে ধাপ অনুযায়ী কোন একটি কাজ সম্পন্ন করতে শেখানো । যখন মানুষ কোন সমস্যার সমাধান বা কোন কাজ নিজে নিজে শিখতে চায় যেমন কেউ এটা লিখে সার্চ করল "কিভাবে ওয়েবসাইট বানাবো" এই কিবোর্ডের উপর ভিত্তি করে যে আর্টিকেল লেখা হয় সেটাই গাইড আর্টিকেল।  এখানে লেখাটা tutorial এর মত করে ক্রম অনুযায়ী সাজানো থাকে।

লেখার নিয়ম

এখানে পাঠককে যে নির্দেশিকা বা গাইড দেয়া হবে সেটা যেন ১ ২ ৩ ... এভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে লেখা হয় এবং এতটাই পরিষ্কার হয় যেন একজন একদম নতুন মানুষও পড়ে কাজটি করে ফেলতে পারে ।প্রয়োজনীয় টুলস বা উপদানের তালিকা শুরুতেই দেওয়া উচিত।

পারসুয়েসিভ বা কনভেন্সিং আর্টিকেল

এই ধরনের আর্টিকেলে মানুষকে কথার জাদুতে ফেলে পাঠকের যুক্তির সাথে একমত পোষণ করানো। এখানে পাঠককে চিন্তা করা এবং সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয় ।এই ধরনের আর্টিকেলের প্রথমে সমস্যা তুলে ধরা হয় এরপর সমাধান দেয়া হয় ফিচারের উপকারিতা তুলে ধরা হয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয় যেমন একটি প্রোডাক্ট কেনা, ইমেল সাবস্ক্রাইব করা, বা সাইন আপ করা।

সাধারণত এফিলিয়েটেড মার্কেটিং সিপিএ মার্কেটিং সেলস পেজ বা প্রমোশনের জন্য এই ধরনের আর্টিকেল লেখা হয়।

উদাহরণ ওয়াটার প্রুফ বেগের সেলসের জন্য  "এই ব্যাগটা ওয়াটারপ্রুফ" এভাবে না লিখে।

এভাবে লিখবেন "হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি এলেও এই ব্যাগ প্যাক এর ভেতরের দামি ল্যাপটপ আর জরুরী ফাইলগুলো থাকবে একদম সুরক্ষিত ও শুকনো" এতে মানুষ কনভিন্স হবে সহজেই।

এই ধরনের কনটেন্ট রাইটিং AIDA ফর্মুলা মেনে লেখা হয়

Attention: আকর্ষণীয় হেডলাইন দিয়ে পাঠকের নজর কারা.।

Interest: সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে কথা বলে আগ্রহ তৈরি করা।

Desire: কেন এটি তাদের প্রয়োজন সেই সুনির্দিষ্ট উপকারিতা তুলে ধরা।

Action: পরিষ্কার কল টু অ্যাকশন বাটন সেট করে দেয়া যেমন "এখনই কিনুন"    " অফারটি সীমিত সময়ের জন্য" ইত্যাদি।


লিস্টিকল আর্টিকেল 

এই ধরনের আর্টিকেল তথ্যকে তালিকা বা পয়েন্ট-আকারে সাজানো থাকে যা পাঠক দ্রুত ও সহজেই পড়তে পারে আর এই কনটেন্ট মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। হেডলাইনে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকতে হবে। যেমন ৫ টি উপায়, ১০ টি নিয়ম, ইত্যাদি। যেমন "নতুন রাইটারদের জন্য সফল ক্যারিয়ার গড়ার ৭ টি দরকারি টিপস"  প্রতিটি পয়েন্টের নিচে সংক্ষেপে কিন্তু কার্যকর আলোচনা থাকতে হবে স্ক্যানিং ফ্রেন্ডলি করে সাজাতে হবে ।

ওপেনিয়ন বা থট লিডারশিপ আর্টিকেল

এখানে রাইটার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লেখে লেখক চলতি ট্রেন্ডি বিষয়ে বিশ্লেষণ করে তার মতামত দেয় যা পাঠকদের চিন্তা করতে সাহায্য করে একমত পোষণ করতে সহায় হয়। মনে করেন আপনি এমন একটা লেখা পড়লেন যা পড়ে আপনার কাছে মনে হল "বিষয়টা তো এভাবে ভেবে দেখিনি" লোকটা তো মনের কথা বলেছে। সাধারণত এই ধরনের আর্টিকেল এর কদর বেশি কারণ এটি অনুকরণ করা যায় না, কেননা যেহেতু সব লেখকের মতামত একই রকম হয় না তাই নকলও করা যায় না। এই আর্টিকেল শেষে লেখক পাঠকদের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দেয় যেমন এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

কার্যকর কনটেন্ট লেখার গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক

পাঠক চেনা
 লেখার আগে ঠিক করুন আপনি তাদের টার্গেট করে আর্টিকেল লিখতে চাচ্ছেন পাঠকভেদে লেখার টোন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন আপনি কোন প্রোডাক্ট নিয়ে যদি আর্টিকেল লেখেন তাহলে ব্যবহারকারীদের জন্য টাইটেল হবে "মুখে ব্রণ উঠলেই টেনশন? চিল রে ভাই এই তিনটি কাজ করলেই কাজ হবে।
আবার যদি একই প্রোডাক্ট ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে লেখেন তাহলে টাইটেল হবে "একনে ভালগারিসের  ক্ষেত্রে বেনজয়েল পারঅক্সাইড ৫% কনসেন্ট্রেশনে কার্যকর" দ্বিতীয় টাইটেল কিন্তু ব্যবহারকারী কিছুই বুঝবে না আবার ডাক্তার ঠিকই বুঝে নেবে এই প্রোডাক্ট এর কাজ কি?

হুক দিয়ে শুরু করা
প্রথম দুই লাইনেই এমন কিছু লিখুন যাতে পাঠক আর্টিকেল পড়ার আগ্রহ দেখায়।" যেমন আপনি কি জানেন ঘুরে একজন মানুষ একটি আর্টিকেলে মাত্র ৮ সেকেন্ড সময় দেয় তাহলে এই লেখাটা কেন করছেন এখনো?"

আকর্ষণীয় এবং ইউনিক হেডলাইন ব্যবহার 

হেডলাইন কে আকর্ষণীয় এবং কৌতুহলী করে লিখতে হবে কারণ পাঠক হেডলাইন দেখে সিদ্ধান্ত নেয় সে বাকিটা পড়বে কিনা? যেমন "কনটেন্ট লেখার নিয়ম" না লিখে এভাবে লিখলে বেশি আগ্রহ দেখায় "দশটি ভুল আপনার কনটেন্ট রাইটিং কি পিছিয়ে ফেলছে না তো?"

সহজ ভাষায় লিখুন
আর্টিকেল সব সময় সহজ সাবলীল ভাষায় লিখতে হবে যাতে পাঠকের মনোযোগ বজায় থাকে। লম্বা বাক্য ও জটিল শব্দ ব্যবহার করে আর্টিকেল লিখলে পাঠকের মনোযোগ হারিয়ে যায়। আপনি নিজে যত জ্ঞানী শোনানোর চেষ্টা করবেন তত পাঠক হারাবেন।

গল্পের মাধ্যমে বলুন
আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম তখন সাধারণ জ্ঞান আর বাংলা সাহিত্যের জন্য তথ্য মনে রাখতে পারতাম না। কিন্তু যখন সেই পড়াগুলো গল্পের মত করে পড়া শুরু করলাম তখন দেখলাম তথ্যগুলো মনে রাখা আমার জন্য সহজ হয়ে গেছে এটাকে বলা হয় গল্পের মাধ্যমে বলা।এই পদ্ধতিতে আর্টিকেল লিখলে সেটা পাঠকের স্মৃতিতে ভাল থাকে সুতরাং এই পদ্ধতিতে আর্টিকেল লিখলে অডিয়েন্স ধরে রাখা সহজ হয় যা আজকের সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী কনটেন্ট।

স্পষ্ট কল টু একশন বাটন দিন
লেখা পড়ার পর পাঠককে একশন বলে দিন কি করতে হবে যেমন "এখনই অর্ডার করুন" " অফার সীমিত আজই ইনরোল করুন" অথবা "এই রকম টিপস পেতে কমেন্টে জানান" ইত্যাদি টাইপের একশন উল্ল্যেখ করে দিন। এই CTA সাধারনত সিপিএ , এফিলিয়েট, প্রোডাক্ট প্রমোশনের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং ফলপ্রসু।

পাঠকের সমস্যা দিয়ে শুরু করুন
আর্টিকেলের ভেতরে পাঠকের সমস্য তুলে ধরে এরপর সমাধান দিন । সমস্যাটা যদি পাঠকের সাথে মিলে যায় তাহলে পুরো আর্টিকেল পড়বে সমাধান পাওয়ার জন্য, সেই সাথে লেখার প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরী হয়।

স্ক্যানেবল ফরম্যাটে লিখুন
অনেক পাঠক আছে যারা পুরো আর্টিকেল পড়ে না শুধু চোখ বুলিয়ে যায় তাই লেখাকে বুলেট আকারে ছোট ছোট পয়েন্ট করে লিখতে হবে প্যারাগ্রাফ ও ছোট করে স্ক্যানেবল করে লেখার চেষ্ট করুন।

তথ্যের সত্যতা যাচাই করুন
যে তথ্য বা পরিসংখ্যান আপনি আর্টিকেলে দেবেন সেটা নির্ভুল কিনা এবং নির্ভর যোগ্য সুত্র থেকে পেয়েছেন কিনা যাচাই করে নিন। কারন ভুল তথ্য একবার ছড়ালে ব্র্যান্ডের বিশ্বাস যোগ্যতা চিরতরে নষ্ট হতে পারে। 

নতুন কন্টেন্ট রাইটাররা  যেসব ভুল সাধারনত করেন


শুধু নিজের কথা বলা
নতুনরা এমন ভাবে লেখা শুরু করে যে নিজেকে বুঝাচ্ছেন । ব্র্যান্ড বা প্রোডাক্ট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পাঠকের সমস্যা বা প্রয়োজনকে ভুলে যায়।

অতিরিক্ত জটিল শব্দ ব্যবহার করা
পাঠককে আকৃষ্ট করতে গিয়ে এমন সব জটিল শব্দের ব্যবহার করে থাকে যা পাঠকের বিরক্তির কারণ হয়ে যায় ফলে পাঠক হারায়।

কোন লক্ষ্য ছাড়াই লেখা
লেখার আগে কোন লক্ষ্য ঠিক না করেই লেখা শুরু করে দেয়। কেন লিখছি? কার জন্য লিখছি? এগুলো চিন্তা ভাবনা না করে নিজের মত করে লেখে যা পাঠকদের কোন কাজে লাগে না।

প্রুফরিড না করা 
লেখ পড়ে প্রুফ না করা, বানান ঠিক আছে কিনা, ব্যাকরণ গত কোন সমস্যা আছে কিনা ইত্যাদি যাচাই না করে লিখলে পাঠকের কাছে অপেশাদারিত্বের বার্তা দেয়।

একঘেয়ে কাঠামো
প্রতিটি লেখায় একই ধরনের শুরু ও শেষ ব্যবহার করা, যা পাঠকের  আগ্রহ কমিয়ে দেয়। সব সময় ক্রিয়েটিভিটি দিয়ে লেখার চেষ্টা করতে হবে।

চলুন একটা তুলনামূলক উদাহরণ দিয়ে বোঝায়

সাধারণ লেখাঃ," আমরা প্রফেশনাল কনটেন্ট রাইটিং সার্ভিস দিয়ে থাকি যোগাযোগ করুন"

প্রফেশনাল লেখাঃ  আপনার ব্লগ আছে কিন্তু লেখার  সময় নেই? প্রতি সপ্তাহে অর্ধেক লেখা পোস্ট পড়ে থাকে ড্রাফটে আর প্রতিযোগীরা এগিয়ে যাচ্ছে। এখন থেকে লেখার দায়িত্ব আমাদের আপনি শুধু ফলাফল দেখুন।

লক্ষ্য করুন দ্বিতীয় টা পাঠকের বাস্তব সমস্যা তুলে ধরে একটা আবেগ জায়গায় এবং সমাধান দেয় এটাই ভালো কনটেন্ট রাইটিং এর মূল কৌশল।

কন্টেন্ট রাইটারদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু টুলস

গ্রামারলি বা এর বিকল্পঃ বানান ও ব্যাকরণ ঠিক করার জন্য এই টুলস এর ব্যবহার করা হয়।

গুগল ট্রেন্ডসঃ গুগল ট্রেন্ডস সব সময় আপডেট বিষয়ে তথ্য দেয় সুতরাং কোন বিষয়ে মানুষ বেশি আগ্রহী তা জানার জন্য এই টুলসের ব্যবহার করা হয়।

কীওয়ার্ড রিসার্চ টুলঃ আর্টিকেলকে এসইও ফ্রেন্ডলি লেখার জন্য কিওয়ার্ডস রিসার্চ টুলসেট ব্যবহার করা হয়, এর জন্য ubersuggest, ahrefs, semrush ফলদায়ক।

হ্যামিং ওয়ে অ্যাপঃ লেখা সহজ ও স্পষ্ট এবং সাবলীল করার জন্য এই টুলস এর ব্যবহার করা হয়।

ক্যানভাঃ আর্টিকেল এর সাথে যদি কোন ভিজুয়াল বা হালকা গ্রাফিক্স ডিজাইন করা প্রয়োজন হয় তবে এই টুলস বেশ সহায়ক নতুনরা খুব সহজেই এটি দিয়ে ডিজাইন করতে পারে।

কিভাবে একজন দক্ষ কন্টেন্ট রাইটার হয়ে উঠবেন

একজন দক্ষ রাইটার হওয়ার প্রধান কৌশল হচ্ছে প্র্যাকটিস। প্রতিদিন কিছু না কিছু লেখার চেষ্টা করুন সেই সাথে যারা ভাল রাইটার তাদের লেখা পড়ুন এবং বিশ্লেষণ করুন তাদের লেখা কেন কার্যকর । প্রথম লেখাটাকেই কখনো চূড়ান্ত হিসেবে নেবেন না নিজের লেখা ভুল বারবার পড়ুন চিন্তাভাবনা করে দেখুন কোথায় সংযোজন আর কোথায় বিয়োজন করতে হবে। পাঠকের প্রতিক্রিয়া থেকে শিখুন কোথায় কি পরিবর্তন করতে হবে সেই সাথে লেখার মান কে উন্নত করতে থাকুন।

উপসংহার


কন্টেন্ট রাইটিং কেবল শব্দ সাজানোর দক্ষতা নয় এটা পাঠকের মনস্তত্ত্ব বোঝা তার সমস্যার সাথে একাত্ম হওয়া এবং সঠিক সময়ে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেয়ার শিল্প। যে ব্রান্ড বা ব্যক্তি এই দক্ষতা আয়ত্ত করতে পারে প্রতিযোগিতামূলক এই ডিজিটাল বাজারে সেই এগিয়ে থাকে। তাই আজ থেকেই লেখা শুরু করুন প্রথমে হয়তো নিখুঁত হবে না, কিন্তু চর্চার মাধ্যমে একজন লেখক দক্ষ কন্টেন্ট রাইটারে পরিণত হয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url