ভূমিকা
হাতে সময় আছে কিন্তু টাকা উপার্জন করার উপায় নেই, এই কথাটা একজন ছাত্র, গৃহিণী, বেকার যুবক বা এমনকি একজন চাকরিজীবীর মুখে সমানভাবে শোনা যায় । ভালো খবর হলো, এই সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে আপনার হাতের স্মার্টফোনটাতেই। আজ দেখাবো শুন্য থেকে কিভাবে অনলাইন থেকে ইনকাম শুরু করবেন?
বর্তমানে ডিজিটাল যুগে "অনলাইন ইনকাম," শব্দটি আমাদের সবার কাছেই পরিচিত। কেউ একে দেখছেন রাতারাতি বড়লোক জাদুর কাঠি হিসেবে, আবার কেউ দেখছেন স্বাধীন ক্যারিয়ার গড়ার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে । তবে বাস্তব সত্য হলো অনলাইন ইনকাম কোন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ নয় , বরং এটি একটি বাস্তব পেশা, যেখানে সফল হতে প্রয়োজন সঠিক দিক নির্দেশনা, ধর্য্, এবং নির্দিষ্ট দক্ষতা।
 |
| how-to-start-online-income-from-scratch |
আপনি যদি একদম শুন্য থেকে ক্যারিয়ার গড়তে চান তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য একটি সম্পূর্ণ গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে । চলুন ধাপে ধাপে জেনে নিই কিভাবে শুন্য থেকে সফল ভাবে অনলাইন ইনকাম শুরু করা যায়।
আজকের আর্টিকেল শেষ পর্যন্ত পড়লে যা যা জানতে পারবেন।
- অনলাইন ক্যারিয়ার গাইড।
- নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং গাইড।
- ফ্রিতে ডিজিটাল স্কিল শেখার ওয়েবসাইট।
- অনলাইন ইনকাম করার সেরা স্কিল সমূহ।
- ফ্রিল্যান্সিং পোর্টফোলিও তৈরীর নিয়ম।
- কিভাবে ব্লগিং করে ইনকাম করা যায়।
 |
| কন্টেন্ট রাইটার হওয়ার মন্ত্র |
মানসিক প্রস্তুতি ও বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া
যে কোন কাজের জন্য মাইন্ড সেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। অনলাইনের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। অনলাইনে কাজ শুরু করার আগে যে বিষয় গুলো মাথায় রাখা উচিৎঃ
রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন বাদ দিন
অভারনাইট বা রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন কখনো সুফল বয়ে আনে না। এটার ফলাফল সব সময় খারাপ হয়, ঠিক তেমনি আজকে অনলাইনে এসে কালকে থেকেই আপনি হাজার ডলার ইনকাম করবেন এমনটা আশা করা বোকামি। একজন ডাক্তারকে যেমন ডাক্তার হয়ে উঠার পেছনে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম থাকে , একজন ইঞ্জিনিয়ারকে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে উঠার পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রমের গল্প থাকে তেমনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হয়ে উঠার পেছনে পরিশ্রম ধৈর্য্য আর চেষ্টা ।আপনার পরিচিত যদি কোন ফ্রিল্যান্সার থাকে তাদের জিজ্ঞাস করবেন কিভাবে সে সফল হয়েছে দেখতে পাবেন তার সফলতার পেছনে বিশাল গল্প আছে। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার আরামকে বিসর্জন দিয়ে আজকে সে সফল ফ্রিল্যান্সার। সুতরাং ধর্য্য আর পরিশ্রমের পরীক্ষা আপনাকে দিতেই হবে যদি অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চান এটি একটি সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।
প্রতারনা থেকে সাবধান
নতুন যারা ফ্রিল্যান্সিং এর জগতে আসে তারা সবচেয়ে বেশি পা দেয় এই ফাদে।"ক্লিক করে আয়" "ভিডিও দেখে আয়" " বিনিয়োগ করে দ্বিগুন আয়" ইত্যাদি লোভনীয় সব বিজ্ঞাপন দেখে আসল যে কাজ সেটা ভুলে গিয়ে এগুলোর পেছনে দৌড়ায় আর এটাই তাদের ব্যর্থতার মুল কারণ। অনলাইনে প্রতারকের অভাব নেই আপনি যেই কাজ শিখতে এসেছেন আপনার ফোকাস শুধু সেই দিকেই রাখা উচিত।
ধর্য্য ও অধ্যাবসায়
প্রথমেই বলেছি এখানে কাজ করতে হলে ধর্য্য আর পরিশ্রমের বিকল্প নাই। অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে হলে প্রথমে আপনার যেই কাজ করতে হবে সেটা হচ্ছে খুব ভালো করে দক্ষতা অর্জন করতে হবে । ১ম ৬ মাস থেকে ১ বছর ইনকা,এর চিন্তা মাথায় আনা যাবে না । যত বাধা বিপত্তি আসুক না কেন হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না ।
নিজের আগ্রহ ও সঠিক দক্ষতা খুজে বের করা
শুন্য থেকে শুরু করার মানে এই নয় যে আপনার কোন যোগ্যতা নাই । অবশ্যই আপনার কোন না কোন বিষয়ে যোগ্যতা আছে কোন লুকায়িত প্রতিভা আপনার ভেতরে আছে যা হয়ত আপনি নিজেও জানেন না । সুতরাং নিজেকে প্রশ্ন করুন খুজে বের করুন সেই লুকায়িত প্রতিভাকে। আপনার কোন কাজে আগ্রহ বেশি কোন কাজ করতে বেশি ভালবাসেন সেটা খুজে বের করুন ।
আপনি কি লিখতে ভালোবাসেন ?
আপনার কি ডিজাইন বা আঁকাআঁকির প্রতি আগ্রহ আছে ?
আপনি কি লজিক বা গনিতে ভালো(যা কোডিংয়ের জন্য জরুরি)?
আপনি কি মানুষের সামনে গুছিয়ে কথা বলতে ভালোবাসেন ?
ধরেন উপরের যে কোন একটি বিষয়ে আপনার আগ্রহ আছে কিন্তু এই বিষয়ে আপনার কোন স্কিল নাই। চিন্তার কিছু নাই , অনলাইনে অসংখ্য বিষয়ে শেখার সুযোগ আছে । আপনার আগ্রহের যে কোন একটি বিষয় বেছে নিন , ব্যস শেখা শুরু করে দিন।
ফ্রিতে স্কিল শেখার নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম
স্কিল শেখার জন্য টাকা খরচ করে দামি কোর্স করার আগে বিনামূল্যে শেখার চেষ্টা করুন। অনলাইনে বিনামূল্যে শেখার হাজার হাজার সোর্স আছে।
আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মসমূহ
Google Digital Garage: এখানে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার বেসিক টু এডভান্স লেবেলের সব কোর্স আছে , কোর্স শেষে ফ্রি সার্টিফিকেট ও প্রদান করে থাকে।
Hubspot academy: এখানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর পুরো কোর্স পাওয়া যায় যেমন এসইও, কন্টেন্ট মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, এবং ইনবাউন্ট মার্কেটিং এর উপর এডভান্স লেবেলের সব ফ্রি কোর্স আছে।
Semrush Academy: এটা কিওয়ার্ড রিসার্চের জন্য বেস্ট তবে ব্লগিং এবং টেকনিক্যাল এসইও সম্পর্কে জানার জন্য সেরা মাধ্যম।
Youtube: ইউটিউব সবাই ব্যবহার করতে পারে তবে অনেকে হয়ত জানেই না ফ্রিতে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সবচেয়ে বড় একটি মাধ্যম ইউটিউব। এখানে সব ধরনের ফ্রি কোর্স পাওয়া যায়।
Coursera,Udemy, Edx: এখানে ফ্রি এবং পেইড উভয় কোর্স আছে , আপনি যদি বেসিক শিখতে চান তবে ফ্রিতে শিখতে পারবেন। আর যদি প্রফেশনাল বা এডভান্স লেবেলের শিখতে চান তবে পেইড কোর্স কেনাই ভালো হবে।
Google skillshop: এটা গুগলের নিজস্ব প্লাটফর্ম ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য এটি সেরা।
বাংলাদেশী প্লাটফর্ম
মুক্তপাঠ(muktopaath): বাংলাদেশ সরকারের এ টু আই পরিচালিত ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে ফ্রি কোর্স রয়েছে।
10 minute school , Ghoori Learning: এই প্লাটফর্ম গুলতে পেইড কোর্সের পাশাপাশি অনেক ফ্রি স্কিল ডেভোলপমেন্ট কোর্স ও মাস্টার ক্লাস থাকে।
বর্তমান বাজারের সেরা ও চাহিদাসম্পন্ন স্কিলসমূহ
আপনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কি ডিগ্রি অর্জন করেছেন সেটা এখানে মূল্যহীন।অনলাইনে গুরুত্ব দেয়া হয় দক্ষতাকে, কোনো সার্টিফিকেট না। বর্তমানে চাহিদা আছে এমন কিছু স্কিল নিচে দেয়া হলো
- গ্রাফিক্স ডিজাইন
- ডিজিটাল মার্কেটিং
- ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভোলপমেন্ট
- কন্টেন্ট রাইটিং
- ভিডিও ইডিটিং
এগুলোর মধ্যে যে কন একটা বিষয়ে ভালোভাবে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে কাজের অভাব হবে না। তবে সময়ের পরিক্রমায় এগুলোর চাহিদা কম বেশি হয়।
অনলাইন থেকে আয়ের নির্ভরযোগ্য মাধ্যমসমূহ
অনলাইন থেকে ইনকাম করার অনেক গুলো মাধ্যম আছে কিন্তু স্কিল শেখার পর আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কিভাবে আয় করতে চান? উদাহরন দিয়ে বলি, আপনি যদি কন্টেন্ট রাইটিং শিখেন তাহলে কয়েকভাবে আয় করতে পারবেন।
- নিজের ব্লগ সাইট তৈরী করে গুগল এডসেন্স থেকে আয়।
- অন্যকে কন্টেন্ট লিখে দিয়।
- কন্টেন্ট মার্কেটিং করে ।
- এফিলিয়েট থেকে ।
- প্রোডাক্ট রিভিউ লিখে।
অনলাইনে আয়ের বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য উপায় রয়েছে।
ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing)
আপনি যখন স্কিল শিখে ফেলবেন তখন বিভিন্ন ক্লায়েন্টের হয়ে কাজ করতে পারবেন। কাজের ধরন অনুযায়ী ক্লায়েন্ট নির্দিষ্ট একটা এমাউন্ট পে করে থাকে। আর এটাই হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। এই পদ্ধতিতে কাজ পাওয়ার জন্য আপনাকে মার্কেট প্লেসে যুক্ত থাকতে হবে । যেমন upwork, fiverr, freelancer .com এই সব মার্কেটপ্লেসে বায়াররা ফ্রিল্যান্সার হায়ার করে থাকে তাদের দক্ষতা অনুযায়ী এবং কাজ শেষে পারিশ্রমিক দেয়।
ব্লগিং
লেখালেখি করা যদি আপনার আগ্রহ থাকে তাহলে নিজে একটা তথ্য বহুল ব্লগ সাইট তৈরী করে গুগল এডসেন্স এবং স্পন্সর থেকে ইনকাম করতে পারবেন।
যা যা প্রয়োজনঃ ডোমেইন হোস্টিং এবং এসইও সম্পর্কে সাধারন ধারনা থাকলেই হবে।
ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েশন
অনেকে কন্টেন্ট রাইটিং এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশন একই জিনিস মনে করে । দুটি আলাদা বিষয় , কন্টেন্ট রাইটিং হচ্ছে আর্টিকেল রাইটিং বা লেখালেখি করে ওয়েব সাইট দাড় করানো আর ইউটিউব , টিকটক ফেসবুক রিলসের মাধ্যমে যে ভিডিও তৈরী করা হয় সেগুল হচ্ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন। ভিডিও তৈরী করা যদি আপনার পছন্দের বিষয় হয় তাহলে ফেসবুক বা ইউটিউব হতে পারে আপনার আয়ের দারুন মাধ্যম।রান্না, ভ্রমন, টেকনোলজি, শিক্ষা, বা বিনোদন মুলক ভিডিও বানিয়ে আয় করতে পারবেন।
এফিলিয়েট মার্কেটিং
অন্য কোনো কোম্পানির পন্য আপনার মাধ্যমে বিক্রি করে দিয়ে কমিশন অর্জন করা কে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। এক্ষেত্রে ড্রপশিপিং মডেলকে গুলিয়ে ফেললে হবে না দুটি ভিন্ন জিনিস । বিশ্বের সবচেয়ে বড় এফিলিয়েট প্রোগ্রাম হচ্ছে এমাজন এসোসিয়েট, ক্লিক ব্যাংক। এছাড়াও লোকাল কিছু ই০কমার্স সাইটে এফিলিয়েট প্রোগ্রাম আছে এগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন। যেমন দারাজ, বিডি শপ।
কি কি প্রয়োজন
একটি ব্লগ সাইট বা শক্তিশালী সোশাল মিডিয়া অডিয়েন্স
প্রফেশনাল পোর্টফোলিও তৈরীর সহজ ধাপ
অনলাইন জগতে পোর্টফোলিও খুবই গুরুত্বপুর্ণ। চাকরি করতে গেলে যেমন সিভি ড্রপ করতে হয় তেমনি ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে ক্লায়েন্ট আপনার পোর্টফোলিও দেখবে। এখানে সার্টিফিকেটের কোন ভ্যালু নাই। পোর্টফোলিওতে উল্যেখ থাকে শুধু কাজের অভিজ্ঞতা। আপনি কি কাজ পারেনে বা কতটা দক্ষতার সাথে করতে পারেন তার ডিটেইলস উল্যেখ থাকে যা দেখে ক্লায়েন্ট সিদ্ধান্ত নেয় আপনাকে কাজ দেবে কিনা। সুতরাং কাজ পাওয়ার জন্য পোর্টফোলিও সুন্দর করে সাজাতে হবে।
শুধু পোর্টফোলিও বানালেই যথেষ্ট নয় বরং প্রফেশনাল মানের পোর্টফোলিও কাজ পেতে দ্রুত সহায়তা করে। একটা প্রফেশনাল মাপের পোর্টফোলিও তৈরী করতে নিচের ধাপ গুলো অনুসরন করতে পারেন।
প্লাটফর্ম নির্ধারন
আপনার পোর্টফোলিওকে হোস্ট করার জন্য প্রয়োজন একটা প্লাটফর্ম । আপনি চাইলে ডোমেইন হোস্টিং কিনে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে করতে পারেন আবার চাইলে গুগল ব্লগার ব্যবহার করেও করতে পারেন অথবা গুগল সাইট দিয়েও এটি করতে পারেন। যেখানে আপনার কাজের ডিটেইলস থাকবে।
সেরা কাজের নমুনা
আপনি হয়ত অনেক গুলো কাজের প্রজেক্ট শেষ করেছেন তার ভেতর থেকে সেরা কাজ গুলোকে বাছাই করেন ।সম্ভব হলে কাজ গুলোকে শর্টস আকারে তৈরী করেন এবং অডাসিটি দিয়ে অডিও ইডিট করে ক্যাপকাট দিয়ে ইডিট করে সব গুলো একত্রে সাজিয়ে রাখুন।
সঠিক কাঠামো তৈরী করেন
একটা আদর্শ পোর্টফোলিওতে সাধারনত নিচের বিষয় গুলো থাকা জরুরী।
Home Section: এখানে আপনার নামএবং আপনি কোন কোন সেবা দেন তার একটা আকর্ষনীয় বিবরন থাকবে।
About Me: আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশাগত ভাবে কাজের বিবরনী থাকবে।
Service: আপনার প্রজেক্টের সম্পুন্ন করা কাজের মধ্যে যেগুলো সেরা সেগুলো তালিকা আকারে এখানে প্রকাশ করেন।
Contact: এখানে আপনার সাথে যোগাযোগ করার যত মাধ্যম আছে সব গুলো দিয়ে দিন যেমন জিমেইল, হোয়াটস এপ, লিংকডইন বা আরো অন্য যে কোন যোগাযোগ মাধ্যম যদি থাকে ।
কাজের বিবরন বা কেস স্টাডি যুক্ত করুন
আপনি যেই প্রজেক্ট গুলো শেষ করেছেন সেগুলোর উদ্দ্যেশ্য কি ছিল এবং কিভাবে সেগুলো সফল ভাবে সম্পূন্ন করে তা যুক্ত করুন । কাজের After এবং Before স্ক্রিনশন যুক্ত করুন।
এসইও এবং পাবলিশ
এবার আপনার সাজানো পোর্টফোলিও টাইটেল, মেটা ডেসক্রিপশন এবং সঠিক ভাবে এসইও করে তা পাবলিশ করুন যাতে ক্লায়েন্ট সহজে তা খুজে পায় এবং এই লিংক সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করুন।
প্রথম কাজ পাওয়ার কৌশল ও ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশন
ফ্রিল্যান্সিং জগতে প্রথমে কাজ পাওয়াটা বেশ চ্যালেঞ্জিং তবে কিছু কৌশল অবলম্বন করলে কাজ পেতে সহায়তা করে ।
আকর্ষণীয় প্রোফাইল
মার্কেটপ্লেস গুলোতে আকর্ষনীয় প্রোফাইল তৈরী করুন যেমন Fiver বা upwork প্রোফাইলটি প্রফেশনাল ভাবে সাজান। এবং নিজের স্কিল গুলোকে তুলে ধরুন।
কভার লেটার/বিডিং
ক্লায়েন্ট মেসেজ দিলে তাড়াহুড়া করে রিপ্লাই দিতে যাবেন না,আগে ক্লায়েন্টের কথা শুনুন বুঝুন এবং তার সমস্যা কে কিভাবে সমাধান করবেন তা বুঝিয়ে বলুন।
কমিউনিকেশন স্কিল
ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য ইংরেজীতে কথা বলা বা চ্যাট করার দক্ষতা থাকা বাধ্যতামুলক। ক্লায়েন্টের সাথে নম্র ভদ্র ভাবে আচরন বজায় রেখে কথা বলুন।
নতুনদের যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত
যারা একদম নতুন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছে তারা কিছু কমন ভুলের কারণে ঝরে পড়ে। যা এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরী।
সবকিছু একসাথে শেখার চেষ্টা করা
ফ্রিল্যান্সিং এ অনেক গুল সেক্টর আছে যেমন এসইও, গ্রাফিক্স ডিজাইন,ওয়েব ডিজাইন, ভিডিও ইডিটিং সহ আরো অনেক। সব গুলো একসাথে শেখার চেষ্টা করবেন না। যে কোন একটি বিষয়ের উপরে ফোকাস দিন এবং এক্সপার্ট হোন। নইলে দুই কূলই হারাবেন।
অতিরিক্ত দাম হাকানো
শুরুতেই বেশি দামে কাজ না করে অল্প দামেই কাজ করুন কিন্তু ফাইভ স্টার রিভিউয়ের দিকে বেশি ফোকাস দিন। প্রোফাইল ভারি হলে আসতে আসতে দাম বাড়ান।
ইংরেজীতে দুর্বলতা কাটানো
আন্তর্জাতিক মার্কেটে কাজ করতে হলে ইংরেজীর কোন বিকল্প নাই । সুতরাং প্রতিদিন ইংরেজীতে প্রেকটিস করুন ধীরে ধীরে স্পিকিং পাওয়ার উন্নত করুন।
নেটওয়ার্কিং না করা
যত ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া আছে সব গুলোতে একাউন্ট তৈরী করুন সেই সাথে আপনার যেই কাজে দক্ষতা আছে সেই রিলেটেড গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন । অনেক সময় মার্কেটপ্লেসের বাইরেওভালো ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়।
শেষ কথা
অনলাইন থেকে আয় করা কোনো জাদুর কাঠি নয় বরং এটি ধর্য্য, অধ্যবসায় আর পরিশ্রমের সমন্বয়ে গঠিত সুস্বাদু ফল।সঠিক গাইড লাইন ছাড়া যদি কেই এখানে আসে তাহলে বিভ্রান্ত হবার সম্ভাবনা টাই বেশি। তাই লোভনীয় কোনো ফাদে পা না দিয়ে নির্দিষ্ট একটা বিষয়কে ফোকাস করে সামনের দিকে এগিয়ে যান। ইনশাল্লাহ সফল হবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url