OrdinaryITPostAd

ফেসবুক পেজ থেকে টাকা আয় করার উপায় ও মনিটাইজেশন নিয়ম


ভুমিকা 

 বর্তমান সময়ে android ফোন আছে ফেসবুক একাউন্ট নাই এমন লোক খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। বর্তমান ফেসবুক এতটাই জনপ্রিয় হয়ে গেছে যে বিশ্বজুড়ে ফেসবুকের সক্রিয় মাসিক ব্যবহারকারি 300 কোটিরও বেশি বাংলাদেশেও এর ব্যবহারকারী নিছক কম না। বাংলাদেশেও প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি লোক ফেসবুক ব্যবহার করে । এই বিশাল ব্যবহারকারী নিয়ে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিণত হয়েছে ফেসবুক। এক সময় ফেসবুক ব্যবহার করত হাতে গোনা কয়েকজন লোক তাও আবার শখের বসে। কিন্তু বর্তমানে এই ফেসবুক হয়ে উঠেছে ইনকামের বড় হাতিয়ার হিসেবে। যেখানে কোটি কোটি ডলার লেনদেন হয়।

Facebook page monetization rules,How to earn from Facebook page
ফেসবুক পেজ থেকে টাকা আয় করার উপায় 




বর্তমানে যেমন ফেসবুকের চাহিদা বেড়েছে তেমন এটি ইনকামের জন্য সেরা একটি প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিশাল অডিয়েন্সির এই প্লাটফর্মে আপনার কনটেন্ট ফ্রিতেই হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে যার ফলে বহুমাত্রিক আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফেসবুকে হাজার হাজার অউরেন্স কে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে যেমন ইনকাম করা যায় ঠিক তেমনি আরো অনেকগুলো উপায় আছে এগুলো থেকে ইনকাম করা সম্ভব। যেমন কোন শহর করে ইনকাম করা যায় ব্র্যান্ড প্রমোট করে ইনকাম করা যায় আবার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও ইনকাম করা যায়। এখান থেকে ইনকাম করার জন্য কোন মূলধনের ও প্রয়োজন হয় না শুধুমাত্র একটি স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই ব্যক্তিগত দক্ষতা দিয়ে কাজে লাগিয়ে ইনকাম করা সম্ভব। আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে ফেসবুক থেকে কি কি উপায়ে আয় করা যায় ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করার শর্তাবলী কি কি ফলোয়ার বা পেজ লাইক এর প্রয়োজনীয়তা কি একটি সফল ফেসবুক পেজ তৈরির উপায় পেজে সাধারণ ভুল এবং সতর্কতা।

আজকের আর্টিকেলে যেই বিষয় গুলো জানতে পারবেন

  • ফেসবুক পেজে কত ফলোয়ার হলে টাকা পাওয়া যায়
  • ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করার জন্য কত মিনিট ওয়াচ টাইম লাগে
  • ফেসবুক পেজে লিমিটেড অরিজিনালিটি অফ কন্টেন্ট দূর করার উপায়
  • মোবাইল দিয়ে ফেসবুক রিলস ভিডিও বানিয়ে আয়
  • ফেসবুক পেজে কপিরাইট ফ্রি মিউজিক ব্যবহারের নিয়ম
  • ২০২৬ সালে ফেসবুক মনিটাইজেশনের নতুন নিয়ম কি
  • ফেসবুক স্পনসরশিপ ও ব্র্যান্ড প্রমোশন পাওয়ার উপায়


ফেসবুক থেকে আয় করার জনপ্রিয় উপায়সমূহ 

একসময় ফেসবুক ছিল বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার একটা জায়গা এবং ছবি ভিডিও সীমিত আকারে কিছু তথ্য আদান-প্রদানের একটা মাধ্যম। কিন্তু বর্তমানে এই ফেসবুকেই ব্যবহার করে আয় করা যায় মাসে প্রায় লক্ষ লক্ষ টাকা যার কারণে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা অন্য সব সোশ্যাল মিডিয়ার চাইতে বেশি আপনিও যদি ফেসবুক থেকে ইনকাম করতে চান ভিডিও দেখে সবাই নষ্ট না করে সেই সময় কি কাজে লাগিয়ে মাসে ইনকাম করতে পারেন লাখ টাকা পর্যন্ত। ফেসবুক থেকে কি কি উপায়ে কতভাবে ইনকাম করা যায় এবং সেটা আলোচনা করব

১. ভিডিও মনিটাইজেশন (In-Stream Ads ও Ads on Reels) 

বর্তমান সময়ে ফেসবুক পেজ থেকে ইনকাম করার জনপ্রিয় উপায় হচ্ছে পেজ মনিটাইজেশন এটি দুই ভাবে করা যায়

ads on reels

in-stream ads

এটা একদম ইউটিউবের মতো ভিডিও আপলোড করে ভিউয়ার্সদের একটা বিজ্ঞাপন দেখানো হয় যেখান থেকে রেভিনিউ জেনারেট হয়. এভাবে ইনকাম করার জন্য প্রথমে একটা প্রফেশনাল তৈরি করতে হবে যেখানে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতে হবে এরপর তো সাপেক্ষে মনিটাইজেশনের কোন ইনকাম শুরু হবে।

স্টার থেকে ইনকাম

আপনার কনটেন্ট যদি ভাল হয় যদি মানুষ পছন্দ করে থাকে তাহলে তারা স্টার কিনে আপনাকে গিফট করবে আর ফেসবুক কর্তৃপক্ষ প্রতিটি স্টার এর বিনিময়ে আপনাকে ডলার পে করবে যেমন 100 star এর জন্য এক ডলার। 

এফ কমার্স বা পণ্য বিক্রি

আপনার যদি ব্যবসা থাকে যেমন গ্যাজেট কসমেটিক্স আইটেম বা পোশাক তাহলে ফেসবুকে আপনি দোকান হিসেবে ব্যবহার করে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সেখান থেকে ইনকাম করতে পারেন সেজন্য একটা ফেসবুক পেজ তৈরি করে সেখানে আপনার পণ্যের আকর্ষণীয় ছবি প্রতিনিয়ত আপলোড করুন তবে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হল ফেসবুক লাইভে এসে আপনার পণ্যের বিস্তারিত প্রচার করা এতে করে কাস্টমারের আস্থা বাড়ে এবং বিক্রি বেশি হয় এতে করে কোন ওয়েবসাইটের প্রয়োজন হয় না।

এফিলিয়েট মার্কেটিং

আপনার যদি নিজের কোন পণ্য নাও থাকে তবুও আপনি অন্যের প্রোডাক্ট লিংক তার পেইজে শেয়ার করে সেটা থেকে ইনকাম জেনারেট করতে পারে । আপনি যদি লোকাল মার্কেট নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে দারাজ আর যদি ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে কাজ করতে চান তাহলে অ্যামাজন আলিবাবা এসব মার্কেটপ্লেস এ যুক্ত হতে পারেন এবং বিভিন্ন প্রোডাক্টের রিভিউ ভিডিও তৈরি করে আপনার ফেসবুক পেজে আপলোড করে লিংক শেয়ারের মাধ্যমে কমিশন জেনারেট করতে পারেন।

স্পন্সরশীপ  বা ব্র্যান্ড প্রমোশন

আপনার ফেসবুক পেজে যদি অনেক ফ্যান ফলোয়ার থাকে তাহলে সেখান থেকে ইনকাম করতে পারেন অনেক ইনফ্লুয়েন্সরা আপনাকে তাদের ব্র্যান্ড প্রমোট করার জন্য টাকা দেবে বিনিময়ে আপনি তাদের কোন একটি পণ্য রিভিউ করে আপনার ফ্যান ফলোয়ারদেরকে সেই জিনিস কেনার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেন এবং বিভিন্ন প্রোডাক্টকে পজেটিভ দিক তুলে ধরে আপনার ফ্যান ফলোয়ার থেকে কিনতে বলবেন।

ফেসবুক গ্রুপ থেকে আয়

আপনার যদি ফেসবুক গ্রুপ থাকে সেখানে হাজার হাজার সদস্য থাকে তাহলে সেখান থেকেও ইনকাম করতে পারেন ধরুন আপনার একটা টেক রিলেটেড অথবা স্কিল ডেভেলপমেন্ট  গ্রুপ আছে সেখানে অন্যের ব্যানার পোস্ট ভাড়া দিয়ে পিন পোস্ট করে রেখে দেবেন অথবা গ্রুপের পেইড মেম্বারশিপ চালু করে রাখবেন তাহলে সেখান থেকেও ইনকাম হবে।

ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিস প্রচার করে

গ্রাফিক্স ডিজাইন কন্টেন্ট রাইটিং ডিজিটাল মার্কেটিং বা যে কোন স্কিল থাকলে facebook পেজ ও প্রোফাইলের মাধ্যমে নিজের সার্ভিস প্রচার করে লাইন পাওয়া সম্ভব এটি প্রত্যক্ষ ইনকামের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম বিশেষ করে নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য।

ড্রপ শিপিং থেকে

এটি বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় একটি মাধ্যম আপনার নিজের প্রোডাক্ট না থেকেও অন্যের প্রোডাক্ট দিয়ে নিজের ফেসবুকে প্রচারের মাধ্যমে বিক্রি সেখান থেকেও কমিশন অর্জন করতে পারেন যাকে ড্রপ শিপিং বলা হয়। 

ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করার শর্তাবলী

ফেসবুক থেকে ইনকাম করার জন্য ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করা জরুরী। ২০২৬ সালের আগে মেটার এই মনিটাইজেশন রুলস গুলো আলাদা ছিল । কিন্তু বর্তমানে সবগুলো একত্র করে কনটেন্ট মনিটাইজেশন করা হয়েছে এবং যা শুধু ইনভাইট অনলি এর অন্তর্ভুক্ত। আপনি যতই কনটেন্ট আপলোড করেন না কেন তাদের কাঙ্খিত শর্তাবলী পূরণ না হলে তারা ইনভাইট অনলি হিসেবে আপনাকে অন্তর্ভুক্ত করবে না। এখন আলোচনা করব কনটেন্ট মনিটাইজেশন কি এবং এর লাইক ফলোয়ারের প্রয়োজনীয়তা কি কি কন্ডিশন রয়েছে মনিটাইজেশনের জন্য সব বিষয়ে আলোচনা করব।



প্রয়োজনীয় ফলোয়ার ও ওয়াচ টাইম

 ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন হওয়ার পরে সাধারণত দুইভাবে ইনকাম হয় এক লং ভিডিও থেকে যেখানে ভিডিওর মাঝখানে বিজ্ঞাপন দেখানো হয় ফেসবুকের ভাষায় একে বলে ইন স্ট্রিম এডস। এই উপায়ে ইনকাম বেশি হয়।আরেকটি হচ্ছে শর্ট ভিডিও, যার দৈর্ঘ্য ১ মিনিটের কম এই ধরনের ভিডিওর নিচে ছোট করে বিজ্ঞাপন শো করে। ফেসবুকের নিয়মে এটাকে বলে এডস অন রিলস।
ন্যূনতম ফলোয়ার: বর্তমানে ইন-স্ট্রিম অ্যাডস চালু করার জন্য আপনার ফেসবুক পেজে অন্তত ৫,০০০ ফলোয়ার থাকা বাধ্যতামূলক।

​ওয়াচ টাইম (Watch Time): শুধুমাত্র ফলোয়ার থাকলেই হবে না, গত ৬০ দিনের মধ্যে আপনার আপলোড করা ভিডিওগুলোতে মোট ৬০,০০০ মিনিটের ভিউ বা ওয়াচ টাইম থাকতে হবে। এর মধ্যে লাইভ ভিডিওর ওয়াচ টাইমও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

​অর্গানিক এনগেজমেন্ট: মনে রাখবেন, কোনো থার্ড-পার্টি প্যানেল থেকে কেনা ফেক ফলোয়ার বা লাইক দিয়ে মনিটাইজেশন পাওয়া যায় না। ফেসবুকের অ্যালগরিদম খুবই উন্নত, তাই আপনাকে অর্গানিক বা স্বাভাবিক উপায়েই এই ফলোয়ার এবং ওয়াচ টাইম অর্জন করতে হবে।

কনটেন্ট মনিটাইজেশন পলিসি ও কপিরাইট 

ফেসবুকের কনটেন্ট মনিটাইজেশন পলেসি খুবই কড়া।মনিটাইজেশন পেতে হলে ফেসবুক পার্টনার পলিসি এবং কনটেন্ট মনিটাইজেশন পলিসি  মেনে চলা বাধ্যতামূলক।


অরিজিনাল কন্টেন্ট

মনিটাইজেসন পেতে হলে আপনার পেইজে অবশ্যই আপনার নিজের কনটেন্ট আপলোড করতে হবে অন্যের কনটেন্ট হুবহু আপলোড করা যাবেনা। কারণ এটা কনটেন মনিটাইজেশন পলিসি এক নম্বর শর্ত যদি অন্যের ভিডিও আপলোড করেন তাহলে আন অরিজিনাল কনটেন্ট হিসেবে ফেসবুক মনিটাইজেশনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে

 

কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড

আপনার কনটেন্টে কোন ধরনের উস্কানি মূলক কথা মিথ্যা প্রচার সহিংসতা সরাসরি রক্তপাত গুলো উল্লেখ করা যাবে না। সেই সাথে সাইবার সিকিউরিটির আইনের বহির্ভুত কোন কাজ করা যাবে না। ভিডিওতে কপিরাইট যুক্ত মিউজিক ব্যবহার করা যাবেনা। ফেসবুকের কমিউনিটি গাইডলাইন ভঙ্গ করলে সরাসরি পেজে রেস্ট্রিকশন আসতে পারে।

 

একটিভে পেজ ও ভিডিও 

আপনার পেইজে মনিটাইজেশন এর জন্য আবেদনের সময় কমপক্ষে পাঁচটি অ্যাক্টিভ ভিডিও থাকতে হবে।সেই সাথে পেজটি একটিভ থাকতে হবে।

 

মেটা বিজনেস স্যুট থেকে মনিটাইজেশনের আবেদন প্রক্রিয়া

যখন উপরে সব শর্ত পুরণ হবে তখন মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। মনিটাইজেশনের আবেদনের  জন্য  আপনার পেজ উপযুক্ত কি তা প্রথমে যাচাই করে নিতে হবে।  আবেদনের জন্য কি কি করতে হবে  কি প্রয়োজন  ধাপে ধাপে দেখি

যোগ্যতা যাচাই

প্রথমে কম্পিউটার থেকে মেটা বিজনেস সুইটসে যান। অথবা সরাসরি business.facebook.com এই লিংকে যান।আপনার যদি একাধিক পেজ থাকে তাহলে সব পেজ আইডির নিচে শো করবে।যেই পেজের আবেদন করবেন সেই পেজের উপর ক্লিক করেন এরপর monetization লেখাতে ক্লিক করেন।


পলিসি ইস্যু

এখানে দেখতে পাবে পেজের কোন পলিসি ইস্যু দেখাচ্ছে কি না। যদি পলিসি ইস্যু না থাকে তাহলে সব ক্রাইটেরিয়া সবুজ দেখাবে এবং আপনি আবেদনের জন্য প্রস্তুত।


পে আউট সেটাপ

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ইন স্ট্রিম এডের পাশে set up অথবা Apply এই রকম অপশন দেখাবে। এই বাটনে ক্লিক করে NID কার্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য নাম, ঠিকানা,TIN নাম্বার  দিয়ে দেবেন। এবং ব্যাংক একাউন্টের যাবতীয় তথ্য দিয়ে একাউন্ট যুক্ত করে দেবেন। 


রিভিউ ও অনুমোদন

আপনার সব তথ্য ঠিকঠাক ভাবে সাবমিট করলে ফেসবুক টিম আপনার পেজ রিভিউ করবে।  সবকিছু যদি তাদের পলিসি এবং গাইডলাইন অনুযায়ী ওকে থাকে তাহলে কয়েক দিন থেকে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের মধ্যে মনিটাইজেশন চালু করে দেবে।

একটি সফল ফেসবুক পেজ তৈরি ও গ্রো করার কার্যকরী কৌশল

প্রতিদিন হাজার হাজার ফেসবুক পেজ তৈরি হচ্ছে  কিন্তু প্রতিযোগিতা বেশি হওয়ায় সঠিক ভাবে গ্রোথ হচ্ছে না। অনেকে আছে যারা সঠিকভাবে ফেসবুক পেজ সেটাপ করতে না পারার কারণে মনিটাইজেশন পাচ্ছে না।  তাই একটি সফল ফেসবুক পেজ তৈরি এবং সেটি গ্রো করার জন্য সঠিক কৌশল জানা অত্যন্ত জরুরি।নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া আলোচনা করা হলো


নিশ নির্বাচন

আপনি যদি মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে ইনকাম করতে চান তাহলে নিশ বাছাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা একটা নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি ছাড়া ফেসবুক অ্যালগরিদম আপনার ভিডিও প্রমোট করতে পারবে না। তাই আপনার আগ্রহ আছে এবং গভীর জ্ঞান আছে এমন বিষয় নিজ হিসেবে বাছাই করতে হবে যেটা নিয়ে আপনি অনেক লেখালেখি করতে পারবেন। যেমন ডিজিটাল মার্কেটিং  ফ্রিল্যান্সিং অনলাইন ইনকাম বা বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও  হতে পারে আপনার জন্য দারুন একটা নিস। নিজ নির্দিষ্ট থাকলে ফেসবুক এলগরিদম সহজেই টার্গেটেড অডিয়েন্স এর কাছে ভিডিও পৌঁছাতে সহজ হয়।

 
প্রফেশনাল পেজ সেটাপ 
আপনার নিজ সিলেকশন হয়ে গেলে নিজের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মানানসই একটি নাম দিয়ে ফেসবুক পেজ খুলতে হবে এবং এসইও ফ্রেন্ডলি ইউ আর এল সেট করুন। আকর্ষণীয় লোগো এবং কভার ফটো সেট করুন এবাউট সেকশনে কিওয়ার্ড ও এসইও ফ্রেন্ডলি সুন্দর একটা ডিস্ক্রিপশন লিখুন। আপনার যদি কোন ওয়েবসাইট থাকে তাহলে সেটার লিঙ্ক এখানে যুক্ত করে দিন এতে করে উপর সাইটে ট্রাফিক  বাড়বে।

উচ্চমানের কনটেন্ট তৈরি ও এডিটিং
সব সময় বলা হয়ে থাকে কনটেন্ট ইজ কিং কনটেন্ট এর মান যদি ভাল হয় তাহলে সেটা ফেসবুকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে এবং ফেসবুকে এটাকে আরো বেশি অডিয়েন্সের কাছে প্রচার করে হলে ভিডিও দ্রুত গ্রোথ হয় এনগেজমেন্ট বাড়ে রিচ বাড়ে ভিউ বাড়ে।কখনো অন্যের ভিডিও কপি করে হুবহু আপনার পেইজে করবেন না এটা পেজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বর্তমানে রেলস ভিডিও এর এনগেজমেন্ট সবচেয়ে দ্রুত পারে। এসব ছোট ছোট রিলস ভিডিও তৈরি করতে দারুন সব ব্যবহার করা হয় আপনি যদি ভিডিও তৈরি করার জন্য মোবাইল হিসেবে ব্যবহার করেন তাহলে এডিট করার জন্য ক্যাপকাট এবং ভিএন হতে পারে দারুন একটা উপায় । আর আপনার যদি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থাকে তাহলে প্রফেশনাল অডিও তৈরি করার জন্য অডাসিটি বেস্ট কাজ করে।
ভিডিওর স্ক্রিপ্ট সাজানোর জন্য বা নতুন নতুন আইডিয়া জেনারেল করার জন্য এআইয়ের সাহায্য নিতে পারেন এতে কাজের গতি ওমান দুটোই  বৃদ্ধি পাবে। 


ধারাবাহিকতা বজায় রাখা 

ফেসবুক পেজে সফল হতে হলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ভিডিও আপলোড করলেন ৭ দিন আপনার কোন খোঁজ নাই এরকম করলে আপনার পেজ তো গ্রোথ হবেই না বরং facebook আপনার পেজকে রিচ ডাউন করে দেবে সুতরাং ভিডিও আপলোড করার পূর্বে আপনি শিডিউল তৈরি করে রাখেন সপ্তাহে বাদিনে কয়টা করে ভিডিও আপলোড করবেন এবং যখন আপলোড করবেন তখন নির্দিষ্ট একটা সময়ই আপলোড করবেন এতে ফেসবুক ফেসবুক এলগরিদম আপনার পেজকে প্রমোট করে দেবে 

অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট বৃদ্ধি 

ফেসবুক পেজ গ্রোথ করার জন্য আরেকটি দারুন উপায় হচ্ছে অডিয়েন্স এংগেজমেন্ট বৃদ্ধি করা অর্থাৎ দর্শকদের সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখা তাদের কমেন্টে রিপ্লাই দেয়া এবং মাঝে মাঝে লাইভে এসে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন এবং তাদের কমেন্ট বা মতামত জানতে চেয়ে poll তৈরি করতে পারেন। এতে করে দর্শকদের আস্থা বাড়ে। 

ফেসবুক থেকে পেজে সাধারণত কত টাকা আয় হতে পারে? 

ফেসবুক থেকে কত টাকা ইনকাম করা যায় এটা নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না কারণ কনটেন্ট মাসে ইনকাম করতে পারে আবার ১০ লাখ টাকা ও ইনকাম করতে পারে এটা ডিপেন্ড করে অনেকগুলো বিষয়ের উপর। 

ভিডিও বিষয়বস্তু 

কনটেন্টের ভিডিওর নিস অনুযায়ী ইনকামের কমবেশি হতে পারে যেমন ফানি বা প্রাঙ্ক ভিডিওর জন্য ইনকাম তুলনামূলক কম হয় আবার ডিজিটাল মার্কেটিং এসইও এসব বিষয় নিয়ে কেউ যদি কনটেন্ট তৈরি করে সেগুলোর ইনকাম একটু বেশি হয়। সুতরাং সব কনটেন্ট এর জন্য ইনকাম সমান হয় না। 


দর্শকদের ভৌগোলিক অবস্থান 

বিষয়বস্তু যাই হোক তবে কনটেন্টের ইনকামের তারতম্য হয় ভিডিওটি আসলে থেকে দেখছে তার ওপর কে দেখছে এটা কোন মুখ্য বিষয় না। যেমন বাংলাদেশ পাকিস্তান এই সব দেশ থেকে যদি ভিডিওর ভিউ আসে তাহলে ইনকাম তুলনামূলকভাবে কম আসবে পক্ষান্তরে একই ভিডিও যদি ইউরোপ আমেরিকা কানাডা এসব দেশ থেকে ভিউ হয় তাহলে ইনকাম পাঁচ থেকে দশগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। 


বিজ্ঞাপনের ধরন 

ইন-স্ট্রিম অ্যাড ছাড়াও ফেসবুকে লাইভ অ্যাড, রিলস প্লে বোনাস এবং ফ্যান সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে আয় করা যায়। পেজ যত বেশি এনগেজিং হবে, ফেসবুক তত বেশি প্রিমিয়াম বিজ্ঞাপন আপনার ভিডিওতে শো করবে।


স্পন্সরশিপ এবং ব্র্যান্ড কোলাবোরেশন

ফেসবুক পেজের যখন বিশ্বস্ততা তৈরি হয় পেজের প্রতি যখন মানুষের আস্থা তৈরি হয় তখন শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন স্পন্সর  ব্যান্ডের জন্য বিভিন্ন ব্র‍্যান্ড  কোম্পানি  পেজের মালিককে মোটা অংকের টাকা দিয়ে থাকে এখান থেকেও দারুন একটা ইনকাম হয়। 

সুতরাং ফেসবুক পেজ থেকে ইনকামের কোন লিমিট নাই অবস্থা এবং পরিস্থিতি বুঝে এন ইনকাম মান যত ভালো ইনকাম তত বেশি হওয়ার সম্ভাবনা আছে 

নতুনদের কিছু সাধারণ ভুল ও সতর্কতা 

ফেসবুক পেজ থেকে ইনকাম করা খুব বেশি জটিল না আবার একেবারে সহজ ও না কিছু বিষয় মেইনটেইন না করলে আপনার স্বপ্নের গড়া ফেসবুক পেজ নিমিষেই ডিজেবল হয়ে যেতে পারে তাই একটু সতর্কতা থাকা ভালো। সতর্ক থাকতে হবে এখন আলোচনা করব। 


অন্যের কনটেন্ট ব্যবহার করা 

কখনো কোনভাবেই অন্যের কনটেন্ট নিজের নামে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন এটি ধ্বংসের মূল ফেসবুক অ্যালগরিদম এ ধরনের পেচ কে সহজে মনিটাইজেশন দিতে চায় না বাদ দিলেও যেকোনো সময়  রেস্ট্রিকশন আসতে পারে। অনেকে আছে যারা ইউটিউব টিকটক থেকে ভিডিও ডাউনলোড করে এগুলো নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করে দেয় লিমিটেড অরিজিনালিটি অফ কন্টেন্ট' পলিসির চরম লঙ্ঘন।

তাই এই বিষয়ে সতর্কতা থাকতে হবে অবশ্যই নিজের কনটেন্ট নিজের ভয়েস ও নিজের চেহারা দেখিয়ে কনটেন্ট তৈরি করতে হবে এটা সব চাইতে সুরক্ষিত একটা উপায়। 

কপিরাইট মিউজিক এর ব্যবহার 

অনেকে আছে যারা ভিডিওকে আকর্ষণীয় করতে ভিন্ন কপিরাইট যুক্ত মিউজিক ব্যবহার করে থাকে। এটি একটি চরম ভুল কাজ এটি করলে পেইজে যেকোনো সময় স্ট্রাইক আসতে পারে। তাই এই ধরনের কাজ এড়িয়ে চলুন। মিউজিক ব্যবহার করতে চাইলে শুধুমাত্র ফেসবুকের অডিও লাইব্রেরিতে থেকে মিউজিক ব্যবহার করতে হবে এটা কপিরাইট মুক্ত এবং সবচাইতে নিরাপদ। 


আর্টিফিশিয়াল এনগেজমেন্ট ও স্প্যামিং

অনেকে আছে যাদের ইনকামের তাড়াহুড়া  থাকে তারা বিভিন্ন থার্ড পার্টি কাছ থেকে লাইক ফলোয়ার ওয়াচ টাইম এগুলো কিনে নেই যা পেজের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং অনেকে আছে যারা ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে বা পেজে লিংক শেয়ার করে যা ফেসবুক এটা কে স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করে। ফেসবুকের অ্যালগরিদম শক্তিশালী যা সহজেই এদিকে ধরে ফেলে এবং রিচ কমিয়ে দেয়। তাই অতিরিক্ত শেয়ারিং এবং লাইক শেয়ার কেনা থেকে বিরত থাকুন।  পেজকে অর্গানিক ভাবে গ্রোথ করার চেষ্টা করুন। 

ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গ করা

ফেসবুকে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার গাইডলাইন খুবই করা সুতরা আপনি ভিডিওতে কোন প্রকার উস্কানি মূলক কথা ভুয়া খবর গালাগালি বা এডাল্ট কোন পোস্ট বিরত থাকুন। এগুলোর কারণে পেজ রেস্ট্রিকশন হতে পারে সুতরাং কনটেন্ট আপলোড করার পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নিন ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার গাইডলাইন পরিপন্থী কিনা? 

পলিসি ইস্যু অবহেলা করা

নতুন নতুন ব্লগিং শুরু করতে গেলে ছোটখাটো দুই একটা পলিসি ইস্যু চলে আসে কিন্তু নতুনরা এগুলোকে বুঝতে না পেরে অবহেলা করে বা এড়িয়ে যায় যা পরবর্তীতে নিজের জন্য ক্ষতিকর। এর থেকে সতর্ক থাকতে হবে যখনই কোন পলিসি ইস্যু নোটিফিকেশন আসবে সাথে সাথে নোটিফিকেশন চেক করে সাপোর্ট বক্সে যোগাযোগ করে সমাধান করে নিতে হবে। 

উপসংহার 

পরিশেষে এইটুকু কথাই বলতে চাই ফেসবুক থেকে ইনকাম করতে চাইলে কোন প্রকার চালাকি বা ফেক কাজ করা যাবে না নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত নিজের কন্ঠে আপলোড করে যান এবং ওপরের নিয়ম কানুন গুলো মেনে চলুন তাহলে সফলতা আসবে ইনশাআল্লাহ 






এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url